মেহেরপুর কিসের জন্য বিখ্যাত তা বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আপনার জানা অত্যন্ত জরুরী। আপনি যদি মেহেরপুর জেলার বিখ্যাত হওয়ার কারণ গুলো জেনে না থাকেন।
তবে দুশ্চিন্তা না করে এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পডুন। কেননা এই আর্টিকেলে আমরা মেহেরপুর জেলার সম্পর্কে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, বিখ্যাত খাবার ও দর্শনীয় স্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।
মেহেরপুর জেলার ইতিহাস?
১৮৫৭ সালে মেহেরপুর মহাকুমা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন অবিভক্ত নদীয়ার মহাকুমা ছিলো মোট পাঁচটি। যেমনঃ রানাঘাট, কৃষ্ণনগর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাংগা এবং মেহেরপুর। মহাকুমা হিসেবে মেহেরপুর প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর এখানে ৫টি থানা অন্তভূর্ক্ত করা হয়।
যেমনঃ করিমপুর, তেহট্ট, গাংনী চাপড়া ও মেহেরপুর সদর। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময়ে করিমপুর, চাপড়া ও তেহট্ট ভারতে অন্তর্ভুক্ত হয়। শুধুমাত্র গাংনী ও মেহেরপুর সদর নিয়ে মেহেরপুর মহাকুমা গঠিত হয়। এরপর বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৮৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মেহেরপুর পূর্ণাঙ্গ জেলার মর্যাদা লাভ করে।
মেহেরপুর জেলার ভৌগোলিক অবস্থান?
বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে মেহেরপুর জেলা অন্যতম। দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা বিভাগের একটি জেলা হচ্ছে মেহেরপুর। মেহেরপুর জেলার উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও কুষ্টিয়া জেলা, দক্ষিণে চুয়াডাঙ্গা জেলা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, পূর্বে চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলা এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য অবস্থিত। মেহেরপুর জেলার মোট আয়তন হচ্ছে ৭১৬.০৮ বর্গ কিলোমিটার।
আরও পড়ুনঃ জামালপুর জেলার ইতিহাস | জামালপুর কিসের জন্য বিখ্যাত
মেহেরপুর জেলার নামকরণ?
মেহেরপুর জেলার নামকরণ নিয়ে বহু মতবাদ রয়েছে। জানা গেছে ষোড়শ শতকের ইসলাম ধর্ম প্রচারক দরবেশ মেহের আলী তার নামানুসারে মেহেরপুর নামকরণ করা হয়।
আরেকটি তথ্য থেকে জানা গেছে পূর্ববঙ্গ রেলওয়ের বাংলায় ভ্রমণ গ্রন্থে বিখ্যাত বচনকার মিহির ও তাঁর নিজের পুত্রবধু খনা ভৈরব নদীর তীরস্থ এ অঞ্চলে বাস করতেন। ধারণা করা হয, তার নামানুসারে প্রথমে মিহিরপুর এবং পরবর্তীতে অপভ্রংশে মেহেরপুর নামকরণ করা হয়
মেহেরপুর জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত?
মেহেরপুর তার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের জন্য বিখ্যাত। এছাড়াও জেলায় বেশ কিছু বিখ্যাত ব্যক্তি এবং দর্শনীয় স্থান রয়েছে। যেগুলো মেহেরপুর জেলাকে বিখ্যাত করতে ভূমিকা পালন করে। তাই আসুন আমরা আগে মেহেরপুরের দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জেনে আসি।
মেহেরপুর জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ?
গোসাইডুবি মসজিদ
এটি ১৭ শতকের একটি ঐতিহাসিক মসজিদ যা করমদীতে অবস্থিত। মসজিদটি তার সুন্দর স্থাপত্য শৈলীর জন্য এবং এর জটিল টাইলওয়ার্কের জন্য পরিচিত।
মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ
এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের জন্য একটি অন্যতম যাদুঘর। জাদুঘরটি মুজিবনগরে অবস্থিত এবং এতে যুদ্ধ সম্পর্কিত বিভিন্ন ছবি, নথি এবং নিদর্শনগুলোর সংগ্রহ রয়েছে।
আমঝুপি নীল কুঠি
এটি ১৯ শতকের একটি নির্মাণ শৈলী যা আমঝুপিতে অবস্থিত। প্রাসাদটি তার সুন্দর স্থাপত্য এবং প্রাচীন জিনিসের বিশাল সংগ্রহের জন্য বিখ্যাত।
মেহেরপুর পৌরা কবরস্থান
এটি একটি কবরস্থান যা মেহেরপুর জেলায় অবস্থিত। কবরস্থানটি কবি কাজী নজরুল ইসলাম সহ দেশের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের শেষ বিশ্রামস্থল।
ভাটপাড়া নীলকুঠি এবং ইকো পার্ক
এটি ১৯ শতকের একটি প্রাসাদ যা ইকো পার্কে রূপান্তর করা হয়েছে। এই উদ্যানটিতে বিভিন্ন ধরণের গাছপালা ও প্রাণীর পাশাপাশি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক আকর্ষণ রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ নোয়াখালী জেলার ইতিহাস | নোয়াখালী কিসের জন্য বিখ্যাত
মেহেরপুর জেলার বিখ্যাত খাবার?
রসগোল্লা
রসগোল্লার কথা শুনেই জিভে জল আসলো! আপনারা এখানকার রসগোল্লার গন্ধ এবং স্বাদের কথা শুনলে অবাক হয়ে যাবেন। মেহেরপুর জেলার স্থানীয় কারিগররা এই রসগোল্লা দীর্ঘ সময় নিয়ে তৈরি করে। যা খেতে অতুলনীয় স্বাদ এবং মনে হয় যেন অমৃত খেলাম।
ক্ষীরসা
মেহেরপুর জেলার একটি জনপ্রিয় খাবার হচ্ছে ক্ষীরসা। এটি দুধ, চিনি ও চাল একত্রে করে তৈরি করা হয়। মেহেরপুরে জেলায় বিশেষ অনুষ্ঠান বা উৎসবে এই খাবারটি পরিবেশন করা হয়ে থাকে।
তালের পিঠা
তালের রস থেকে তৈরি এই পিঠা মেহেরপুরে খুবই জনপ্রিয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে এটি তৈরি করার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। গ্রাম কিংবা শহর সবখানে এই পিঠার চাহিদা ব্যাপক।
মিষ্টি পোলাও
মেহেরপুরের যেকোন উৎসব অনুষ্ঠানে মিষ্টি পোলাও একটি পরিচিত খাবার। এটি সুগন্ধি চাল, ঘি এবং চিনি দিয়ে তৈরি করা হয়ে থাকে।
চুষি পিঠা
এটি চালের গুঁড়া দিয়ে তৈরি এক ধরণের পিঠা। যা খেজুরের রসের মধ্যে ডুবিয়ে খাওয়া হয়ে থাকে। শীতকালে খেজুরের রস সত্যিকার অর্থেই অনেক সুস্বাদু হয়ে থাকে। আর এই পিঠাও শীতকাল আসলে তৈরির ধুম পড়ে যায়।
মেহেরপুর জেলার বিখ্যাত ব্যক্তি?
স্বামী নিগমানন্দ
স্বামী নিগমানন্দ একজন ধর্মসংস্কারক, যিনি আধ্যাত্মিক জ্ঞান ও সাধনার জন্য পরিচিত। তিনি ১৮ আগস্ট ১৮১৮ সালে মেহেরপুরে জন্মগ্রহণ করেন। এবং ২৯ নভেম্বর ১৯৩৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
দীনেন্দ্রকুমার রায়
তিনি বাংলাদেশের একজন লেখক, সম্পাদক ও অনুবাদ ছিলেন। তিনি ২৬ আগস্ট ১৮৬৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। এবং ৭ই জুন ১৯৪৩ সালের মৃত্যু বরণ করেন।
ইমরুল কায়েস
ইমরুল কায়েস বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের একজন অন্যতম সদস্য। তিনি তার মারমুখী ব্যাটিং এর কারণে পরিচিত।
এম. এ. হান্নান
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য তিনি স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। তিনি ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৩০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। এবং ১১ জুন ১৯৭৪ সালের ফেনী জেলায় মৃত্যুবরণ করেন।
রফিকুর রশীদ
রফিকুর রশীদ একজন বাংলাদেশী ঔপন্যাসিক ও ছোট গল্পকার ছিলেন। তিনি তার কর্ম জীবনে অগ্রনী ব্যাংক শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কারসহ একাধিক পুরস্কার লাভ করেন।
আরও পড়ুনঃ দিনাজপুর জেলার ইতিহাস | দিনাজপুর কিসের জন্য বিখ্যাত
মেহেরপুর জেলার আয়তন কত?
মেহেরপুর জেলার মোট আয়তন হচ্ছে ৭১৬.০৮ বর্গ কিলোমিটার। এবং মোট জনসংখ্যা হচ্ছে ৭,৫৩,০৫৬ জন।
মেহেরপুর জেলার উপজেলা কয়টি?
মেহেরপুর জেলায় মোট উপজেলা রয়েছে ৩টি। যেমনঃ
- মেহেরপুর সদর
- গাংনী
- মুজিবনগর
শেষ কথা
বাংলাদেশ সৌন্দর্যের এক অপরূপ উদাহরণ। এখানে ৬৪ জেলার মধ্যে সৌন্দর্যের দিক থেকে কোন জেলা এগিয়ে আবার কোন জেলা তুলনামূলক কম জনপ্রিয় রয়েছে।
এসব কিন্তু নির্ভর করে ব্যক্তি মনের চাহিদা এবং সেই জেলার সার্বিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে। এছাড়াও আপনার জ্ঞানকে প্রসারিত করতে যশোর কিসের জন্য বিখ্যাত এ সম্পর্কে পড়তে পারেন।
মেহেরপুর জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত তা হয়তো এতক্ষণে স্পষ্টরূপে বুঝে গেছেন। আপনাদের কোন প্রশ্ন থাকলে দয়া করে কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন। সকলের সুস্বাস্থ্য কামণা করে আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ্ হাফেজ



