কুষ্টিয়া জেলার ইতিহাস | কুষ্টিয়া কিসের জন্য বিখ্যাত

কুষ্টিয়া কিসের জন্য বিখ্যাত তা বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আপনার জানা অত্যন্ত জরুরী। আপনি যদি কুষ্টিয়া জেলার বিখ্যাত হওয়ার কারণ গুলো জেনে না থাকেন।কুষ্টিয়া জেলাতবে দুশ্চিন্তা না করে এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পডুন। কেননা এই আর্টিকেলে আমরা কুষ্টিয়া জেলার সম্পর্কে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, বিখ্যাত খাবার ও দর্শনীয় স্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

কুষ্টিয়া জেলার ইতিহাস?

ব্রিটিশ শাসন আমলে কুষ্টিয়া অবিভক্ত ভারতের নদীয়া জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়াও পাবনা জেলার মহকুমা ও থানা হিসেবেও রাজশাহী বিভাগের অন্তর্ভুক্ত ছিল এই কুষ্টিয়া। কোম্পানি আমলেও কুষ্টিয়া অঞ্চলটি যশোর জেলার অধীনে ছিল। ১৮৬৯ সালে কুষ্টিয়াতে একটি পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময় কুষ্টিয়া জেলার অভ্যুদয় ঘটে। তখন কুষ্টিয়া জেলা তিনটি মহকুমা নিয়ে গঠিত ছিল। এগুলো হলো কুষ্টিয়া, মেহেরপুর এবং চুয়াডাঙ্গা। এরপর ১৯৮৪ সালে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর আলাদা জেলা হিসেবে পৃথক হলে কুষ্টিয়া মহকুমার ছয়টি থানা নিয়ে বর্তমান কুষ্টিয়া জেলা গঠিত হয়।

কুষ্টিয়া জেলার ভৌগোলিক অবস্থান?

বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে কুষ্টিয়া জেলা অন্যতম। দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা বিভাগের একটি জেলা হচ্ছে কুষ্টিয়া। কুষ্টিয়া জেলার উত্তরে রাজশাহী, নাটোর ও পাবনা জেলা দক্ষিণে চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ জেলা পূর্বে রাজবাড়ী জেলা এবং পশ্চিমে ভারতের নদীর ও মুর্শিদাবাদ জেলা অবস্থিত। কুষ্টিয়া জেলার মোট আয়তন হচ্ছে ১,৬০৮.৮০ বর্গ কিলোমিটার।

আরও পড়ুনঃ বরগুনা জেলার ইতিহাস | বরগুনা কিসের জন্য বিখ্যাত

কুষ্টিয়া জেলার নামকরণ?

এক তথ্য সূত্র থেকে জানা গেছে যে কুষ্টিয়াতে এক সময় অনেক বেশি পাট উৎপাদিত হতো। আর এ পাটকে কুষ্টিয়ার স্থানীয় ভাষায় কুষ্টি বা কোষ্টা বলা হতো। যার থেকে আসলে কুষ্টিয়া নামটি এসেছে।

আবার কারো মতে ফার্সি ভাষার শব্দ কুশতহ থেকে কুষ্টিয়ার নামকরণ হয়েছে যার অর্থ ছাই দ্বীপ। অন্য আরেকটি তথ্য মতে ৫ম মুঘল সম্রাট শাহ জাহানের সময় কুষ্টি বন্দরকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া শহরের উৎপত্তি হয়। ধারণা করা হয়, এর থেকে কুষ্টিয়া নামকরণ হয়েছে।

কুষ্টিয়া জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত?

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত কুষ্টিয়া জেলা সাংস্কৃতিক ইতিহাস ও ঐতিহ্যের জন্য বিখ্যাত। জেলায় বেশ কিছু বিখ্যাত ব্যক্তি এবং দর্শনীয় স্থান রয়েছে। যেগুলো কুষ্টিয়া জেলাকে বিখ্যাত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই আসুন আমরা আগে কুষ্টিয়া জেলার দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জেনে আসি।

কুষ্টিয়া জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ?

লালন শাহ সেতু

লালন শাহ সেতু কুষ্টিয়া জেলার গড়াই নদীর উপরে নির্মিত একটি ঝুলন্ত সেতু। আর এই ঝুলন্ত সেতুটি ২০১৩ সালে নির্মিত হয়েছিল। এবং সেতুটির নামকরণ করা হয়েছে লালন ফকিরের নামানুসারে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিলাইদহ কুঠিবাড়ি

একটা সময় এটি বিখ্যাত বাঙালি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাসভবন ছিল। ঐতিহাসিক এই বাড়িটি বর্তমানে কুষ্টিয়া শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে শিলাইদহ গ্রামে অবস্থিত।

ঝাউদিয়া মসজিদ

এটি ১৭ শতকের মুঘল স্থাপত্যশৈলীর এক চমৎকার নিদর্শন। এটি কুষ্টিয়া শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ঝাউদিয়া গ্রামে অবস্থিত।

ঠাকুর লজ

এটি বাঙালি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রাক্তন বাসভবন। এই বাসভবনটি কুষ্টিয়া শহরে অবস্থিত।

লালন একাডেমী এবং মাজার

এই মাজারটি ১৯ শতকের মরমী কবি ও সমাজ সংস্কারক লালন ফকিরের। ১৯ শতকের ঐতিহাসিক এই মাজারটি কুষ্টিয়া শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত।

আরও পড়ুনঃ কুমিল্লা জেলার ইতিহাস | কুমিল্লা কিসের জন্য বিখ্যাত

কুষ্টিয়া জেলার বিখ্যাত খাবার?

রসমালাই

এটি একটি জনপ্রিয় মিষ্টি যা কুষ্টিয়ার স্থানীয় বিভিন্ন উপায়ে তৈরি করা হয়। এটি দেখতে যেমন রসালো, এটির স্বাদও তেমনি অতুলনীয়। যারা মিষ্টি পছন্দ করে থাকেন তারা এটি একবার খেলে জীবনেও ভূলবেন না।

তিলের খাজা

কুষ্টিয়া জেলার একটি বিখ্যাত খাবার হচ্ছে তিলের খাজা। এটি মূলত এক ধরণের শুকনো মিষ্টান্ন। যা চিনি, তিল এবং বিভিন্ন উপকরণ মিশিয়ে তৈরি করা হয়।

সেমাই পিঠা

সেমাই পিঠা হচ্ছে কুষ্টিয়ার অন্যতম একটি বিখ্যাত খাবার। এই জনপ্রিয় খাবারটি মূলত চালের গুঁড়া, ঘি এবং চিনি দিয়ে তৈরি করা হয়। আপনারা যদি কখন খুলনায় ভ্রমণ করেন। তাহলে অবশ্যই সেমাই পিঠা একবার হলেও খেয়ে দেখবেন।

আমের আচার

কুষ্টিয়া জেলার জনপ্রিয় একটি খাবার হচ্ছে টক মসলাদার যুক্ত আমের আচার। এ জেলায় আমের মৌসুম আসলেই এই আচার তৈরির ধুম পড়ে যায়। আহ্ কি যে স্বাদ, এই আমের আচারের, ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না।

ছানার মিষ্টি

কুষ্টিয়ার ছানার তৈরি মিষ্টি সারা বাংলাদেশে বিখ্যাত। দুধ থেকে ছানা তৈরি করে এই মিষ্টি তৈরি করা হয়ে থাকে।

কুষ্টিয়া জেলার বিখ্যাত ব্যক্তি?

কাজী নজরুল ইসলাম

তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বিশিষ্ট কবি এবং সঙ্গীতজ্ঞ, যাকে বিদ্রোহী কবি বলা হয়। তিনি ২৪ মে ১৮৯৯ সালে চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এবং ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

লালন

লালন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। তিনি ফকির লালন, লালন সাঁই এবং লালন শাহ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি ১৭ অক্টোবর ১৭৭৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। এবং ১৭ অক্টোবর ১৮৯০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

মীর মশাররফ হোসেন

তিনি একজন বাঙালি ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক ছিলেন। তিনি ১৮৪৭ সালের কুষ্টিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। এবং ১৯ ডিসেম্বর ১৯১২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়

তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি ইতিহাসবেত্তা ও সমাজকর্মী ছিলেন। তিনি ১ মার্চ ১৮৬১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। এবং ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৩০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

এনামুল হক বিজয়

এনামুল হক বিজয় একজন বাংলাদেশী ক্রিকেটার। ২০১২ সালের ২৩ শে নভেম্বর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তার অভিষেক হয়।

আরও পড়ুনঃ দিনাজপুর জেলার ইতিহাস | দিনাজপুর কিসের জন্য বিখ্যাত

কুষ্টিয়া জেলার আয়তন কত?

কুষ্টিয়া জেলার মোট আয়তন হলো ১,৬০৮.৮০ বর্গ কিলোমিটার। এবং এ জেলার মোট জনসংখ্যা হচ্ছে ২১,৪৯,৬৯২ জন।

কুষ্টিয়া জেলার উপজেলা কয়টি?

কুষ্টিয়া জেলায় মোট উপজেলা রয়েছে ৯টি। যেমনঃ

  • কুষ্টিয়া সদর
  • খোকসা
  • দৌলতপুর
  • কুমারখালী
  • ভেড়ামারা
  • মেহেরপুর
  • মিরপুর
  • চুড়িহারা
  • কুমারখালী

শেষ কথা

বাংলাদেশ সৌন্দর্যের এক অপরূপ উদাহরণ। এখানে ৬৪ জেলার মধ্যে সৌন্দর্যের দিক থেকে কোন জেলা এগিয়ে আবার কোন জেলা তুলনামূলক কম জনপ্রিয় রয়েছে।

এসব কিন্তু নির্ভর করে ব্যক্তি মনের চাহিদা এবং সেই জেলার সার্বিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে। এছাড়াও আপনার জ্ঞানকে প্রসারিত করতে চুয়াডাঙ্গা কিসের জন্য বিখ্যাত এ সম্পর্কে পড়তে পারেন।

কুষ্টিয়া জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত তা হয়তো এতক্ষণে স্পষ্টরূপে বুঝে গেছেন। আপনাদের কোন প্রশ্ন থাকলে দয়া করে কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন। সকলের সুস্বাস্থ্য কামণা করে আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ্ হাফেজ

Share Now

This website is mainly created to provide information about travel, travel packages, travel agencies, travel visas, travel Bangladesh, and your travel to Bangladesh. We will always try to give you accurate information.

Leave a Comment