কুড়িগ্রাম জেলা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী জেলা। এই জেলা ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, রাজনীতি, সাহিত্য, শিক্ষা, ক্রীড়া ও সমাজসেবায় অসংখ্য গুণী ও বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের জন্মস্থান।
কুড়িগ্রামের রাজনীতিবিদ, মুক্তিযোদ্ধা, সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী ও নারী নেতৃবৃন্দ দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
এই ব্লগে কুড়িগ্রামের সেই সব প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জীবনী, অবদান ও পরিচয় সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়েছে, যা শিক্ষার্থী, গবেষক এবং সাধারণ পাঠকদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র হিসেবে কাজ করবে।
কুড়িগ্রাম জেলার বিখ্যাত ব্যক্তি?
নিচে কুড়িগ্রাম জেলার বিখ্যাত ব্যক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলোঃ
১. কানাই লাল সরকার — রাজনীতিবিদ
কানাই লাল সরকার (১৯২৫–১৯৮০) ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলার একজন প্রথিতযশা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য।
পাকিস্তান আমলে যখন পূর্ব বাংলার জনগণ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছিল, তখন কানাই লাল সরকার প্রাদেশিক পরিষদে কুড়িগ্রাম অঞ্চলের মানুষের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেন।
গ্রামীণ উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার ও প্রশাসনিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁর বক্তব্য স্থানীয় রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তিনি কুড়িগ্রামের রাজনীতিতে সচেতনতা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নেতৃত্ব গঠনে প্রেরণা জোগান।
২. শামসুল হক চৌধুরী — মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিবিদ
শামসুল হক চৌধুরী ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলার একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা ও সক্রিয় রাজনীতিবিদ। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সংগঠক ও যোদ্ধা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
যুদ্ধকালীন সময়ে স্থানীয় জনগণকে সংগঠিত করা, মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা এবং পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাধীনতার পর তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে কাজ করেন। কুড়িগ্রামের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর নাম মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে স্মরণীয়।
৩. আমজাদ হোসেন তালুকদার — মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সাবেক সংসদ সদস্য
আমজাদ হোসেন তালুকদার কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য এবং মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা, মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয় এবং জনমত তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
স্বাধীনতার পর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি শিক্ষা, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে মনোযোগ দেন। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ও নদীবিধৌত এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তাঁর অবদান কুড়িগ্রামের উন্নয়ন ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য।
৪. রোকনদ্দৌলা মন্ডল — চতুর্থ জাতীয় সংসদ সদস্য
রোকনদ্দৌলা মন্ডল ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলার একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং চতুর্থ জাতীয় সংসদের সদস্য। তিনি জাতীয় সংসদে কুড়িগ্রামের কৃষি, নদীভাঙন, দারিদ্র্য ও অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো তুলে ধরেন।
তাঁর সংসদীয় কার্যক্রম কুড়িগ্রামের উন্নয়ন পরিকল্পনায় ভূমিকা রাখে। রাজনৈতিক শালীনতা ও জনস্বার্থকেন্দ্রিক চিন্তাধারার জন্য তিনি স্থানীয়ভাবে সম্মানিত ছিলেন।
৫. গোলাম হোসেন — পঞ্চম ও সপ্তম জাতীয় সংসদ সদস্য
গোলাম হোসেন কুড়িগ্রাম জেলার রাজনীতিতে একজন পরিচিত ও প্রভাবশালী নাম। তিনি পঞ্চম ও সপ্তম জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সংসদে তিনি সীমান্তবর্তী এলাকার সমস্যা, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের দাবি এবং স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পের পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখেন।
দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি কুড়িগ্রামের রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেন।
৬. আমজাদ হোসেন সরকার — অষ্টম জাতীয় সংসদ সদস্য
আমজাদ হোসেন সরকার (১৯৫৮–২০২১) ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলার একজন জনপ্রিয় সংসদ সদস্য। অষ্টম জাতীয় সংসদে দায়িত্ব পালনকালে তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন, সড়ক যোগাযোগ ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে গুরুত্ব দেন।
সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে রাজনীতি করায় তিনি এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর মৃত্যু কুড়িগ্রামের রাজনীতিতে একটি শূন্যতা তৈরি করে।
৭. আহমেদ নাজমীন সুলতানা — নবম জাতীয় সংসদ সদস্য
আহমেদ নাজমীন সুলতানা কুড়িগ্রাম জেলার নারী নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। তিনি নবম জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সংসদে তিনি নারী অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। কুড়িগ্রামের মতো প্রত্যন্ত জেলার একজন নারী সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর ভূমিকা নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণামূলক।
৮. আককাছ আলী সরকার — চিকিৎসক, শিল্পপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য
আককাছ আলী সরকার ছিলেন একজন খ্যাতিমান চিকিৎসক, শিল্পপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য (কুড়িগ্রাম-৩)। তিনি রংপুরের প্রাইম মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাইম গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে স্বাস্থ্যখাতে বিপুল অবদান রাখেন।
রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে বিনিয়োগ করে তিনি উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর বহুমাত্রিক অবদান কুড়িগ্রাম জেলার গর্ব।
৯. মতিউর রহমান — অষ্টম জাতীয় সংসদ সদস্য
মতিউর রহমান কুড়িগ্রাম জেলার একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ এবং অষ্টম জাতীয় সংসদের সদস্য। তিনি সংসদে স্থানীয় উন্নয়ন, কৃষি, যোগাযোগ ও দারিদ্র্য বিমোচন ইস্যুতে সক্রিয় ছিলেন।
তৃণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক সংগঠন শক্তিশালী করা এবং জনগণের সমস্যা জাতীয় পর্যায়ে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
১০. আছলাম হোসেন সওদাগর — একাদশ জাতীয় সংসদ সদস্য
আছলাম হোসেন সওদাগর (জন্ম ১৯৬৬) কুড়িগ্রাম জেলার একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য।
সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নদীভাঙন প্রতিরোধ, চরাঞ্চলের উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
সীমান্তবর্তী কুড়িগ্রামের দীর্ঘদিনের অবহেলিত সমস্যাগুলো জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
১১. এম এ মতিন — একাদশ জাতীয় সংসদ সদস্য
এম এ মতিন কুড়িগ্রাম জেলার রাজনীতিতে একটি পরিচিত নাম। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি।
স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে রাজনীতি করায় তিনি একজন গণমুখী প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত।
১২. এ কে এম মাইদুল ইসলাম — সাবেক মন্ত্রী, শিল্পপতি
এ কে এম মাইদুল ইসলাম (১৯৪৩–২০১৮) কুড়িগ্রাম জেলার অন্যতম প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও শিল্পোদ্যোগী। তিনি সাবেক মন্ত্রী এবং কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন।
একই সঙ্গে তিনি কাসেম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। শিল্প, ব্যবসা ও রাজনীতির সমন্বয়ে তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
১৩. গোলাম হাবিব দুলাল — সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ও সংসদ সদস্য
গোলাম হাবিব দুলাল (জন্ম ১৯৪৩) একজন ব্যতিক্রমধর্মী ব্যক্তিত্ব যিনি একাধারে উচ্চপদস্থ আমলা, রাজনীতিবিদ ও সংসদ সদস্য (কুড়িগ্রাম-৪)।
তিনি সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক হিসেবে পরিবেশ ও বন সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। পরে রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন এবং দলীয় নেতৃত্বেও সক্রিয় ছিলেন।
১৪. তাজুল ইসলাম চৌধুরী — সাবেক মন্ত্রী ও চিফ হুইপ
তাজুল ইসলাম চৌধুরী (১৯৪৪–২০১৮) কুড়িগ্রাম-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী। তিনি জাতীয় সংসদের হুইপ ও চিফ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সংসদীয় শৃঙ্খলা রক্ষা, আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া পরিচালনা এবং সরকারের নীতি বাস্তবায়নে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুড়িগ্রামের রাজনীতিতে তিনি একজন অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
১৫. অবদুল বারী সরকার — ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ সদস্য
অবদুল বারী সরকার ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলার একজন দায়িত্বশীল সংসদ সদস্য। ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে দায়িত্ব পালনকালে তিনি কৃষি উন্নয়ন, স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব দেন।
সাধারণ মানুষের সমস্যা সংসদে উপস্থাপন করাই ছিল তাঁর রাজনৈতিক জীবনের মূল লক্ষ্য।
১৬. মোহাম্মদ সাদাকাত হোসেন — প্রথম জাতীয় সংসদ সদস্য
মোহাম্মদ সাদাকাত হোসেন কুড়িগ্রাম জেলার ইতিহাসে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন।
যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠন, প্রশাসনিক কাঠামো দাঁড় করানো এবং সংবিধান প্রণয়নের সময় তাঁর ভূমিকা কুড়িগ্রামের রাজনৈতিক ইতিহাসে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।
১৭. নাজিমুদ্দৌলা — তৃতীয় জাতীয় সংসদ সদস্য
নাজিমুদ্দৌলা ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলার একজন প্রভাবশালী সংসদ সদস্য। তৃতীয় জাতীয় সংসদে দায়িত্ব পালনকালে তিনি আইন প্রণয়ন, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং আঞ্চলিক সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখেন।
তাঁর সংসদীয় অবদান কুড়িগ্রামের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
১৮. মোহাম্মদ সিরাজুল হক — দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ সদস্য
মোহাম্মদ সিরাজুল হক ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলার দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের সদস্য। স্বাধীনতার পরবর্তী অস্থির সময়ে তিনি সংসদে দায়িত্ব পালন করে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা
ও উন্নয়ন ভাবনা এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখেন। তাঁর সময়কাল কুড়িগ্রামের প্রাথমিক রাজনৈতিক কাঠামো গঠনে সহায়ক ছিল।
১৯. মো. উমর ফারুক — ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ সদস্য
মো. উমর ফারুক কুড়িগ্রাম জেলার একজন পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং ষষ্ঠ জাতীয় সংসদের সদস্য। সংসদে দায়িত্ব পালনকালে তিনি কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্ব দেন।
নদীভাঙন ও চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে তিনি জাতীয় পর্যায়ে কথা বলেন। জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত রাজনীতির কারণে তিনি এলাকায় জনপ্রিয় ছিলেন।
২০. সাইফুর রহমান রানা — ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ সদস্য
সাইফুর রহমান রানা কুড়িগ্রাম জেলার রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। তিনি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষা বিস্তার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন। সংসদে কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকার সমস্যা তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি সক্রিয় ছিলেন।
২১. সহিদুল ইসলাম — চতুর্থ ও পঞ্চম জাতীয় সংসদ সদস্য
সহিদুল ইসলাম কুড়িগ্রাম জেলার একজন অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি চতুর্থ ও পঞ্চম জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন।
ধারাবাহিকভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় তিনি এলাকার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনায় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক ও সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নে তাঁর অবদান স্থানীয়ভাবে স্বীকৃত।
২২. শাহানাজ সরদার — সপ্তম জাতীয় সংসদ সদস্য
শাহানাজ সরদার কুড়িগ্রাম জেলার নারী রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। তিনি সপ্তম জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সংসদে নারী অধিকার, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনায় তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
একজন নারী সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর ভূমিকা কুড়িগ্রামের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
২৩. মোঃ জাফর আলী — নবম জাতীয় সংসদ সদস্য
মোঃ জাফর আলী কুড়িগ্রাম জেলার একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ। তিনি নবম জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। সংসদে তিনি কৃষি উন্নয়ন, সীমান্ত বাণিজ্য এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জোরদারের পক্ষে কাজ করেন।
সাধারণ মানুষের সমস্যা নিয়ে সরব থাকার কারণে তিনি এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেন।
২৪. রুহুল আমিন — দশম জাতীয় সংসদ সদস্য
রুহুল আমিন কুড়িগ্রাম জেলার দশম জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সময়কালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং যোগাযোগ অবকাঠামো সম্প্রসারণে কাজ হয়।
তিনি সংসদে কুড়িগ্রামের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে এলাকার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেন।
২৫. বিপ্লব হাসান পলাশ — দ্বাদশ জাতীয় সংসদ সদস্য
বিপ্লব হাসান পলাশ কুড়িগ্রাম জেলার বর্তমান প্রজন্মের একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা। তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য।
তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে তিনি আধুনিক উন্নয়ন ধারণা, ডিজিটাল সেবা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে জোর দেন। তাঁর নেতৃত্ব কুড়িগ্রামের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
২৬. নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরী — দশম জাতীয় সংসদ সদস্য
নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরী কুড়িগ্রাম জেলার একজন প্রভাবশালী নারী রাজনীতিবিদ। তিনি দশম জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
নারী উন্নয়ন, শিক্ষা ও সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রমে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি কুড়িগ্রামের নারী নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্বকারী এক গুরুত্বপূর্ণ নাম।
২৭. পনির উদ্দিন আহমেদ — একাদশ জাতীয় সংসদ সদস্য
পনির উদ্দিন আহমেদ কুড়িগ্রাম জেলার একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। তিনি সংসদে কৃষি, গ্রামীণ অর্থনীতি ও স্থানীয় উন্নয়ন ইস্যুতে সক্রিয় ছিলেন।
তৃণমূলভিত্তিক রাজনীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করে তিনি জেলার রাজনৈতিক ইতিহাসে স্থান করে নেন।
২৮. আব্দুর রহমান — শহীদ বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষক
আব্দুর রহমান ছিলেন রংপুরের ঐতিহ্যবাহী কারমাইকেল কলেজের রসায়ন বিভাগের একজন মেধাবী প্রভাষক এবং কুড়িগ্রাম জেলার গর্ব। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে প্রাণ উৎসর্গ করেন।
শিক্ষা ও মানবিক চেতনায় বিশ্বাসী এই শিক্ষক নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক ও দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তুলতে নিবেদিত ছিলেন। কুড়িগ্রাম জেলার বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসে তাঁর অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
২৯. আব্দুল ওয়াহাব তালুকদার — শহীদ বুদ্ধিজীবী
আব্দুল ওয়াহাব তালুকদার কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে আত্মদান করেন।
ইতিহাস শিক্ষক হিসেবে তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুক্তচিন্তা, গণতন্ত্র ও জাতীয় চেতনা জাগ্রত করতে ভূমিকা রাখেন। কুড়িগ্রামের শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান ও আত্মত্যাগ আজও অনুপ্রেরণার উৎস।
৩০. রমণীকান্ত নন্দী — শহীদ বুদ্ধিজীবী ও সমাজসেবক
রমণীকান্ত নন্দী ছিলেন একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক, সমাজসেবক এবং শহীদ বুদ্ধিজীবী।
মানবসেবাকে জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করা এই মানুষটি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মমতার শিকার হন। কুড়িগ্রামে চিকিৎসা ও সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে তাঁর অবদান ছিল অনন্য।
৩১. এ বি এম আলতাফ হোসেন — বিচারপতি ও আইনবিদ
এ. বি. এম. আলতাফ হোসেন ছিলেন একজন খ্যাতিমান আইনজীবী, সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং বিচারপতি।
বিচার বিভাগে সততা, ন্যায়বিচার ও পেশাগত দক্ষতার জন্য তিনি সুপরিচিত ছিলেন। কুড়িগ্রাম জেলার মানুষ হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে বিচার ব্যবস্থায় তাঁর অবদান জেলার জন্য গর্বের।
৩২. সুব্রত ভট্টাচার্য — মুক্তিযোদ্ধা ও নজরুল গবেষক
সুব্রত ভট্টাচার্য ছিলেন একাধারে সাহিত্য-সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব, মুক্তিযোদ্ধা এবং কাজী নজরুল ইসলাম গবেষক। মুক্তিযুদ্ধের সময় সক্রিয় ভূমিকার পাশাপাশি তিনি বাংলা সাহিত্য
ও নজরুল চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। কুড়িগ্রামের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে তাঁর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
৩৩. এস এম আব্রাহাম লিংকন — মানবাধিকার কর্মী
এস এম আব্রাহাম লিংকন একজন মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী ও সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার রক্ষায় তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে মানবাধিকার বিষয়ে তাঁর কাজ কুড়িগ্রাম জেলার সামাজিক পরিচিতি বৃদ্ধি করেছে।
৩৪. রিক্তা আক্তার বানু — সমাজকর্মী ও অনুপ্রেরণামূলক নারী
রিক্তা আক্তার বানু কুড়িগ্রাম জেলার একজন অসাধারণ নারী সমাজকর্মী। তিনি বিবিসি ১০০ নারী তালিকায় বিশ্বের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ী নারীদের একজন হিসেবে নির্বাচিত হন।
সামাজিক প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে নারীর ক্ষমতায়ন, সচেতনতা ও মানবিক উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা কুড়িগ্রামের জন্য আন্তর্জাতিক গৌরব বয়ে আনে।
৩৫. নরেন্দ্রনাথ দেব — উদ্ভাবক
নরেন্দ্রনাথ দেব ছিলেন ঢেঁকি কলের উদ্ভাবক হিসেবে পরিচিত এক প্রতিভাবান ব্যক্তি। গ্রামীণ প্রযুক্তিতে তাঁর এই উদ্ভাবন কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখে। কুড়িগ্রামের লোকজ প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী ইতিহাসে তিনি এক অনন্য নাম।
৩৬. ভবানী পাঠক — ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেতা
ভবানী পাঠক ছিলেন ব্রিটিশ শাসনবিরোধী সন্ন্যাসী আন্দোলনের অন্যতম নেতা। ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর নেতৃত্ব
ও আত্মত্যাগ কুড়িগ্রামসহ উত্তরবঙ্গের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। তিনি শোষণবিরোধী চেতনার এক প্রতীক।
৩৭. ক্ষিতীশচন্দ্র দাশগুপ্ত — স্বাধীনতা সংগ্রামী ও সমাজসেবী
ক্ষিতীশচন্দ্র দাশগুপ্ত ছিলেন একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী, সমাজসেবক এবং শিল্পোদ্যোগী ব্যক্তিত্ব। ব্রিটিশ শাসনবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি তিনি সমাজ সংস্কার ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্বনির্ভরতা গড়ে তোলার মাধ্যমে কুড়িগ্রামের সামাজিক কাঠামো শক্তিশালী করতে তাঁর অবদান স্মরণীয়।
আরও পড়ুনঃ বরিশাল জেলার সংসদীয় আসন কয়টি
৩৮. রাউফুন বসুনীয়া — স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্রনেতা
রাউফুন বসুনীয়া কুড়িগ্রাম জেলার একজন সাহসী ছাত্রনেতা ছিলেন, যিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ছাত্রসমাজকে সংগঠিত করতে তাঁর নেতৃত্ব কুড়িগ্রামের রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
৩৯. রোস্তম আলী দেওয়ান — ভাষাসৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধা
রোস্তম আলী দেওয়ান ছিলেন ভাষা আন্দোলনের একজন সাহসী ভাষাসৈনিক এবং পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ
দুটি ঐতিহাসিক আন্দোলনেই তাঁর অংশগ্রহণ কুড়িগ্রামের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে তাঁকে অনন্য করে তুলেছে।
৪০. হাবিবুর রহমান — প্রকৌশলী ও উপাচার্য
হাবিবুর রহমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এবং ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) এর ৬ষ্ঠ উপাচার্য ছিলেন।
উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও প্রকৌশল শিক্ষার মান উন্নয়নে তাঁর অবদান জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃত। কুড়িগ্রাম জেলার গর্ব হিসেবে তিনি পরিচিত।
৪১. তুহিন ওয়াদুদ — শিক্ষক, গবেষক ও পরিবেশ সংগঠক
তুহিন ওয়াদুদ (জন্ম ১৯৭৮) বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, নদী ও পরিবেশ বিষয়ক সংগঠক, গবেষক ও লেখক। তিনি নদীভাঙন, পরিবেশ সুরক্ষা
ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনসংগ্রাম নিয়ে গবেষণা করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিতি লাভ করেন। কুড়িগ্রামের নদীকেন্দ্রিক বাস্তবতা তাঁর গবেষণায় গভীরভাবে প্রতিফলিত।
৪২. ড. আব্দুস সামাদ — শিক্ষক ও গবেষক
ড. আব্দুস সামাদ ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ ও গবেষক। তিনি লিংকন বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।
ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়, গবেষণা ও মানবিক মূল্যবোধ বিস্তারে তাঁর অবদান কুড়িগ্রামের শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
৪৩. শওকত আলী সরকার — বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা
শওকত আলী সরকার কুড়িগ্রাম জেলার একজন গর্বিত বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ সাহসিকতা প্রদর্শনের জন্য তিনি ‘বীর বিক্রম’ খেতাবে ভূষিত হন। তাঁর বীরত্ব কুড়িগ্রামের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায়।
৪৪. তারামন বিবি — বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা
তারামন বিবি কুড়িগ্রাম জেলার একজন কিংবদন্তিতুল্য নারী মুক্তিযোদ্ধা। তিনি বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত হন।
নারীর সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের প্রতীক হিসেবে তাঁর নাম বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে চিরস্মরণীয়।
৪৫. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান মিয়া — বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা
মোহাম্মদ বদরুজ্জামান মিয়া কুড়িগ্রাম জেলার আরেকজন বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। সম্মুখযুদ্ধে তাঁর সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ কুড়িগ্রামের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে গৌরবান্বিত করেছে।
৪৬. সৈয়দ শামসুল হক — কবি, নাট্যকার ও সব্যসাচী লেখক
সৈয়দ শামসুল হক কুড়িগ্রাম জেলার কৃতী সন্তান এবং বাংলা সাহিত্যের এক কিংবদন্তি নাম। কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প, প্রবন্ধ সাহিত্যের প্রায় সব শাখায় তাঁর অসামান্য পদচারণার কারণে তাঁকে বাংলাদেশি সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
মুক্তিযুদ্ধ, মানবিক সংকট, প্রেম ও সমাজবাস্তবতা তাঁর সাহিত্যের মূল উপজীব্য। বাংলা সাহিত্যকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে দিতে তাঁর অবদান অপরিসীম।
৪৭. আব্দুল হাই শিকদার — কবি, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক
আব্দুল হাই শিকদার ছিলেন একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক, রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক। তাঁর লেখায় সমাজ সচেতনতা, রাজনৈতিক বাস্তবতা ও মানবিক মূল্যবোধ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
সাহিত্য ও সাংবাদিকতার মাধ্যমে তিনি কুড়িগ্রামের বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসর সমৃদ্ধ করেন।
৪৮. আনোয়ারা সৈয়দ হক — মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও কথাসাহিত্যিক
আনোয়ারা সৈয়দ হক (জন্ম ১৯৪০) একজন খ্যাতিমান মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, অধ্যাপক ও কথাসাহিত্যিক। চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি সাহিত্যে তাঁর অনন্য অবদান রয়েছে।
নারীর মনস্তত্ত্ব, সামাজিক সংকট ও মানবিক দ্বন্দ্ব তাঁর লেখার প্রধান বিষয়। কুড়িগ্রাম জেলার নারী বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে তিনি এক উজ্জ্বল নাম।
৪৯. রাধাপদ রায় — কবি ও লেখক
রাধাপদ রায় কুড়িগ্রাম জেলার একজন প্রতিভাবান কবি ও লেখক। তাঁর কবিতায় প্রকৃতি, গ্রামীণ জীবন, প্রেম ও মানবিক বোধ গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
আঞ্চলিক সাহিত্যচর্চায় তাঁর অবদান কুড়িগ্রামের সাহিত্যিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে।
৫০. নাজমুল আল হাসান — লেখক ও সংগঠক
নাজমুল আল হাসান একজন লেখক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক। তাঁর প্রকাশিত বই শিশু-কিশোর সাহিত্যে বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
তিনি রক্তিম পাঠশালা এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক এবং রক্তিম ফাউন্ডেশন এর প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন। শিশু-কিশোরদের পাঠাভ্যাস গড়ে তোলায় তাঁর অবদান কুড়িগ্রামে প্রশংসিত।
৫১. আব্বাসউদ্দীন আহমদ — সঙ্গীতশিল্পী ও সুরকার
আব্বাসউদ্দীন আহমদ বাংলা লোকসঙ্গীতের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম। ভাওয়াইয়া ও ভাটিয়ালি গানকে গ্রাম থেকে শহর এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে পৌঁছে দিতে তাঁর ভূমিকা অনন্য।
কুড়িগ্রামের লোকসংগীত ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে পরিচিত করার ক্ষেত্রে তিনি পথিকৃৎ।
৫২. কছিম উদ্দিন — ভাওয়াইয়া গানের যুবরাজ
কছিম উদ্দিন ভাওয়াইয়া গানের সবচেয়ে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পীদের একজন। ভাওয়াইয়া গানের যুবরাজ হিসেবে পরিচিত এই শিল্পী কুড়িগ্রামের লোকসংস্কৃতিকে জীবন্ত করে রেখেছেন। তাঁর কণ্ঠে গ্রামীণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও প্রেম-ব্যথা অনুপমভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
৫৩. অজিত রায় — সঙ্গীতশিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক
অজিত রায় ছিলেন সঙ্গীতশিল্পী, সুরকার এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম সংগঠক।
মুক্তিযুদ্ধকালে দেশপ্রেম জাগ্রত করতে তাঁর সঙ্গীত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কুড়িগ্রামের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে তাঁর অবদান গৌরবের সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
৫৪. ভূপতি ভূষণ বর্মা — ভাওয়াইয়া ভাস্কর
ভূপতি ভূষণ বর্মা ভাওয়াইয়া গানে অসামান্য অবদানের জন্য “ভাওয়াইয়া ভাস্কর” নামে পরিচিত। তাঁর সাধনা ও পরিবেশনা ভাওয়াইয়া গানকে শৈল্পিক উচ্চতায় নিয়ে গেছে। কুড়িগ্রামের লোকসংগীত ঐতিহ্যে তিনি এক অনন্য স্তম্ভ।
আরও পড়ুনঃ নারায়ণগঞ্জ জেলার থানা কয়টি ও কি কি
FAQs:
কুড়িগ্রাম জেলা কেন বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের জন্য পরিচিত?
উত্তর: কুড়িগ্রাম জেলা নদীবিধৌত ও সংগ্রামী জনপদ হওয়ায় এখানকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত।
ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, রাজনীতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে এই জেলার মানুষের অবদান দেশব্যাপী স্বীকৃত।
কুড়িগ্রাম জেলার সবচেয়ে বেশি পরিচিত কোন ধরনের ব্যক্তিত্ব?
উত্তর: কুড়িগ্রাম জেলা মূলত
- মুক্তিযোদ্ধা
- রাজনীতিবিদ ও সংসদ সদস্য
- ভাষা আন্দোলনের কর্মী
- শিক্ষাবিদ
- সাংবাদিক ও সমাজসেবক
এই শ্রেণির ব্যক্তিত্বদের জন্য বেশি পরিচিত।
কুড়িগ্রাম জেলার বিখ্যাত মুক্তিযোদ্ধারা কারা?
উত্তর: কুড়িগ্রাম থেকে বহু বীর মুক্তিযোদ্ধা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তারা সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে প্রতিরোধ সংগঠন গড়ে তোলেন এবং স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষায় কাজ করেন।
কুড়িগ্রাম জেলার রাজনীতিবিদদের জাতীয় পর্যায়ে ভূমিকা কী?
উত্তর: কুড়িগ্রামের রাজনীতিবিদরা প্রাদেশিক পরিষদ, জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
তারা সীমান্তবর্তী জেলা হিসেবে কুড়িগ্রামের উন্নয়ন, নদীভাঙন সমস্যা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন।
কুড়িগ্রাম জেলার কোনো নারী ব্যক্তিত্ব কি জাতীয়ভাবে পরিচিত?
উত্তর: হ্যাঁ। কুড়িগ্রাম জেলার নারী অধিকারকর্মী, শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবকরা নারী শিক্ষা, বাল্যবিবাহ রোধ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
কুড়িগ্রাম জেলার সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের অবদান কী?
উত্তর: কুড়িগ্রামের সাহিত্যিক ও লোকশিল্পীরা ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি, কবিতা, প্রবন্ধ ও গবেষণার মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের জীবন, নদীকেন্দ্রিক সংস্কৃতি ও মানুষের সংগ্রাম তুলে ধরেছেন।
আরও পড়ুনঃ চুয়াডাঙ্গা জেলার আয়তন কত
কুড়িগ্রাম জেলার বিখ্যাত ব্যক্তিদের তথ্য কোথা থেকে জানা যায়?
উত্তর:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ
- জেলা গেজেটিয়ার
- জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা
- সরকারি ও বেসরকারি গবেষণা প্রকাশনা
নির্ভরযোগ্য অনলাইন তথ্যভান্ডার।
শিক্ষার্থী ও চাকরি পরীক্ষার্থীদের জন্য এই তালিকা কতটা উপকারী?
উত্তর: অত্যন্ত উপকারী। সাধারণ জ্ঞান, বাংলাদেশ বিষয়াবলি, জেলা পরিচিতি ও রচনামূলক প্রশ্নে কুড়িগ্রাম জেলার বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত আসে।
কুড়িগ্রাম জেলার আরও বিখ্যাত ব্যক্তিদের তালিকা কি পাওয়া যাবে?
উত্তর: হ্যাঁ। মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ বা নির্দিষ্ট পেশাভিত্তিক আলাদা তালিকা ও বিস্তারিত প্রোফাইল তৈরি করা সম্ভব।
এই তথ্যগুলো কি গবেষণা ও ব্লগ লেখার জন্য ব্যবহার করা যাবে?
উত্তর: সাধারণ তথ্যগত রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। তবে একাডেমিক গবেষণা বা প্রকাশনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য উৎস উল্লেখ করা উচিত।
শেষ কথা
কুড়িগ্রাম জেলা শুধু একটি ভৌগোলিক নাম নয়, এটি সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও গৌরবের এক জীবন্ত ইতিহাস। এই জেলার নদীভাঙা চরাঞ্চল, সীমান্তবর্তী জীবন ও প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার মাঝেই জন্ম নিয়েছেন
এমন সব কৃতী মানুষ, যাঁরা ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, রাজনীতি, শিক্ষা, সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও সমাজসেবায় দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
কুড়িগ্রাম জেলার বিখ্যাত ব্যক্তিত্বরা প্রমাণ করেছেন প্রতিকূল পরিবেশ কখনোই প্রতিভা ও নেতৃত্বকে দমিয়ে রাখতে পারে না। তাদের জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, মানবিকতা, নৈতিকতা
ও দায়িত্ববোধে উদ্বুদ্ধ করে। শিক্ষার্থী, গবেষক, চাকরি পরীক্ষার্থী কিংবা সাধারণ পাঠক সবার জন্য এই গুণীজনদের পরিচয় জানা অত্যন্ত মূল্যবান।
ভবিষ্যতেও কুড়িগ্রাম জেলা থেকে আরও বহু আলোকিত মানুষ জন্ম নেবে। যারা দেশ, সমাজ ও মানবতার কল্যাণে কাজ করবে। সেই প্রত্যাশা ও শ্রদ্ধা নিয়েই এই জেলার গৌরবময় ব্যক্তিত্বদের স্মরণ করা আমাদের দায়িত্ব।



