বরগুনা জেলার ইতিহাস | বরগুনা কিসের জন্য বিখ্যাত

বরগুনা কিসের জন্য বিখ্যাত তা বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আপনার জানা অত্যন্ত জরুরী। আপনি যদি বরগুনা জেলার বিখ্যাত হওয়ার কারণ গুলো জেনে না থাকেন।বরগুনা জেলাতবে দুশ্চিন্তা না করে এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পডুন। কেননা এই আর্টিকেলে আমরা বরগুনা জেলার সম্পর্কে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, বিখ্যাত খাবার ও দর্শনীয় স্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

বরগুনা জেলার ইতিহাস?

১৯৬৯ সালে পটুয়াখালী জেলার অধীনে বরগুনাকে মহকুমা করা হয়। এরপর ১৯৮৪ সালে দেশের প্রায় সকল মহকুমাকে জেলায় উন্নীত করা হলে বরগুনা জেলায় পরিণত হয়। এছাড়া বরগুনা জেলার ইতিহাসের তেমন কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

বরগুনা জেলার ভৌগোলিক অবস্থান?

বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে বরগুনা জেলা অন্যতম। দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের বরিশাল বিভাগের একটি জেলা হচ্ছে বরগুনা। বরগুনা জেলার উত্তরে বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও পটুয়াখালী জেলা, পশ্চিমে পিরোজপুর, বাগেরহাট জেলা, দক্ষিণে পটুয়াখালী ও বঙ্গোপসাগর এবং পূর্বে পটুয়াখালী জেলা অবস্থিত।

আরও পড়ুনঃ গাজীপুর জেলার ইতিহাস | গাজীপুর কিসের জন্য বিখ্যাত

বরগুনা জেলার নামকরণ?

বরগুনা জেলার নামকরণ নিয়ে বহু মতভেদ রয়েছে। একটি তথ্য সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা নামটি এসেছে বাংলা শব্দ বড়গুন থেকে। যার অর্থ হলো উচ্চ জোয়ার।

অন্য আরেকটি তথ্য অনুযায়ী যানা যায়, অতীতে উত্তরাঞ্চলের কাঠ ব্যবসায়ীদের নদীতে তাদের নৌকা টেনে তোলার জন্য জোয়ারের অপেক্ষা করতে হতো। ধারণা করা হয়, এই অপেক্ষার কারণে বরগুনা নামের উৎপত্তি হয়েছে।

বরগুনা জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত?

বরগুনা জেলা নারিকেল ও সুপারির জন্য সর্বাধিক বিখ্যাত। বরগুনা সমুদ্র উপকূলীয় জেলার কারণে এখানে প্রচুর পরিমাণে নারিকের চাষ হয়। এগুলো ছাড়াও বরগুনা জেলায় ঐতিহ্যবাহী কিছু দর্শনীয় স্থান রয়েছে। যেগুলো দেখতে অনেক সুন্দর ও অত্যন্ত মনোরম পরিবেষ্টিত।

বরগুনা জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ?

বরগুনা টাউন পার্ক?

এটি বরগুনা শহরের একদম প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক পার্ক। এটি পরিবার এবং বন্ধুদের জন্য বিশ্রাম এবং অবসর সময় কাঠানোর জন্য একটি জনপ্রিয় স্থান। পার্কটিতে একটি খেলার মাঠ, একটি সুন্দর সুইমিং পুল এবং বিভিন্ন জাতের গাছ রয়েছে।

বিবিচিনি শাহী মসজিদ

বিবিচিনি শাহী মসজিদ হলো ১৭ শতকের একটি ঐতিহাসিক মসজিদ। এটি বরগুনা জেলার প্রাচীনতম এবং সবচেয়ে সুসংরক্ষিত মসজিদগুলোর মধ্যে একটি। এটি বরগুনা জেলা শহর থেকে আনুমানিক ১৫ কিলোমিটার দূরে বিবিচিনি গ্রামে অবস্থিত।

বরগুনা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

এটি বরগুনা শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক উদ্যান। এই উদ্যানটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করা শহীদদের স্মরণে উৎসর্গ করা হয়েছে। এই পার্কটিতে একটি স্মৃতিস্তম্ভ, একটি ফুলের বাগান এবং একটি খেলার মাঠও রয়েছে।

সোনাকাটা সমুদ্র সৈকত

সোনাকাটা সমুদ্র সৈকত বঙ্গোপসাগরের একদম উপকূলে অবস্থিত একটি সুন্দর সমুদ্র সৈকত। এটি সাঁতার কাটা, সূর্যস্নান এবং মাছ ধরার জন্য সর্বাধিক পরিচিতি।

লালদিয়া বন

লালদিয়া বন বঙ্গোপসাগরের একদম উপকূলে অবস্থিত একটি ম্যানগ্রোভ বন। এই বনটি ডলফিন, কুমির এবং পাখিসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল।

হরিণঘাটা ফরেস্ট ইকো পার্ক

এটি হরিণ, বানর এবং পাখিসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। এই পার্কটিতে বেশ কয়েকটি হাইকিং ট্রেইল এবং পিকনিক স্পট রয়েছে। এটিতে বিভিন্ন সময় পর্যটকরা পিকনিক সহ বিভিন্ন ধরণের বিনোদনের আয়োজন করে থাকে।

আরও পড়ুনঃ মাদারীপুর জেলার ইতিহাস | মাদারীপুর কিসের জন্য বিখ্যাত

বরগুনা জেলার বিখ্যাত খাবার?

বিসকি

বরগুনা জেলার একটি জনপ্রিয় খাবার হচ্ছে বিসকি। এটি প্রথমে সারারাত চাল ভিজিয়ে রেখে পরেরদিন সকালে সেই ফুলে ওঠা ভেজা চালভাজাকে নারকেল ও গুড় দিয়ে রান্না করা হয়। এই ঐতিহ্যবাহী খাবারটি অনেকের কাছে মিঠা ভাত নামেও পরিচিত।

শিরনি

বরগুনা জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার হচ্ছে শিরনি। এটি বলাই যায়, বরগুনা জেলার একটি ট্রেডিশনাল খাবার। এ জেলায় বিয়ে অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে সব ধরণের অনুষ্ঠানে এই শিরনি পরিবেশন করা হয়। এটি অত্যন্ত সুস্বাদু ও মজাদার খাবার।

নারকেলের পিঠা

বরগুনার গ্রাম অঞ্চলে নারকেল পিঠা একটি প্রচলিত খাবার। বিশেষ করে শীতকাল আসলে এ জেলায় এই খাবার তৈরির হিড়িক পড়ে যায়। এটি নারকেল, চালের গুড়া আরও বিভিন্ন উপকরণ মিশিয়ে এই খাবার তৈরি করা হয়।

পায়েস

বরগুনা জেলার আরেকটি বিখ্যাত খাবার হচ্ছে পায়েস। এই পায়েস এখানকার একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার। এ জেলায় বিয়ে অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে সব ধরণের উৎসবে এই পায়েস পরিবেশন করা হয়। এটি এখন বরগুনার একটি ট্রেডিশনাল খাবার হয়ে দাড়িয়েছে।

আমের আচার

বরগুনা জেলার জনপ্রিয় একটি খাবার হচ্ছে টক মসলাদার যুক্ত আমের আচার। এ জেলায় আমের মৌসুম আসলেই এই আচার তৈরির ধুম পড়ে যায়। আহ্ কি যে স্বাদ, এই আমের আচারের, ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না।

পান্তা ভাত ও ইলিশ মাছ

বরগুনা সমুদ্র উপকূলীয় জেলা হওয়ায় এখানে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। পান্তা ভাতের সাথে ইলিশ ভাঁজা বা সর্ষে ইলিশ এখনকার একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার।

বরগুনা জেলার বিখ্যাত ব্যক্তি?

শাহজাদা আবদুল মালেক খান

তিনি বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ। তিনি ১৯৭০ সালেে নির্বাচনে এমএলএ নির্বাচিত হন।

মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮তম উপাচর্য ছিলেন। তিনি ১ জুলাই ১৯৬৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

হুমায়ুন কবির হিরু

তিনি বরগুনা জেলার একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ। তিনি বরগুনা ১-আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি বরগুনার একজন জ্ঞান এবং সৎ ব্যক্তিত্ব।

নুরুল ইসলাম মনি

তিনি বাংলাদেশী একজন রাজনীতিবিদ ও বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান। তিনি বরগুনা-২ আসনের তিনবারের সংসদ সদস্য।

আরও পড়ুনঃ মৌলভীবাজার জেলার ইতিহাস | মৌলভীবাজার কিসের জন্য বিখ্যাত

বরগুনা জেলার আয়তন কত?

বরগুনা জেলার মোট আয়তন হচ্ছে ১,৮৩১.৩১ বর্গ কিলোমিটার। এবং মোট জনসংখ্যা হচ্ছে ৮,৯২,৭৮১ জন।

বরগুনা জেলার উপজেলা কয়টি?

বরগুনা জেলায় মোট উপজেলা রয়েছে ৬টি। যেমনঃ

  • বরগুনা সদর
  • আমতলী
  • বেতাগী
  • বামনা
  • তালতলী
  • পাথরঘাটা

শেষ কথা

বাংলাদেশ সৌন্দর্যের এক অপরূপ উদাহরণ। এখানে ৬৪ জেলার মধ্যে সৌন্দর্যের দিক থেকে কোন জেলা এগিয়ে আবার কোন জেলা তুলনামূলক কম জনপ্রিয় রয়েছে। এসব কিন্তু নির্ভর করে ব্যক্তি মনের চাহিদা এবং সেই জেলার সার্বিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে।

এছাড়াও আপনার জ্ঞানকে প্রসারিত করতে ভোলা জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত এ সম্পর্কে পড়তে পারেন। বরগুনা জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত তা হয়তো এতক্ষণে স্পষ্টরূপে বুঝে গেছেন।

আপনাদের কোন প্রশ্ন থাকলে দয়া করে কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন। সকলের সুস্বাস্থ্য কামণা করে আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ্ হাফেজ

Share Now

This website is mainly created to provide information about travel, travel packages, travel agencies, travel visas, travel Bangladesh, and your travel to Bangladesh. We will always try to give you accurate information.

Leave a Comment