তিব্বত শহরটি শত বছর ধরে হিমালয়ের উত্তর অংশে দাঁড়িয়ে আছে। হিমালয়ের উত্তরে অবস্থিত একটি ছোট দেশ তিব্বত। মধ্য এশিয়ার অবস্থিত এই অঞ্চলটি চীনের একটি রাজ্য।
যেহেতু বেশিরভাগ তিব্বতি জনগণ এটাকে চীনের অংশ বলতে নারাজ। তিব্বত রহস্যের জন্য বিখ্যাত। বিদেশি পর্যটকদের তিব্বত ভ্রমণের অনেক শর্তাদি রয়েছে।
তিব্বত দুর্গম প্রকৃতি ও রহস্যময় গোবি মরুভূমির জন্য বিখ্যাত। তিব্বতের ভূপৃষ্ঠ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৬ হাজার ফুটের উপরে অবস্থিত যার কারণে এখানে বসবাস করা খুবই কঠিন।
আজকের পোস্টে তিব্বত কিভাবে যাবেন বা তিব্বত যাওয়ার উপায় কি এই নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য থাকবে। তাহলে চলুন দেরি না করে জেনে নেওয়া যাকঃ
তিব্বত যাওয়ার উপায় | তিব্বত কিভাবে যাবেন
যারা তিব্বত ভ্রমণ করতে চান তাদের জন্য উপযুক্ত সময় হচ্ছে গ্রীষ্মকাল। কেননা এই সময়টাতে তিব্বতের আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো থাকে।
অর্থাৎ তিব্বতের তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে থাকে গ্রীষ্মকালে। পৃথিবীতে যত পর্যটক স্থান রয়েছে তার মধ্যে তিব্বত খুবই কঠিন একটি স্থান।
তিব্বত ভ্রমণে যাওয়ার আগে আপনাকে পোশাক থেকে শুরু করে যাবতীয় সবকিছু পরিকল্পনা করে নিয়ে যেতে হবে। তিব্বতের সকল সৌন্দর্য যদি উপভোগ করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে সাত দিন তিব্বতে ভ্রমন করতে হবে।
তিব্বতে যাওয়ার আগে একটি অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ট্রিপ বুকিং শুরু করে দিন। কেননা ট্রাভেল এজেন্সি তিব্বত ভ্রমণের জন্য যা যা করা লাগবে সবকিছুই আপনাকে করে দিবে।
তারপরে তিব্বতের সাংস্কৃতিক নিয়ম অর্থাৎ তিব্বতে গিয়ে কোন কাজগুলো করা যাবে না এই বিষয়গুলো সম্পর্কে আপনাকে ধারণা নিয়ে নিতে হবে। তাছাড়া সেখানে ভ্রমণ বিধি নিষেধ কি কি আছে এই সম্পর্কেও জেনে নিতে হবে।
আরও পড়ুনঃ লেবানন কাজের ভিসা পাওয়ার উপায় | লেবানন যেতে কত টাকা লাগে
তিব্বত ভ্রমণের জন্য কি কি করা লাগবে | তিব্বত ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
তিব্বত ভ্রমণে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র লাগবে। যদি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে তিব্বতে যেতে চান।
তাহলে ট্রাভেল এজেন্সির কাছে এই ডকুমেন্ট গুলা জমা দিতে হবে। আর যদি এম্বাসির মাধ্যমে ভিসা আবেদন করেন তাহলে এম্বাসিতে ডকুমেন্টগুলো দিতে হবে।
১. একটি বৈধ পাসপোর্ট লাগবে এবং পাসপোর্টে অবশ্যই ছয় মাসের বেশি মেয়াদ থাকতে হবে।
২. তিব্বত ভ্রমণের আগে চীনা ভিসা পাওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে। কেননা চীনা ভিসা আপনি যদি না পান তাহলে কোন ভাবে তিব্বত যেতে পারবেন না।
৩. কোন ব্যক্তি সরাসরি তিব্বতে যাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবে না। এক্ষেত্রে আপনাকে একটি সরকার অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। তাদের মাধ্যমে তিব্বতে যাওয়ার ভিসা করতে হবে।
৪. যারা তিব্বতে যেতে চান তাদের প্রথমেই নেপাল যেতে হবে এবং পরবর্তীতে নেপাল থেকে তিব্বতে প্রবেশ করতে হবে।
তিব্বত যাওয়ার আগে কিছু টিপস?
তিব্বত হচ্ছে একটি সাংস্কৃতিকভাবে সংবেদনশীল ও ভৌগলিকভাবে চ্যালেঞ্জিং একটি টুরিস্ট স্থান। এখানে ভ্রমণের আগে অবশ্যই আপনাকে সতর্কভাবে পরিকল্পনা এবং সচেতনতা প্রয়োজন।
তিব্বতে যাওয়ার জন্য অবশ্যই আপনার কাছে তিব্বত ভ্রমণ পারমিট এবং চাইনিজ ভিসা থাকা লাগবে। তাছাড়া কোনভাবেই তিব্বতে প্রবেশ করতে পারবেন না।
উচ্চ স্থানে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার মতো প্রস্তুতি আগে থেকে নিয়ে যেতে হবে। কোন লোকের বা অন্যান্য কোন পবিত্র জিনিসের ছবি তোলার আগের অবশ্যই অনুমতি নিতে হবে এবং সুন্দর পোশাক পড়ে ছবি উঠতে হবে।
অর্থাৎ তিব্বতে অনুমতি ছাড়া স্থানীয়দের, সন্ন্যাসীদের বা মঠের ভিতরে ছবি তুলবেন না। তিব্বতে যেখানে সেখানে ময়লা ফেলবেন না। তাছাড়া যখন তিব্বত ভ্রমণে যাবেন তখন বন্যপ্রাণী মারা বা এদের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
তিব্বতে আপনি যতক্ষণ ভ্রমণ করবেন তিব্বত সম্পর্কে রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক কোন কিছু কোথাও পোস্ট করবেন না। কেননা তিব্বতে যখন আপনি থাকবেন তখন চীন সরকারের গোয়েন্দারা আপনার উপর নজর রাখবে।
google, youtube, facebook এই সকল জনপ্রিয় মাধ্যমে গুলা তিব্বতে ব্যবহার করা যাবে না। উচ্চ উচ্চতায় আপনার ডিহাইড্রেশন এর সমস্যা হতে পারে তাই সকল সময় পানির সাথে রাখতে হবে এবং খেতে হবে।
তিব্বত ভ্রমণে গিয়ে সকল সময় আপনার গ্রুপের সাথে থাকতে হবে এবং তাদের গাইড অনুসরণ করতে হবে। তিব্বতে বিদেশি পর্যটকরা কখনো একা ঘুরতে পারবে না।
আরও পড়ুনঃ লিবিয়া বেতন কত | লিবিয়া যেতে কত টাকা লাগে
তিব্বতে যাওয়া কঠিন কেন?
তিব্বতে যাওয়া কঠিন হওয়ার পেছনে বেশকিছু কারণ রয়েছে। যার কারণে অনেকেই তিব্বতে যেতে চান না। যেমনঃ
১. রাজনৈতিক সমস্যা
তিব্বত অঞ্চলটি চীনের একটি রাজ্য। তাছাড়া এটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল একটি স্থান। তাই তিব্বতে যারা ভ্রমণে আসেন চীন সরকার তাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখেন।
সাধারণ টুরিস্টরা তিব্বত ভ্রমণ করতে পারলেও সাংবাদিক, রাজনৈতিক কর্মী, এবং মানবাধিকার কর্মীদের জন্য তিব্বত ভ্রমণ নিষিদ্ধ।
২.ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ু
তিব্বত হলো একটি উচ্চ পাহাড়ী অঞ্চল যা হিমালয় পর্বতমালার মধ্যে অবস্থিত। তিব্বতের অতিরিক্ত উচ্চতা ও দুর্গম পাহাড়ি পথের কারণে টুরিস্টদের ভ্রমণ যাত্রা অসহনীয় করে তোলে।
তাছাড়া তিব্বতের জলবায়ু অনেকটা প্রতিকূল কেন না অঞ্চলটি অবস্থিত অনেক উচ্চতায়। যার ফলে অক্সিজেনের মাত্রা অনেক কম উক্ত স্থানে। তাছাড়া যাদের উচ্চতা নিয়ে সমস্যা রয়েছে তাদেরকে তিব্বত ভ্রমণে না যাওয়াই ভালো।
৩. ভিসা কঠোর নীতি
তিব্বত চীনের স্বায়ত্তশাসিত একটি অঞ্চল হওয়ায় চীন সরকার এখানে ভ্রমণের জন্য কঠোর বিধি নিষেধ রেখেছে। অর্থাৎ কেউ যদি তিব্বতের যাওয়ার জন্য এর কাছে ভিসা আবেদন করেন তাহলে অনেক কিছু যাচাই-বাছাই করার পরে ভিসা প্রদান করা হয়।
বেশিরভাগ ভিসা আবেদন এক্ষেত্রে বাতিল করা হয়। কেননা চীন সরকার তিব্বতের রহস্যকে সকল সময় গোপন রাখতে চাই।
৪. ভাষা ও সংস্কৃতি ও পরিবহন ব্যবস্থা
তিব্বতে যাওয়া আরো কঠিন কেননা তিব্বতের ভাষা ও সংস্কৃতির অন্যান্য দেশের তুলনায় ভিন্ন। যার ফলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যাপক সমস্যা সৃষ্টি হয় একে অপরকে মনের ভাব বোঝানোর ক্ষেত্রে।
তাছাড়া তিব্বতের পরিবহন ব্যবস্থা এতটা ভালো নয়। কিছু কিছু জায়গায় যানবাহনে করে যাওয়া গেলেও তা অনেকটা দুর্গম পথ হওয়াই বিপদজনক।
তিব্বত যেতে কত টাকা লাগে?
তিব্বত (Tibet) চীন প্রজাতন্ত্রের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হওয়ায় সেখানে যেতে হলে মূলত চীনের ভিসা ও অতিরিক্ত তিব্বত ট্রাভেল পারমিট (Tibet Travel Permit) লাগে।
বাংলাদেশ থেকে তিব্বত ভ্রমণের খরচ নির্ভর করে আপনি কোন পথে যাচ্ছেন। চীনের কোনো শহর হয়ে, না কি নেপালের লাসা রুটে। নিচে একটি সাধারণ খরচের বিবরণ প্যারা আকারে দেওয়া হলোঃ
তিব্বতে ভ্রমণ করতে চাইলে প্রথমে বাংলাদেশ থেকে চীনের ভিসা সংগ্রহ করতে হয়, যার খরচ প্রায় ৭,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এরপর প্রয়োজন হয় বিশেষ তিব্বত ট্রাভেল পারমিট,
যা সাধারণভাবে সরাসরি পাওয়া যায় না। বিশেষভাবে অনুমোদিত ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে নিতে হয়, যার খরচ প্রায় ৫,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকার মতো হতে পারে।
বাংলাদেশ থেকে তিব্বত যাওয়ার সবচেয়ে সহজ রুট হচ্ছে ঢাকা-নেপাল-লাসা রুট। ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কাঠমান্ডু (নেপাল) পর্যন্ত ফ্লাইট খরচ হয় প্রায় ১৫,০০০ থেকে ২৫,000 টাকা।
এরপর কাঠমান্ডু থেকে লাসা (তিব্বতের রাজধানী) যাওয়ার জন্য ফ্লাইট বা ওভারল্যান্ড ট্যুর প্যাকেজ নিতে হয়, যার খরচ ট্যুর অপারেটর এবং সময় অনুযায়ী ৪০,০০০ থেকে ৮০,০০০ টাকা বা তারও বেশি হতে পারে।
তিব্বতে ভ্রমণের সময় গাইড বাধ্যতামূলক, এবং অধিকাংশ সময় ট্যুর প্যাকেজের মাধ্যমে ভ্রমণ করতে হয়, যার আওতায় থাকা, খাওয়া, স্থানীয় যাতায়াত ইত্যাদি খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে।
সব মিলিয়ে তিব্বত ভ্রমণের জন্য একজন বাংলাদেশি পর্যটকের মোট খরচ গড়ে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকার মধ্যে হতে পারে, নির্ভর করে যাত্রাপথ, ট্যুর প্যাকেজ এবং ভ্রমণের সময় অনুযায়ী।
আরও পড়ুনঃ ইতালি ভিসা খরচ
তিব্বত কি পর্যটকদের জন্য উপযুক্ত?
তিব্বত পর্যটকদের জন্য উপযুক্ত একটি স্থান তবে এখানে সবাইকে যার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তিব্বতে রয়েছে হিমালয় পর্বতমালা, পবিত্র হদ, বৌদ্ধ মঠ। তাছাড়া তিব্বতে ভ্রমণ করলেন আপনি আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা পেতে পারেন।
তিব্বত হচ্ছে ধ্যানের জন্য খুবই উপযুক্ত একটি জায়গা। তিব্বত ভ্রমণ করতে গেলে শুধু চীনা ভিসা পেলে হবে না আপনাকে ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে তিব্বত ওয়ার্ক পারমিট পেতে হবে।
শেষ কথা
তিব্বত কিভাবে যাবেন ও তিব্বত ভ্রমণের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পোস্টটিতে তুলে ধরা হয়েছে।
যারা তিব্বত ভ্রমণ করবেন বলে ভাবছেন আশা করি তাদের জন্য পোস্টটি উপকারে আসবে। এই বিষয়ে যদি আর কোন কিছু জানার থাকে তাহলে কমেন্ট করে জানাবেন।



