চীন যত সময় যাচ্ছে তত অর্থনৈতিক দিক থেকে ভালো অবস্থানে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান বিশ্বে আমেরিকার পরেই সব থেকে বৃহৎ অর্থনীতি চীনের। অর্থাৎ মোট জিডিপির তালিকা করলে চীন বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
চীনের বরাবরই নিত্য নতুন প্রযুক্তি বাজারে নিয়ে আসা ও কম দামে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সুনাম রয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশ থেকে বড় বড় ব্যবসায়ীরা চীনে এসে এখন ব্যবসা-বাণিজ্য করছে।
চীনে আইটি সেক্টরে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। সহজ ভাষায় বলতে গেলে চীন এখন জনশক্তিকে জনসম্পদে পরিণত করেছে। ৯০ দশকের দিকে চীনের অর্থনীতি তেমন ভালো অবস্থাতে না থাকলেও খুব
অল্প সময়ের মধ্যে চীন নিজেদেরকে আপডেট করে নিয়েছে। সারা বিশ্বে এখন চীন আইডল। তো যাই হোক আজকের নিবন্ধনটিতে চীনে যাওয়ার জন্য কি কি ভিসা দেওয়া হয়ে থাকে?
চীন যেতে কত টাকা লাগে, ভিসা প্রসেসিং খরচ কত ও চায়না ভিসা সম্পর্কিত অনেক বিষয় নিয়ে জানানো হবে।
চায়না ভিসা পাওয়ার উপায়?
চীন থেকে বাংলাদেশীদের জন্য কয়েক ধরনের ভিসা দেওয়া হয়। সর্বপ্রথম সিলেক্ট করতে হবে আপনি কোন ভিসার মাধ্যমে চায়না যেতে চান।
যেমন বাংলাদেশ থেকে চায়না যাওয়ার জন্য টুরিস্ট ভিসা, বিজনেস ভিসা, মেডিকেল ভিসা, কূটনৈতিক ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট ভিসা সহ বেশ কিছু ধরনের ভিসা দেওয়া হয়।
টুরিস্ট ভিসায় চীনে গিয়ে বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান দেখার পাশাপাশি কয়েক দিন ভ্রমণ করতে পারবেন। বিজনেস ভিসায় চায়না গিয়ে ব্যবসায়িক বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করে আসতে পারবেন।
মেডিকেল ভিসায় চায়না গিয়ে চিকিৎসা সহ বিভিন্ন মেডিকেল টেস্ট করাতে পারবেন। ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় গিয়ে চীনে কাজ করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।
বাংলাদেশ থেকে বেশিরভাগ ব্যক্তিরা যায় সাধারণ ভিসায়। এদের মধ্যে অধিকাংশ টুরিস্ট ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট নেওয়ার মাধ্যমে চীনে যায়। অতীতে বাংলাদেশ থেকে চীনে পড়াশোনা করার জন্য তেমন ছাত্র-
ছাত্রী চীনে না গেলেও এখন অনেক ছাত্রছাত্রী বাংলাদেশ থেকে চীনে যাচ্ছে পড়াশোনা জন্য। যেকোনো ব্যক্তি ইচ্ছা করলেই চায়না যেতে পারবে না।
চায়না যাওয়ার জন্য একটি বৈধ ভিসার প্রয়োজন হবে। নিম্নে চায়না ট্যুরিস্ট ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাওয়ার জন্য কি কি করা লাগবে তা উল্লেখ করা হলোঃ
বাংলাদেশ থেকে চায়না ভিসা পেতে কতদিন লাগে?
বাংলাদেশ থেকে চায়না যেতে হলে বৈধ ভিসা নিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশ থেকে যদি চায়না কনসুল্যটে বা দূতাবাসে নিয়ে ডকুমেন্ট জমা দিয়ে ও ভিসা ফি প্রদান করে চায়না ভিসার জন্য আবেদন করে থাকেন
তাহলে এক্ষেত্রে ৮ থেকে ১০ কার্য দিবসের মধ্যে ভিসা পাওয়া যায়। তবে তার কারো ক্ষেত্রে ভিসা হাতে পেতে একটু দেরি হতে পারে।
কেননা অনেক সময় দূতাবাসে অনেক ভিসার আবেদন কপি থাকার কারণে যাচাই-বাছাই করতে একটু সময় লাগে যার কারণে অনেকে ১৫ থেকে ২০ কার্য দিবস সময় লাগে।
আরও পড়ুনঃ বুলগেরিয়া কাজের ভিসা | বুলগেরিয়া যেতে কত টাকা লাগে
চীনে কাজের ভিসা পাওয়া কি কঠিন?
বিশ্বের অন্যান্য দেশে কাজের ভিসা পাওয়া তেমন কঠিন না হলেও চায়নাতে কাজের ভিসা পাওয়া অনেকটা কঠিন ব্যাপার। বিশেষ করে কোন অশিক্ষিত লোক ইচ্ছা করলেই চায়না ওয়ার্ক পারমিট ভিসা করতে পারবেনা।
চায়না ওয়ার্ক পারমিট ভিসা করতে হলে আপনাকে অবশ্যই শিক্ষিত হতে হবে। তাছাড়া অনার্স পাস বা ডিগ্রী পাস হতে হবে। চায়নাতে কাজের জন্য সকল সময় দক্ষ জনশক্তি নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে।
অর্থাৎ যারা কঠোর পরিশ্রমী তারা চায়নাতে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় গিয়ে ভালো টাকা আয় করার সুযোগ রয়েছে।
চীনে কিভাবে ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া যায় | চায়না কাজের ভিসা
চায়নাতে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা তখনই পাওয়া যাবে যখন আপনি চীনের কোন কোম্পানি থেকে তাদের প্রস্তাব পাবেন। অথবা চীন সরকার কোন কাজের জন্য নিয়োগ প্রকাশ করলে।
অর্থাৎ চীনে আপনার যে নিয়োগকর্তা রয়েছে তাকে আপনার পক্ষ থেকে আবেদন করতে হবে ওয়ার্ক পারমিটের জন্য। নিয়োগ পত্রটি যখন আপনার কাছে আসবে তখন বাংলাদেশে অবস্থিত চায়না দূতাবাস বা
কনস্যুলেটের মাধ্যমে আপনি ভিসা আবেদন করতে পারবেন। নিম্নে চীনের ওয়ার্ক পারমিট বা জেড ভিসা পেতে কি কি ডকুমেন্ট লাগবে তার উল্লেখ করা হলোঃ
১. একটি বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে এবং ছয় মাসের বেশি মেয়াদ থাকতে হবে। তাছাড়া পাসপোর্টের দুইটি পেজ খালি থাকতে হবে।
২. চায়না ভিসা আবেদনপত্র টি যথাযথভাবে পূরণ করে ফেলতে হবে।
৩. সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড পাসপোর্ট সাইজ দুই কপি ছবি লাগবে।
৪. চায়না কোন কোম্পানির কাছ থেকে একটি বৈধ কর্মসংস্থান চুক্তির প্রমাণপত্র লাগবে।
৫. আবেদনকারী ব্যক্তির নাগরিক সনদপত্র প্রয়োজন হবে।
তাছাড়া আরো অতিরিক্ত কিছু ডকুমেন্ট লাগতে পারে এগুলো আপনারা চায়না দূতাবাস থেকে জেনে নিতে পারবেন।
তাদের শর্তাদি অনুযায়ী সব ডকুমেন্ট জমা দিলে যাচাই-বাছাই শেষে ১৫ থেকে ২০ কার্যদিবসের মধ্যে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা হাতে পেয়ে যাবেন।
চীনে কাজের ভিসায় যাওয়ার খরচ কত | চায়না ভিসা প্রসেসিং খরচ
চীনে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য অবশ্যই কিছু খরচ রয়েছে। চীনের ওয়ার্ক পারমিট ভিসা শুধুমাত্র তারাই পাবে যারা অনার্স পাসের সার্টিফিকেট ও ডিগ্রী পাশের সার্টিফিকেট রয়েছে।
চায়না ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পেতে ২৫ হাজার টাকার কাছাকাছি খরচ হতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে খরচের পরিমাণটা এর থেকে কম হতে পারে।
ওয়ার্ক পারমিট ভিসা ফি চায়না দূতাবাস থেকে নির্ধারিত হয়ে থাকে তাই মাঝেমধ্যেই এটা আপডেট হয়। যখন ভিসার জন্য আবেদন করবেন তখন চায়না এম্বাসি থেকে সবকিছু জানিয়ে দেওয়া হবে।
আরও পড়ুনঃ ক্রোয়েশিয়া যাওয়ার উপায় | ক্রোয়েশিয়া যেতে কত টাকা লাগে
চীন ভিসার দাম কত?
বাংলাদেশীদের জন্য চীনে যাওয়ার জন্য কয়েক ধরনের ভিসা পাওয়া যায়। ভিসার প্রকারভেদে দাম কম বেশি হয়ে থাকে। তবে নিম্নে শুধু চীনে টুরিস্ট ভিসার দাম কত ও ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পেতে কত টাকা লাগে এ বিষয়ে জানানো হবে।
চীন টুরিস্ট ভিসার দাম কত | চায়না ট্যুরিস্ট ভিসা খরচ
বাংলাদেশ থেকে যদি চীনের টুরিস্ট ভিসা করতে খরচ কত হতে পারে এটা জানার আগে আরো কিছু বিষয় জেনে নিতে হবে। বাংলাদেশদের জন্য চীনের ভিসা প্রক্রিয়াকরণ তিনটি উপায়ে হয়ে থাকে।
নিয়মিত ডেলিভারি, এক্সপ্রেস ডেলিভারি ও জরুরি ডেলিভারি। যারা নিয়মিত ডেলিভারিতে চায়না টুরিস্ট ভিসা পেতে চান তাদের সময় লাগবে ৪ থেকে ৫ কার্যদিবস।
এক্সপ্রেস ভিসার জন্য যারা আবেদন করবেন তারা তিন থেকে চার কার্য দিবসের মধ্যে ভিসা পাবেন। যারা জরুরী ডেলিভারি পেতে চান তাদের বেশি টাকা চার্জ দিয়ে চায়না নিতে হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশীদের জন্য চায়না ভিসা ফি নেওয়া হচ্ছে সর্বনিম্ন ২৫০০ টাকা থেকে ১২ হাজার টাকার মধ্যে। সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা ফি ৩৩৫৮ টাকা , ডাবল এন্ট্রি ভিসা ফি ৪১৯৮ টাকা ও মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা ফি ৯০০০ টাকা।
চায়না বিমান ভাড়া কত | বাংলাদেশ থেকে চায়না বিমান ভাড়া কত
বাংলাদেশ থেকে চায়না বিমান ভাড়া কত হবে এটা বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে থাকে। অর্থাৎ আপনি কোন এয়ারলাইন্সে করে বাংলাদেশ থেকে চায়না যাচ্ছেন এবং নন স্টপ, নাকি ওয়ান স্টপ, ও কি ধরনের টিকিট কাটছেন।
নন স্টপ ইউ এস বাংলা এয়ারলাইন্স এর মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে চায়না যেতে হলে খরচ আসবে ৩৩ হাজার টাকার কাছাকাছি। ওয়ান স্টপ শ্রীলংকান এয়ারলাইন্স এর মাধ্যমে যেতে হলে খরচ আসবে ২৬ হাজার টাকা।
আর যদি এয়ার এশিয়া ওয়ান স্টপে করে বাংলাদেশ থেকে চায়না যেতে চান তাহলে এক্ষেত্রে খরচ আসবে ৩৫ হাজার টাকা।
আরও পড়ুনঃ ব্রাজিল ভিসা বাংলাদেশ | ব্রাজিল যেতে কত টাকা লাগে
বাংলাদেশ থেকে চায়না যেতে কত সময় লাগে?
বাংলাদেশ থেকে যদি চায়না যেতে হয় তাহলে বিমান পথে যেতে হবে। বাংলাদেশ থেকে চীনের বিভিন্ন শহর ও বেইজিংয়ে যেত ২ ঘণ্টার মত সময় লাগে।
তবে চীনের অন্যান্য কিছু শহর রয়েছে যেগুলো বাংলাদেশ থেকে অনেকটা দূরবর্তী সেখানে যেতে ২ ঘন্টা ৩০ মিনিটের মত সময় লাগতে পারে।
চীন যেতে কত টাকা লাগে?
চীন ভ্রমণ, পড়াশোনা বা চাকরির উদ্দেশ্যে যেতে চাইলে মোট খরচ কত লাগবে তা নির্ভর করে আপনার যাত্রার ধরন, ভিসার প্রকার, এবং অন্যান্য খরচের ওপর।
বাংলাদেশ থেকে চীনে যাওয়ার জন্য প্রধানত ট্যুরিস্ট ভিসা (L ভিসা), স্টুডেন্ট ভিসা (X ভিসা), ওয়ার্ক ভিসা (Z ভিসা) ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়। এখানে একটি সাধারণ ব্যয় বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
চীনের ভিসা ফি সাধারণত ৩০ থেকে ৬০ মার্কিন ডলারের মধ্যে হয়, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩,৫০০ থেকে ৭,০০০ টাকা। ভিসা প্রসেসিং এজেন্টের মাধ্যমে আবেদন করলে অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জও যোগ হয়,
যা ২,০০০–৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে স্টুডেন্ট বা ওয়ার্ক ভিসার ক্ষেত্রে অনেক সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান এই খরচ বহন করে।
এয়ার টিকিটের খরচ অন্যতম বড় একটি অংশ। ঢাকা থেকে বেইজিং, গুয়াংজু বা সাংহাইয়ের মতো প্রধান শহরে ওয়ান ওয়ে টিকিটের দাম পড়তে পারে আনুমানিক ৪০,০০০ থেকে ৭০,০০০ টাকা।
ফ্লাইটের সময়, ট্রানজিট ও এয়ারলাইনের ওপর নির্ভর করে এই খরচ কমবেশি হতে পারে। যদি আপনি কোনো এজেন্ট বা প্যাকেজের মাধ্যমে যান, তাহলে অতিরিক্ত এজেন্ট ফি দিতে হতে পারে ১৫,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ থেকে চীন যাওয়ার জন্য একজন ভ্রমণকারীর মোট খরচ হতে পারে আনুমানিক ৭০,০০০ থেকে ১,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত, তবে স্টুডেন্ট বা কর্মসংস্থান ভিসার ক্ষেত্রে এই খরচ ভিন্ন হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ ইন্দোনেশিয়া বেতন কত | ইন্দোনেশিয়া যেতে কত টাকা লাগে
বাংলাদেশ থেকে চীনের দূরত্ব কত কিলোমিটার?
চীন অনেক বড় একটি দেশ। বাংলাদেশ থেকে চীনের দূরত্ব যার কারনে এক এক শহর ভেদে এক এক রকম হয়ে থাকে। বাংলাদেশ থেকে চীনের কুনমিং শহরের বিমান পথের দূরত্ব ১২০০ কিলোমিটারের কাছাকাছি।
তবে সড়কপথে বাংলাদেশ থেকে চীনে যেতে হলে যেহেতু বিভিন্ন দেশের মধ্য দিয়ে যেতে হবে অনেক রুট ব্যবহার করে তাই এক্ষেত্রে দূরত্ব হবে ৫৫১১ কিলোমিটার।
শেষ কথা
চীন যাওয়ার উপায়, চীন যেতে কত টাকা লাগে চীনের কাজের ভিসা কিভাবে পাবেন এই সম্পর্কিত তথ্য ছাড়াও চায়না ভিসা নিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়েছে আজকের পোস্টটিতে।
আরও পড়ুনঃ উজবেকিস্তান ভ্রমণ খরচ | উজবেকিস্তান কাজের ভিসা
যারা চায়না ভিসার জন্য আবেদন করতে চাচ্ছেন তাদের অবশ্যই এগুলো জানা জরুরি। পোস্টটি পড়ে যদি এখনো চায়না ভিসা সম্পর্কিত কোন বিষয়ে কোন ধরনের প্রশ্ন থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে পারেন। ধন্যবাদ।



