শেরপুর কিসের জন্য বিখ্যাত তা বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আপনার জানা অত্যন্ত জরুরী। আপনি যদি শেরপুর জেলার বিখ্যাত হওয়ার কারণ গুলো জেনে না থাকেন।
তবে দুশ্চিন্তা না করে এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পডুন। কেননা এই আর্টিকেলে আমরা শেরপুর জেলা সম্পর্কে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, বিখ্যাত খাবার ও দর্শনীয় স্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।
শেরপুর জেলার ইতিহাস?
প্রাচীনকালে শেরপুর জেলাটি কামরূপ রাজ্যের অংশ ছিল। এ জেলার উত্তরে ভারতের মেঘালয়, দক্ষিণ-পশ্চিমে জামালপুর জেলা ও পূর্বদিকে ময়মনসিংহ জেলা অবস্থিত। মোঘল সম্রাট আকবরের শাসন আমলে এই এলাকা দশ কাহনিয়া নামে পরিচিত ছিল।
আগে শেরপুর যেতে ভয়ঙ্কর ব্রহ্মপুত্র নদী পার হওয়া লাগতো। নদী পারাপারের জন্য দশ কাহন কড়ি নির্ধারিত ছিল বলে এই এলাকায় দশ কাহনিয়া নামে পরিচিতি লাভ করে।
শেরপুর কিসের জন্য বিখ্যাত?
শেরপুর জেলা নিজস্ব ইতিহাস ও ঐতিহ্যের জন্য খুবই বিখ্যাত। এ জেলা ছানার পায়েশ, তুলসীমালা চাল এবং ছানার চপ এর জন্য খুবই বিখ্যাত। দেশের অন্যতম পর্যটক কেন্দ্র গজনি ও গারো পাহাড় এই শেরপুর জেলায় অবস্থিত।
যেটি এ জেলাকে বিখ্যাত করে তুলেছে সারাদেশের মানুষের কাছে। তুলসীমালা চাল শেরপুর জেলার অমূল্য রতন। একে জামাই আদুরি চাল ও বলা হয়ে থাকে। অনেক উপজাতির বসবাস এই শেরপুর জেলায়। বিশেষ করে গারো উপজাতির বসবাস এই জেলায় বেশি।
শেরপুর জেলার দর্শনীয় স্থান সমূহ?
শেরপুর জেলার দর্শনীয় স্থান সমূহ এর মধ্যে গজনী অবকাশ, কসবা মসজিদ, মধুটিলা ইকোপার্ক, লোকনাথ মন্দির, মরিয়ম নগর গির্জা, নয়আনি জমিদার বাড়ি সহ শেরপুর নামের প্রতিষ্ঠাতা শের আলি গাজি মাজার অন্যতম। এগুলো ছাড়াও শেরপুর জেলার কিছু দর্শনীয় স্থান উল্লেখ করা হলোঃ
পৌনে তিন আনী জমিদার বাড়ি
শেরপুর জেলা সদরে অবস্থিত জমিদার সতেন্দ্র মোহন চৌধুরী ও জ্ঞানেন্দ্র মোহন চৌধুরীর বাড়িটি পৌনে তিন আনী জমিদার বাড়ি বলা হয়।
মাইসাহেবা জামে মসজিদ
শেরপুর জেলা শহরে প্রবেশের পর ঠিক সর্বপ্রথম ঐতিহ্যবাহি মাইসাহেবা জামে মসজিদটি নজড়ে আসে। আনুমানিক ২৫০ বছর আগে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়।
রাজার পাহাড়
পাহাড়, নদী পরিবেষ্টিত শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলায় টেউফা নদীর তীরে অবস্থিত একটি অপূর্ব পর্যটন কেন্দ্র রাজার পাহাড়।
এই রাজার পাহাড় দেখতে হাজার হজার পর্যটক প্রায় প্রতিদিনি এখানে ভির করে থাকে। এটা এতটাই অপূর্ব, সুন্দর দেখতে যে, এখানে যে একবার আসে সে প্রতিবছর আসার চেষ্টা করে।
মধুটিলা ইকোপার্ক
শেরপুর জেলা প্রায় থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁওয়ে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারি ভাবে এই মধুটিলা ইকো পার্ক। এটি ও অনেক সুন্দর এবং পর্যটকদের হৃদয়কে শিতল করিয়ে দেয়।
শেরপুর জেলার বিখ্যাত খাবার?
ছানার পায়েস
শেরপুরের ছানার পায়েসের কদর সারা দেশজুড়ে। বিচিত্র খাবারের মধ্যে শত বছরের সুখ্যাতি রয়েছে শেরপুরের এই পায়েসের। যেকোন উৎসব আয়োজনে ভোজন রসিক বাঙালির খাদ্য তালিকায় ছানার পায়েস বহন করে এক বিশেষ ঐতিহ্য।
দুগ্ধজাত আদর্শ এ খাবার ছেলে-বুড়ো সবার পছন্দ। এছাড়াও তুলসীমালা চাল, অনুরাধার দই, ছানার চপ এগুলো ও অনেক সুস্বাদু হয়ে থাকে। দেশের প্রায় অধিকাংশ মানুষ শেরপুর গেলে এই খাবার গুলো খেতে থাকে।
শেরপুর জেলার বিখ্যাত ব্যক্তি?
শেরপুর জেলার বিখ্যাত ব্যক্তি সম্পর্কে বলতে গেলে সর্ব প্রথমেই যে নামটি চলে আসে। তিনি হলেন শের আলী গাজী যার নামে আজ এই শেরপুর।
এছাড়াও রয়েছেন বেগম মতিয়া চৌধুরী, মমিন সাহেব এবং সত্যেন্দ্র মোহন চৌধুরী। যারা এই শেরপুর জেলার বিখ্যাত সন্তান। এছাড়াও যেমনঃ
- বজলুর রহমান (সাংবাদিক )
- আতিউর রহমান আতিক (সংসদ সদস্য শেরপুর-১)
- এ কে এম ফজলুল হক ( সংসদ সদস্য শেরপুর-২)।
শেরপুর জেলার আয়তন কত?
শেরপুর জেলার আয়তন ১৩৬৩.৭৬ বর্গ কিলোমিটার। আন্তর্জাতিক সীমানা হচ্ছে ৩০ কিঃমিঃ। জেলার মোট জনসংখ্যা ১৫,৪২,৬১০ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ৭,৯০,৩৯৮ জন এবং মহিলা ৭,৫২,২১২ জন।
শেরপুর জেলার উপজেলা কয়টি?
শেরপুর জেলায় মোট উপজেলা রয়েছে ৫টি। যেমনঃ
- শেরপুর সদর
- ঝিনাইগাতি
- নালিতাবাড়ি
- নকলা এবং
- শ্রিবরদি
শেষ কথা
বাংলাদেশ সৌন্দর্যের এক অপরূপ উদাহরণ। এখানে ৬৪ জেলার মধ্যে সৌন্দর্যের দিক থেকে কোন জেলা এগিয়ে আবার কোন জেলা তুলনামূলক কম জনপ্রিয় রয়েছে। এসব কিন্তু নির্ভর করে ব্যক্তি মনের চাহিদা এবং সেই জেলার সার্বিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে।
এছাড়াও আপনার জ্ঞানকে প্রসারিত করতে জামালপুর কিসের জন্য বিখ্যাত এ সম্পর্কে পড়তে পারেন।শেরপুর জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত তা হয়তো এতক্ষণে স্পষ্টরূপে বুঝে গেছেন।
আপনাদের কোন প্রশ্ন থাকলে দয়া করে কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন। সকলের সুস্বাস্থ্য কামণা করে আজকের মত এখানে বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ্ হাফেজ



