কিরগিজস্তান হলো এশিয়ার স্থল অবশিষ্ট একটি রাষ্ট্র। কিরগিজস্তান উত্তরে রয়েছে কাজাখস্থান, পূর্বে চীন, দক্ষিণে চীন ও তাজিকিস্তান পশ্চিমে রয়েছে উজবেকিস্তান। কিরগিজস্তানে বাংলাদেশি অনেকে কাজের ভিসায় কাজ করে থাকেন।
এই পোস্টে আমি আপনাদেরকে জানাবো কিরগিজস্তান কাজের ভিসা কিভাবে পাবেন ও সেখানে গিয়ে কোন ধরনের কাজ করতে পারবেন ও বেতন কেমন আসতে পারে। এজন্য সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ সহকারে করতে হবে।
কিরগিস্তান দেশ হিসেবে কেমন?
কিরগিজস্তান অর্থনৈতিক দিক থেকে ইউরোপের দেশগুলোর তুলনায় অনেকটা পিছিয়ে। কিরগিজস্তান কাজের ভিসা করে থাকেন অনেকে সেখান থেকে অন্য দেশে যাওয়ার জন্য।
কিরগিজস্তানে যদি কাজের ভিসা নিয়ে যান তাহলে সর্বোচ্চ বেতন হতে পারে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। তবে যারা দক্ষতা সম্পন্ন কর্মী রয়েছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন তাদের বেতন একটু বেশি হবে।
কিরগিজস্থান ভিসা পাওয়ার উপায়?
বাংলাদেশ থেকে কিরগিজস্তান কাজের ভিসা অতীতে খুব সহজেই পাওয়া যেত। কিন্তু এখন কাজের ভিসা পাওয়া অনেকটা কঠিন হয়ে গিয়েছে। মূলত আগে যারা কাজের ভিসা করেছে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে ভিসাটি হাতে পেয়ে গিয়েছে।
কিন্তু এখন যেকোনো ব্যক্তি চাইলে কাজের ভিসা করতে পারবে না। ভিসা শুধুমাত্র তারাই পাবে যারা কোন কাজে অনেক বেশি দক্ষ। দক্ষতা সম্পন্ন কর্মী ছাড়া এখন কিরগিজস্তান ওয়ার্ক পারমিট ভিসা দেওয়া হচ্ছে না।
তাছাড়া ভিসা প্রসেসিং এর সময়সীমা আগের তুলনায় এখন অনেকটা বেড়েছে।নিম্নে কিরগিজস্তান কাজের ভিসা পাওয়ার জন্য কি কি ডকুমেন্ট লাগে তা উল্লেখ করা হলোঃ
- একটি বৈধ পাসপোর্ট লাগবে এবং পাসপোর্টে অবশ্যই ছয় মাসের বেশি মেয়াদ থাকতে হবে। তাছাড়া পাসপোর্টে একটি ফাঁকা পৃষ্ঠা থাকতে হবে।
- দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড ছবি লাগবে।
- কিরগিজস্তান নিয়োগকারীর সাথে সাইন করা অফিসিয়াল চুক্তিপত্র লাগবে।
- নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান থেকে সরকার অনুমোদিত ইনভাইটেশন লেটার লাগবে।
- ভিসা আবেদনকারী ব্যক্তির মেডিক্যাল সার্টিফিকেট লাগবে।
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট লাগবে।
- অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রয়োজন হয়।
- তাহলে ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট দিতে হবে।
আপাতত এই ডকুমেন্টগুলো থাকলেই আপনারা অনলাইনে এই ভিসার মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন বা যদি কেউ চান দূতাবাসের মাধ্যমে করবেন তাও পারবেন।
তবে এত ঝামেলা যদি কেউ করতে না চান তাহলে বাংলাদেশ সরকার স্বীকৃত ভাল কোন এজেন্সির মাধ্যমে কাজের ভিসা করতে পারেন।
কিরগিজস্থানে কোন কাজের চাহিদা বেশি?
কিরগিজস্তান যাওয়ার আগে সেখানে কোন কাজের চাহিদা ভালো ও কোন কাজ শিখে গেলে ভালো হবে এটা জানা খুবই জরুরী। এইদেশে সব থেকে বেশি কর্মী চাহিদা হয়ে থাকে গার্মেন্টস সেক্টরে।
বাংলাদেশ থেকে বেশিরভাগ যারা যায় তারা গার্মেন্টস সেক্টরে কোনো না কোনো কাজ করে থাকে। তাছাড়া যারা ট্রেইলারের কাজ করে থাকেন তাদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। নতুন কর্মী যারা রয়েছেন তারা বিল্ডিং কনস্ট্রাকশনের কাজ করে থাকেন।
কিরগিজস্তানে বিল্ডিং কনস্ট্রাকশনের কাজেরও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই যদি যেতে চান তাহলে এই কাজগুলোর মধ্যে থেকে যেকোনো কাজের উপর দক্ষতা অর্জন করে যেতে পারেন তাহলে অন্যদের তুলনায় একটু বেশি বেতন পাবেন।
কিরগিজস্থান কাজের ভিসা পেতে কত টাকা লাগে?
কিরগিজস্তান যাওয়ার খরচ অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম। কোন নিয়োগ গাড়ির প্রতিষ্ঠান যদি আপনাকে স্পন্সর করে থাকে তাহলে আপনার খরচ ১ লাখ এর মধ্যে হয়ে যাবে।
কেননা এ ক্ষেত্রে ওয়ার্ক পারমিটের খরচটা আপনার সম্পূর্ণ বেচে যাচ্ছে। স্পন্সর বাদে যদি কোন এজেন্সির মাধ্যমে ভিসা করেন তাহলে খরচ ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার মধ্যে হতে পারে।
অনলাইনের মাধ্যমে বা দূতাবাস থেকে সরাসরি ভিসা আবেদন করলে খরচটা আরো কম লাগবে এক্ষেত্রে ২ লাখ টাকার কমে চলে যেতে পারবেন।
কিরগিজস্তান কাজের বেতন কত?
দক্ষতা সম্পন্ন কর্মী যদি কিরগিজস্তান কাজের ভিসায় যান তাহলে তাদের বেতন অনেক ভালো হয়। গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি, কনস্ট্রাকশন সহ অন্যান্য সাধারণ কাজ যারা করে থাকেন তাদের বেতন রেঞ্জ হয়ে থাকে প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকার কাছাকাছি।
যারা টেইলারের কাজ করে থাকেন তারা প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন পেয়ে থাকেন। জেনারেল লেবারের বেতন প্রতি মাসে ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা।
কিরগিজস্তান থেকে অন্য কোন দেশে যাওয়া যাবে?
আপনি যদি কিরগিজস্তান ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে যান তাহলে সেখানে থাকতে পারবেন অন্য কোন দেশে যেতে পারবেন না। তবে আপনি এখান থেকে কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করে রাশিয়া, তুরস্ক, ও ইউরোপের দেশগুলোতে যেতে চান তাহলে অন্য ভিসা লাগবে।
আরও পড়ুনঃ ক্রোয়েশিয়া যাওয়ার উপায় | ক্রোয়েশিয়া যেতে কত টাকা লাগে
অন্য দেশের ভিসা পাওয়ার জন্য আপনি কিরগিজস্তান থেকেই দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। যেমন এখান থেকে খুব সহজেই রাশিয়া ও কাজাখস্থান যাওয়া যাবে। তবে অবৈধভাবে যাওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ধরা পড়লে শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন।
কিরগিজস্তান টাকার মান?
বাংলাদেশের থেকেও কিরগিজস্তান টাকার মান অনেক কম। বাংলাদেশের এক টাকা সমান কিরগিজস্তানের 0.72 KGS। বাংলাদেশের ৫০০ টাকা সমান কিরগিজস্তান ৩৫৭.৬৬ KGS।
শেষ কথা
কিরগিজস্তান কাজের ভিসা কিভাবে পাবেন ও ভিসা খরচ কত আশা করি উক্ত পোস্টটি পড়ার মাধ্যমে এই বিষয়ে পরিপূর্ণ ধারণা পেয়ে গিয়েছেন।
তারপরেও যদি কিরগিজস্তান ভিসা নিয়ে আরো কোন প্রশ্ন থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। ধন্যবাদ।



