আর্মেনিয়া যাওয়ার উপায় | আর্মেনিয়া যেতে কত টাকা লাগে

আর্মেনিয়া হলো পশ্চিম উত্তর এশিয়ার একটি রাষ্ট্র। আর্মেনিয়া দেশটির বৃহত্তম শহর ও রাজধানী হলো ইয়েরেভান। আর্মেনিয়া খুবই শান্তিপ্রিয় একটি দেশ। এটি এশিয়া এবং ইউরোপের মধ্যস্থলে অবস্থিত।আর্মেনিয়া যাওয়ার উপায় | আর্মেনিয়া যেতে কত টাকা লাগেসারা বিশ্ব থেকে অনেক ছাত্র-ছাত্রী প্রতিবছর আর্মেনিয়াতে পড়াশোনা করার উদ্দেশ্যে যাই। অনেকে সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট টাইম জব করে নিজেদের খরচ চালিয়ে নিতে পারেন।

যারা উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন এবং আর্মেনিয়া যেতে চান তাদের অবশ্যই কিছু বিষয় সম্পর্কে জানতে হবে। আজকের পোস্টে আর্মেনিয়া স্টুডেন্ট ভিসা ও কাজের ভিসা নিয়ে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করবো।

আর্মেনিয়া যাওয়ার উপায়?

বাংলাদেশ থেকে আর্মেনিয়া ওয়ার্ক পারমিট ও স্টুডেন্ট ভিসার মাধ্যমে যেতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাদেরকে নির্দিষ্ট কিছু শর্তাদি পূরণ করা লাগবে। এই শর্তাদি গুলো পূরণ করা না গেলে কোনভাবেই বাংলাদেশ থেকে আর্মেনিয়া যাওয়ার জন্য ভিসা পাবেন না।

নিম্নে বাংলাদেশ থেকে আর্মেনিয়া যাওয়ার জন্য এই দুই ধরনের ভিসা পেতে কি কি করা লাগবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দেওয়া হলোঃ

আর্মেনিয়া স্টুডেন্ট ভিসা

আর্মেনিয়া স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার জন্য কিছু কাজ করতে হবে। এই কাজগুলো যদি সঠিকভাবে সম্পূর্ণ করতে পারেন, তাহলে অবশ্যই স্টুডেন্ট ভিসা পেয়ে যাবেন।

আর্মেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হতে হবে

স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ধাপ হলো আর্মেনিয়ার যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির জন্য আবেদন করুন। আপনি যখন ভর্তি হয়ে যাবেন তখন তারা আপনাকে অফার লেটার পাঠাবে।

ডকুমেন্ট প্রস্তুত করতে হবে

অফার লেটার হাতে পেয়ে গেলে এবার কিছু ডকুমেন্ট আপনাদেরকে প্রস্তুত রাখতে হবে। যেমন:

  • একটি বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে ও ছয় মাসের বেশি মেয়াদ থাকতে হবে।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার থাকতে হবে।
  • হোস্টেল বা বাসা বুকিং করেছেন তার প্রমাণপত্র লাগবে।
  • মেডিকেল সার্টিফিকেট লাগবে অর্থাৎ আপনি যে সম্পূর্ণভাবে সুস্থ তার প্রমাণ দিতে হবে।
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট লাগবে যার মাধ্যমে বোঝা যাবে আপনার নামে মারাত্মক অপরাধ নেয়।
  • দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে ও ট্রাভেল ইন্সুরেন্স লাগবে এক বছরের জন্য।

যেহেতু বাংলাদেশ আর্মেনিয়ার কোন দূতাবাস নেই সেক্ষেত্রে আপনাকে ভারতে অবস্থিত আর্মেনিয়া দূতাবাস থেকে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।

তাছাড়া বাংলাদেশে অনেক এজেন্ট রয়েছে তাদের মাধ্যমে স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন করতে পারেন। এক্ষেত্রে ভর্তি ডকুমেন্ট তৈরি ও ভিসা প্রসেসিং মিলিয়ে সাধারণত ৬০ থেকে ৯০ দিনের মতো সময় লাগতে পারে।

আর্মেনিয়া কাজের ভিসা | আর্মেনিয়ার ভিসা কিভাবে পাওয়া যায়

আর্মেনিয়া থেকে সরাসরি বাংলাদেশীদের জন্য কাজের ভিসা দেওয়া হয় না। যদি বাংলাদেশ থেকে আর্মেনিয়া যেতে হয় তাহলে প্রথম অবস্থায় আপনাদেরকে ওয়ার্ক পারমিট বা রেসিডেন্সি ভিসা নিতে হবে।

তবে এক্ষেত্রে কিছু কাজ রয়েছে এগুলো সম্পর্কে অবশ্যই জানা উচিত। প্রথম অবস্থায় আর্মেনিয়ার কোন কোম্পানি থেকে চাকরির অফার লেটার পেতে হবে। তখন কোম্পানি আপনার ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করবে।

ওয়ার্ক পারমিট যখন পেয়ে যাবেন তখন আর্মেনিয়া রেসিডেন্সি ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। অফার লেটার পাওয়ার পর কি কি ডকুমেন্ট লাগবে কাজের ভিসা নিতে হলে তা উল্লেখ করা হলোঃ

  • বৈধ পাসপোর্ট লাগবে এবং পাসপোর্টে অবশ্যই ছয় মাসের বেশি মেয়াদ থাকতে হবে।
  • শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট লাগবে এবং অবশ্যই ইংরেজিতে অনুবাদ করা জানতে হবে।
  • ভিসা আবেদনকারী ব্যক্তির অবশ্যই পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট লাগবে।
  • মেডিকেল সার্টিফিকেট প্রয়োজন হবে।
  • নিজের নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে এবং ব্যাংক স্টেটমেন্ট লাগবে।
  • আবেদন কারী ব্যক্তির দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে।

আপাতত এই ডকুমেন্টগুলো যদি থাকে তাহলে কোন এজেন্সি অথবা ভারতে অবস্থিত আর্মেনিয়া এম্বাসিতে গিয়ে খুব সহজেই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

আর্মেনিয়ার ভিসা পেতে কত সময় লাগে?

বাংলাদেশ থেকে আর্মেনিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পেতে ১ থেকে ২ মাসের মতো সময় লেগে থাকে। এখানে সময় কম বেশি হয়ে থাকে আপনি কোন মাধ্যমে ভিসার জন্য আবেদন করছেন এটার উপর নির্ভর করে।

যেহেতু আর্মেনিয়া দূতাবাস ভারতে অবস্থিত তাই বাংলাদেশীদের জন্য একটু বেশি সময় লাগে। তবে যত দেরি হোক না কেন চার থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে ভিসা হাতে পেয়ে যাবেন।

আর্মেনিয়া যেতে কত টাকা লাগে | আর্মেনিয়া ভিসা খরচ

আর্মেনিয়া ভিসা প্রসেসিং বা বাংলাদেশ থেকে আর্মেনিয়া কাজের ভিসায় যেতে কত খরচ লাগে এটা সম্পর্কে অবশ্যই সুস্পষ্ট ধারণা থাকা উচিত।

নিজে সরাসরি দিল্লিতে অবস্থিত আর্মেনিয়া এম্বাসি থেকে পারমিট ভিসা করেন তাহলে খরচ পড়বে ২ লাখ টাকার মত। আর এজেন্সির মাধ্যমে আর্মেনিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা করলে এক্ষেত্রে খরচটা তিন লাখ টাকার বেশি হয়ে যাবে।

তবে অবশ্যই এক্ষেত্রে বিশ্বস্ত কোন এজেন্সির মাধ্যমে করতে হবে। কোন দালালের মাধ্যমে আর্মেনিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা করবেন না কেননা এর মাধ্যমে সময় ও অর্থ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

আর্মেনিয়াতে কোন কাজের চাহিদা বেশি?

আর্মেনিয়াতে যখন ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে যাবেন তখন অবশ্যই কোন কাজের চাহিদা বেশি এটা সম্পর্কে ধারণা রাখাটা খুবই জরুরী ।

যারা প্রবাসী শ্রমিক রয়েছেন তারা অনেকেই আর্মেনিয়াতে হোটেল ও রেস্টুরেন্টে কাজ করে থাকেন। তাছাড়া অন্যান্য কাজের মধ্যে রয়েছে কনস্ট্রাকশন হেল্পার, প্লাম্বারের কাজ, ক্লিনার ও কৃষিকাজ।

যারা কৃষি কাজ করে থাকেন তারা সাধারণত ফসল তুলেন ও বাছাই করে থাকেন। বাংলাদেশী অনেকেই এমন রয়েছে যারা শুধুমাত্র আর্মেনিয়াতে গবাদি পশু দেখাশোনার কাজ করে থাকেন।

আর্মেনিয়াতে কাজের বেতন কত?

বাংলাদেশ থেকে আর্মেনিয়াতে বেশিরভাগই স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে যায়। স্টুডেন্ট ভিসায় গিয়ে পড়াশোনা না করে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকেন। এখানে বেতনের বিষয়টা নির্ভর করে আপনি আর্মেনিয়া তে কি ধরনের কাজ করছেন সেটার উপর।

আরও পড়ুনঃ পাকিস্তান যাওয়ার উপায় | পাকিস্তান যেতে কত টাকা লাগে

হোটেল বা রেস্টুরেন্টে যারা কাজ করে থাকেন তারা প্রতি মাসে ৫০০ থেকে ৬০০ ইউরো বেতন পেয়ে থাকেন। যারা কন্সট্রাকশন কর্মী রয়েছে তারা প্রতি মাসে ৫০০ ইউরো বেতন পান।

সব থেকে বেশি বেতন পায় আর্মেনিয়াতে গিয়ে যারা ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ও গ্রাফিক্সের কাজ করে থাকেন। এরা প্রতিমাসে ১৫০০ থেকে ২০০০ ইউরো বেতন পান।

শেষ কথা

আশা করি ইতিমধ্যে আর্মেনিয়া যাওয়ার উপায় ও আর্মেনিয়া যেতে কি কি লাগে এই বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা পেয়ে গিয়েছেন।

তারপরেও যদি এই নিয়ে কোন ধরনের প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট এর মাধ্যমে জানিয়ে দিবেন।

Share Now

This website is mainly created to provide information about travel, travel packages, travel agencies, travel visas, travel Bangladesh, and your travel to Bangladesh. We will always try to give you accurate information.

Leave a Comment