ঝালকাঠি জেলার ইতিহাস | ঝালকাঠি কিসের জন্য বিখ্যাত

ঝালকাঠি কিসের জন্য বিখ্যাত তা বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আপনার জানা অত্যন্ত জরুরী। আপনি যদি ঝালকাঠি জেলার বিখ্যাত হওয়ার কারণ গুলো জেনে না থাকেন।ঝালকাঠি জেলাতবে দুশ্চিন্তা না করে এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পডুন। কেননা এই আর্টিকেলে আমরা ঝালকাঠি জেলার সম্পর্কে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, বিখ্যাত খাবার ও দর্শনীয় স্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

ঝালকাঠি জেলার ইতিহাস?

ঝালকাঠি বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগের একটি অন্যতম জেলা। এটি ১৯৮৪ সালে পটুয়াখালী জেলা থেকে আলাদা হয়ে ঝালকাঠি জেলা সৃষ্টি হয়। ঝালকাঠি একসময় চন্দ্রকেতুগড় রাজ্যের অংশ ছিল।

যেটি সপ্তম শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও এই অঞ্চলটি মুঘল, ব্রিটিশ এবং জাপানিদের দ্বারা শাসিত হয়েছিল।

ঝালকাঠি জেলার ভৌগোলিক অবস্থান?

বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ঝালকাঠি জেলা অন্যতম। দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের বরিশাল বিভাগের একটি জেলা হচ্ছে ঝালকাঠি। ঝালকাঠি জেলার পূর্ব ও উত্তরে বরিশাল জেলা, পশ্চিমে পিরোজপুর জেলা এবং দক্ষিণে বিষখালী নদী ও বরগুনা জেলা অবস্থিত। ঝালকাঠি জেলার মোট আয়তন ৭০৬.৭৭ বর্গ কিলোমিটার।

আরও পড়ুনঃ লালমনিরহাট জেলার ইতিহাস | লালমনিরহাট কিসের জন্য বিখ্যাত

ঝালকাঠি জেলার নামকরণ?

ঝালকাঠি নামকরণের ইতিহাস বেশ পুরনো। ধারণা করা হয়, মধ্যযুগ ও তার পরবর্তী সময়ে সুগন্ধা, সন্ধ্যা, ধানসিঁড়ি এবং বিষখালী নদীর তীরবর্তী এলাকায় জেলেরা বসতি স্থাপন করেন। আর এ অঞ্চলের প্রাচীন নাম ছিল মহারাজগঞ্জ। তৎকালীন মহারাজগঞ্জের ভূ-স্বামী শ্রী কৈলাশচন্দ্র জমিদারি বৈঠক সম্পাদন করতেন।

এবং পরবর্তীতে তিনি এ অঞ্চলে একটি গঞ্জ বা বাজার প্রতিষ্ঠা করেন। আর সেই গঞ্জে জেলেরা জালের কাঠি বিক্রি করত। এ জালের কাঠি থেকে ধীরে ধীরে একটা সময় ঝালকাঠি নামকরণ করা হয় বলে ধারণা করা হয়।

ঝালকাঠি জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত?

প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশের আবার আসিব ফিরে কবিতায় উল্লেখ্য স্বপ্নের ধানসিঁড়ি নদীর প্রবাহিত অঞ্চল হচ্ছে এই ঝালকাঠি। জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর ঝালকাঠি।

এই জেলায় রয়েছে প্রচুর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার দৃশ্যময় স্থান। যা কেড়ে নেয় দর্শনার্থীদের ভ্রমণপিয়াসী হৃদয়। তাহলে চলুন আমরা সেরকম কিছু দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জেনে আসি।

ঝালকাঠি জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ?

মিয়া বাড়ি মসজিদ

মিয়া বাড়ি মসজিদ একটি সুন্দর ও ঐতিহাসিক মসজিদ। যা ১৮ শতকে নির্মিত হয়েছিল বলে যানা যায়। মসজিদটি ভারুকাঠি গ্রামে অবস্থিত এবং এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র।

ভাসমান বাজার

ঝালকাঠির ভাসমান বাজার একটি ঐতিহাসিক আকর্ষণীয় স্থান। বর্ষাকালে প্রতিদিন সকালে পেয়ারা চাষীরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে নৌকায় ভিড় জমায়। এই বাজারটি রঙিন এবং প্রাণবন্ত দর্শনীয় স্থান, এবং এটি সংস্কৃতির অভিজ্ঞতার একটি দুর্দান্ত উপায়।

হযরত দাউদ শাহ মাজার

হজরত দাউদ শাহ মাজার হচ্ছে একটি মাজার। যা সুফি সাধক হযরত দাউদ শাহকে উৎসর্গ করা হয়। এই মাজারটি চারঘাটারকান্দা গ্রামে অবস্থিত। এবং এটি সারা বাংলাদেশের মুসলমানদের কাছে একটি জনপ্রিয় তীর্থস্থান।

কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ি

কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ি একটি সুন্দর ও ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান। যা ১৮ শতকের শুরুর দিকে নির্মিত হয়েছিল। প্রাসাদটি এখন একটি যাদুঘর এবং এতে জমিদার যুগের কিছু নিদর্শন ও আসবাবপত্রের সংগ্রহ রয়েছে।

সিটি পার্ক

সিটি পার্ক হচ্ছে একটি সুন্দর এবং সুপরিচালিত পার্ক। যা ঝালকাঠি শহরের একদম কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। পার্কটি আরাম করার এবং অবসর সময় কাটানোর জন্য একটি দুর্দান্ত জায়গা। এটিতে একটি খেলার মাঠ, একটি সুইমিং পুল এবং একটি রেস্তোরাঁ রয়েছে৷

আরও পড়ুনঃ রাজবাড়ী জেলার ইতিহাস | রাজবাড়ী কিসের জন্য বিখ্যাত

ঝালকাঠি জেলার বিখ্যাত খাবার?

নারকেল

এটি ঝালকাঠি জেলার একটি জনপ্রিয় খাবার। গরমের সময় তৃষ্ণার্ত মানুষের জন্য অনেক উপকার এই নারকেল। সমুদ্র সৈকতে ঘুড়ার সময় অনেকেই এই নারকেল খেয়ে থাকে। এটি এখানে উচ্চ ফলনশীল বলে একে ঝালকাঠি বিখ্যাত খাবার বলা হয়েছে।

কাঁঠাল

বাংলাদেশের জাতীয় ফল হচ্ছে কাঁঠাল। আর এই কাঁঠালেই ঝালকাঠি জেলাকে বিখ্যাত করে তুলেছে। এ জেলায় উৎপাদিত কাঁঠাল অত্যন্ত সুস্বাদু ও সুগন্ধিময় হয়ে থাকে। আর এ কারণেই অন্যান্য জেলের থেকে এ জেলার কাঁঠাল সবাই পছন্দ করে থাকে।

ইলিশ মাছের পদ

বরিশাল বিভাগের অন্যান্য জেলার মতো ঝালকাঠি জেলাও পদ্মা ও মেঘনার ইলিশ খুব বিখ্যাত। এ জেলায় ইলিশ ভাজা, ইলিশ ভুনা, পোলাও বা সরষে ইলিশের মতো বিভিন্ন পদ তৈরি করা হয়ে থাকে।

ইলিশ মাছ

ঝালকাঠি জেলা নদী অঞ্চল হওয়ায় এখানকার ইলিশ মাছ খুবই সুস্বাদু হয়ে থাকে। ইলিশ দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন পদ যেমনঃ সর্ষে ইলিশ, ভাজা ইলিশ ইত্যাদি তৈরি করা হয়।

খেজুর সরের পায়েস

ঝালকাঠি জেলার আরেকটি জনপ্রিয় খাবার হচ্ছে খেজুর সরের পায়েস। এটি এ জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার। ঝালকাঠি জেলায় পায়েস যেকোন উৎসব অনুষ্ঠানের তৈরি করা হয়।

ঝালকাঠি জেলার বিখ্যাত ব্যক্তি?

কামিনী রায়

তিনি একজন প্রথিতযশা বাঙালি মহিলা কবি, সমাজকর্মী এবং নারীবাদী লেখিকা ছিলেন। তিনি ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর ঝালকাঠি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। এবং ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৩৩ সালে ঝাড়খণ্ড রাজ্যে মৃত্যুরবণ করেন।

তপন রায়চৌধুরী

অধ্যাপক তপন রায়চৌধুরী একজন ভারতীয় ইতিহাসবত্তা৷ যিনি ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতবর্ষের ইতিহাস রচনার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনি ৮ মে ১৯২৬ সালে ঝালকাঠি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। এবং ২৬ নভেম্বর ২০১৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

শামসুদ্দীন আবুল কালাম

তিনি একজন বাঙালি কথাসাহিত্যিক ও উপন্যাসিক ছিলেন। তিনি ১৯৬৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। ১৯২৬ সালের আগস্টে তিনি ঝালকাঠি জেলার কামদেবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এবং ১০ জানুয়ারি ১৯৯৭ সালে ইতালির রোম এ মৃত্যুবরণ করেন।

আবুল কাশেম ফজলুল হক

তিনি একজন বাঙালি আইনজীবী, লেখক এবং সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে একজন বাঙালি কূটনীতিক হিসেবে পরিচিত লাভ করেন।

আযীযুর রহমান কায়েদ

তিনি বাংলাদেশের অন্যতম ইসলামি ব্যক্তিত্ব, পীর ও ধর্ম সংস্কারক ছিলেন। তিনি ১ জানুয়ারি ১৯১১ সালে ঝালকাঠি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। এবং ২৮ এপ্রিল ২০০৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

ঝালকাঠি জেলার আয়তন কত?

ঝালকাঠি জেলার মোট আয়তন হচ্ছে ৭০৬.৭৭ বর্গ কিলোমিটার। এবং মোট জনসংখ্যা হচ্ছে ৬,৮২,৬৬৯ জন।

ঝালকাঠি জেলার উপজেলা কয়টি?

ঝালকাঠি জেলায় মোট উপজেলা রয়েছে ৪টি। যেমনঃ

  • ঝালকাঠি সদর
  • কাঁঠালিয়া
  • রাজাপুর
  • নলছিটি

শেষ কথা

বাংলাদেশ সৌন্দর্যের এক অপরূপ উদাহরণ। এখানে ৬৪ জেলার মধ্যে সৌন্দর্যের দিক থেকে কোন জেলা এগিয়ে আবার কোন জেলা তুলনামূলক কম জনপ্রিয় রয়েছে।

এসব কিন্তু নির্ভর করে ব্যক্তি মনের চাহিদা এবং সেই জেলার সার্বিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে। এছাড়াও আপনার জ্ঞানকে প্রসারিত করতে পটুয়াখালী কিসের জন্য বিখ্যাত এ সম্পর্কে পড়তে পারেন। ঝালকাঠি জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত তা হয়তো এতক্ষণে স্পষ্টরূপে বুঝে গেছেন।

আপনাদের কোন প্রশ্ন থাকলে দয়া করে কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন। সকলের সুস্বাস্থ্য কামণা করে আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ্ হাফেজ

Share Now

This website is mainly created to provide information about travel, travel packages, travel agencies, travel visas, travel Bangladesh, and your travel to Bangladesh. We will always try to give you accurate information.

Leave a Comment