ফেনী জেলার ইতিহাস | ফেনী কিসের জন্য বিখ্যাত

ফেনী কিসের জন্য বিখ্যাত তা বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আপনার জানা অত্যন্ত জরুরী। আপনি যদি ফেনী জেলার বিখ্যাত হওয়ার কারণ গুলো জেনে না থাকেন। তবে দুশ্চিন্তা না করে এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পডুন।ফেনী জেলাকেননা এই আর্টিকেলে আমরা ফেনী জেলা সম্পর্কে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, বিখ্যাত খাবার ও দর্শনীয় স্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

ফেনী জেলার ইতিহাস?

ফেনী চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্ভুক্ত একটি বৃহত্তর জেলা। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। এ জেলার নামকরণ নিয়েও রয়েছে এক বিরাট ইতিহাস। প্রথমত ফেনী জেলার পুরাতন নাম ছিল শমশের নগর। এই ফেনী জেলার নাম নিয়ে নানান মতবাদ রয়েছে।

একপক্ষ ধারণা করে যে, ফেনী নদীর নামানুসারে এ অঞ্চলের নাম রাখা হয়েছে ফেনী। কিন্তু আবার মধ্যযুগে কবি সাহিত্যিকদের লেখায় একটি বিশেষ নদীর স্রোতধারা ও ফেরী পারাপারের ঘাট হিসেবে ফনী শব্দের ব্যবহার পাওয়া যায়।

পরে তা ধারনা করা হয় আদি শব্দ ফনী মুসলমান কবি ও সাহিত্যিকদের ভাষায় ফেনীতে পরিণত হয়েছে। ১৯৮৪ সালের আগে এটি নোয়াখালী জেলার একটি মহকুমা ছিল। কিন্তু ১৯৮৪ সালে এটিকে জেলা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

প্রশাসনিকভাবে এটি একই সাথে ফেনী জেলা এবং ফেনী সদর উপজেলা। ২২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ছোট এই জেলাটির জনসংখ্যা ১৫৬,৯৭১ জন। ফলে ফেনী জেলা এখন বাংলাদেশের ২৭তম বৃহত্তর শহর।

ফেনী জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত?

উন্নয়ন ও ঐতিহ্যের কারণে এই ফেনী জেলাটি সারাদেশে বিখ্যাত। দ্রুত বর্ধনশীল নগরাঞ্চলগুলোর মধ্যে অন্যতম ফেনী এই জেলা। এ জেলার ইতিহাস সংস্কৃতি ও সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের কৃষ্টিতে পরিপূর্ণ। আনুমানিক দশ হাজার বছর আগে এ জায়গায় লোকবসতি ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।

বৃহত্তর নোয়াখালীর মধ্যে পূর্ব দিকের ফেনী অঞ্চলকে ভূ-খণ্ড হিসেবে অধিকতর প্রাচীন বলে পণ্ডিতগণ এতে মত প্রকাশ করেছেন। ফেনীর পূর্বভাগের ছাগলনাইয়া উপজেলার শিলুয়া গ্রামের মধ্যে রয়েছে এক প্রাচীন ঐতিহাসিক শিলামূর্তির ধ্বংসাবশেষ।

প্রকাশ শিলামূর্তির অবস্থানের কারণে স্থানটি শিলুয়া বা শিল্লা নামেও পরিচিত হয়েছে। প্রাচীন কালে হয়তো এখানে বৌদ্ধ ধর্ম ও কৃষ্টির বিকাশ ঘটেছিল।

ফেনী জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ?

ভৌগলিক অবস্থানের কারণে ফেনী জেলায় বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক নিদর্শনীয় ও সমৃদ্ধ পর্যটন এলাকা রয়েছে। এছাড়াও এই জেলায় সরকারি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নির্মাণ করা হয়েছে বেশ কয়েকটি পর্যটন কেন্দ্র।

আজকে আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরবো ফেনী জেলার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দর্শনীয় স্থান সর্ম্পকে। তাহলে চলুন আর কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক। যেমনঃ

ফেনী নদী

আমাদের দেশ নদী মাত্রিক দেশ, তা আমরা সবাই জানি। ইহারে এক অংশবিশেষ হচ্ছে ফেনী নদী, এটি বাংলাদেশের পরিচিত নদী গুলার মধ্যে অন্যতম। নদীটি ফেনী, খাগড়াছড়ি এবং চট্টগ্রাম জেলার উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে।

এই নদীটির মূল উৎস হচ্ছে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে। এই ফেনী নদীতে সারা বছরেই নৌকায় চলাচল করা যায়। এবং এই নদীর দুপাশের নয়নাভিরাম দৃশ্য এখানে ঘুরতে আসা সকল পর্যটকদের মুগ্ধ করবে।

বিলোনিয়া স্থলবন্দর ফেনী

বিলোনিয়া স্থলবন্দর ফেনীর একটি অন্যতম সুন্দর, প্রকৃতি সৌন্দর্যময় বন্দর। এটি আমাদের দেশের ১৭ তম স্থলবন্দর হিসেবে বিবেচিত। ২০০৯ সালের ৪ অক্টোবর এ এই স্থলবন্দরটি সম্পূর্ণভাবে চালু করা হয়।

বিজয় সিংহ দিঘী

জেলার ঐতিহ্যবাহী সকল নিদর্শন গুলোর মধ্যে বিজয় সিংহ দিঘি সবথকে বেশি উল্লেখযোগ্য। এই দিঘিটি প্রাচীন বাংলার সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা বিজয় সেন খনন করেন। ফেনী শহর থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার পশ্চিমে ফেনী সার্কিট হাউজের সামনে এটি অবস্থিত।

প্রতাপপুর জমিদার বাড়ী

এই প্রাচীন সম্পদশালী জেলার একটি অন্যতম ঐতিহ্যবাহী পুরাকীর্তি হচ্ছে প্রতাপপুর জমিদার বাড়ী। ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলায় প্রতাপুর গ্রামে অবস্থিত এই প্রাচীন ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ীটি অবস্থিত।

চাঁদগাজী মসজিদ

মোগল আমলে ফেনী অঞ্চলে একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি ছিলেন চাঁদগাজী ভূঞা। তার নামানুসারে ছাগলনাইয়া উপজেলার মাটিয়া গোধা গ্রামে প্রাচীন ইতিহাসের এক সাক্ষী হিসাবে অবস্থান করছে চাঁদগাজী ভূঞা মসজিদ।

শর্শাদী শাহী মসজিদ

ফেনী জেলার প্রাণকেন্দ্র অতিতের সেই মোঘল শাসন আমলে ইসলামি স্থাপত্য শৈলির একমাত্র নিদর্শন হিসেবে এখন বিদ্যমান রয়েছে শর্শাদী শাহী মসজিদ। এই মসজিদটি ধারণা করা হয় ৪৫০ বছরের পুরোনো।

আপনারা আরও জেনে অবাক হবেন যে, বর্তমান সময়ে এত পুরু দেয়ালের নির্মাণ শৈলির কথা কেউ কল্পনাও করতে পারে না। মসজিদটির দেয়ালে রয়েছে নানান কারুকার্য খচিত নকশা।

ফেনী জেলার বিখ্যাত খাবার?

মহিষের দুধের ঘি

মহিষের দুধ সংগ্রহ করে এরপর উনুনে আগুন জ্বালিয়ে পাতিলে দুধ গুলো দীর্ঘক্ষণ জ্বাল দিয়ে বিভিন্ন প্রসেসিং এরপর দুধ থেকে ঘি আলাদা করা হয়। ফেনী জেলায় বানিজ্যিক ভাবে মহিষের দুধের ঘি তৈরি করা হয়ে থাকে।

মহিষের দুধে উচ্চমাত্রায় কোলেস্টেরল না থাকায় এই ঘি এ কোন ধরণের ক্ষতি হয় না। তাই এই ঘি ফেনীসহ সারাদেশে বিখ্যাত এবং চাহিদাও অনেক বেশি।

খন্ডলের মিষ্টি

ফেনী জেলার মিষ্টান্ন জাতীয় খাবার এর মধ্যে সবথেকে ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় খাবার হচ্ছে খন্ডলের মিষ্টি। এই খন্ডলের মিষ্টির ইতিহাস প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো।

খিলি পিঠা

ফেনী জেলার একটি ঐতিহ্যবাহি মজাদার ও জনপ্রিয় পিঠা হচ্ছে খিলি পিঠা। কাঁঠাল পাতায় মুড়িয়ে এরপর গরম পানির ভাষ্পের তাপে তৈরি করা হয়, এই খিলি পিঠা। এই পিঠা তৈরি করার পর দেখতে পানের খিলির মতো হয়ে আছে আর এই জন্য এই পিঠার নামকরণ করা হয়েছে খিলি পিঠা।

পানতুয়া পিঠা

শীতকালে যখন দেশের প্রতিটা জেলায় জেলায় ঘরে ঘরে পিঠা পুলি খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। তখন ফেনী জেলায় বিকেলের নাশতায় হালকা খাবার হিসেবে এই পিঠা তৈরি করা হয়ে থাকে। এটি অত্যান্ত মজাদার ও মুখরোচক খবার, যা এ জেলার ছোট থেকে বড় সবাই খুব তৃপ্তির সাথে খায়।

ফেনী জেলার বিখ্যাত ব্যক্তি?

শামসুল হুদা

শামসুল হুদা ছিলেন ভাষাসৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, একুশে পদকপ্রাপ্ত এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদকপ্রাপ্ত। এছাড়াও তিনি রাজনৈতিক চিন্তাবিদ ও কলামিস্ট ছিলেন।

আবদুল আউয়াল মিন্টু

তিনি অন্যান্য বিখ্যাত ব্যক্তির মতো একই সঙ্গে অনেকেগুলো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন। তিনি এফবিসিসিআই সাবেক প্রেসিডেন্ট, ব্যবসায়ী, শিল্পপতি এবং এজকন বাংলাদেশী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

তাবিথ আউয়াল

তাবিথ আউয়াল একজন দেশের অন্যতম রাজনীতিবিদ এবং বাফুফে সভাপতি। তিনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এর প্রেসিডেন্ট এর দায়িত্ব পালন করছেন।

সাবের হোসেন চৌধুরী

তিনি বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত রাজনীতিবিদ। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য এবং সাবেক বিসিবি সভাপতি। তিনি বিসিবি অর্থাৎ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বলা হতো তার সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট অনেক উন্নত করছে।

ফেনী জেলার আয়তন কত?

ফেনী জেলার মোট আয়তন হচ্ছে ৯ ২৮,৩৪ বর্গ কিলোমিটার। এবং মোট জনসংখ্যা হচ্ছে ১,৫৬,৯৭১ জন।

ফেনী জেলার উপজেলা কয়টি?

ফেনী জেলায় মোট উপজেলা রয়েছে ৬টি। যেমনঃ

  • ফেনী সদর
  • ছাগলানাইয়া
  • ফূলগাজী
  • পরশুরাম
  • দাগনভূঞা
  • সোনাগাজী

শেষ কথা

বাংলাদেশ সৌন্দর্যের এক অপরূপ উদাহরণ। এখানে ৬৪ জেলার মধ্যে সৌন্দর্যের দিক থেকে কোন জেলা এগিয়ে আবার কোন জেলা তুলনামূলক কম জনপ্রিয় রয়েছে। এসব কিন্তু নির্ভর করে ব্যক্তি মনের চাহিদা এবং সেই জেলার সার্বিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে।

এছাড়াও আপনার জ্ঞানকে প্রসারিত করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কিসের জন্য বিখ্যাত এ সম্পর্কে পড়তে পারেন। ফেনী জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত তা হয়তো এতক্ষণে স্পষ্টরূপে বুঝে গেছেন।

আপনাদের কোন প্রশ্ন থাকলে দয়া করে কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন। সকলের সুস্বাস্থ্য কামণা করে আজকের মত এখানে বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ্ হাফেজ

Share Now

This website is mainly created to provide information about travel, travel packages, travel agencies, travel visas, travel Bangladesh, and your travel to Bangladesh. We will always try to give you accurate information.

Leave a Comment