ফিলিস্তিন হলো মধ্যপ্রাচ্যের নির্বাসনঘোষিত একটি রাষ্ট্র। মুসলমানদের পবিত্র আল আকসা মসজিদ এই ফিলিস্তিনে অবস্থিত। ফিলিস্তিন মানুষ নিজেদের দেশে পরবাসী হয়ে রয়েছে বছরের পর বছর।
ফিলিস্তিন ভিসা পাওয়ার উপায় বা ফিলিস্তিনে যাওয়ার জন্য কি কি করা লাগে এই পোস্টে এই নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকছে। তাহলে চলুন দেরি না করে জেনে নেওয়া যাকঃ
ফিলিস্তিন যেতে কি ভিসা লাগে?
ফিলিস্তিন ভ্রমণ করতে হলে অবশ্যই ভিসা প্রয়োজন হবে। তবে ফিলিস্তিনের পরিস্থিতি বেশিরভাগ সময়ই অস্বাভাবিক থাকে যার কারণে বাইরের দেশ থেকে টুরিস্টরা ফিলিস্তিনে যাওয়ার জন্য তেমন আগ্রহ দেখান না।
বাংলাদেশী নাগরিকদের ফিলিস্তিন যেতে হলে আগাম ভিসা আবেদন করতে হবে যা প্যালেস্টাইন দূতাবাস বা ইমিগ্রেশন অফিস থেকে সংশোধনীয় ভাবে পাওয়া যায়।
ঢাকায় ফিলিস্তিনের দূতাবাস আছে যেখান থেকে খুব সহজেই ভিসা আবেদন করা যায়। বর্তমানে ফিলিস্তিনে যেতে হলে বাংলাদেশী নাগরিকদের ইসরাইলি B/2 Visitor Visa নিতে হবে।
কেননা ফিলিস্তিনে প্রবেশ করতে হলে আপনাকে ইসরাইল হয়ে যেতে হবে। তাছাড়া ফিডিস্তিনের নিজস্ব কোন বিমানবন্দর নেই যার কারণে ইসরাইল ও জর্ডানের মধ্য থেকে যেকোনো একটি দেশ থেকে যেতে হবে।
ফিলিস্তিনের ভিসা কিভাবে পাওয়া যায়?
বাংলাদেশ থেকে যদি সরাসরি ফিলিস্তিন যেতে হয় তাহলে তার বৈধ কোন উপায় নেই। কেননা ফিলিস্তিন থেকে কোন স্বতন্ত্র ভিসার ব্যবস্থা এখনো পর্যন্ত চালু নেই।
কারণ ফিলিস্তিনের সীমান্তে প্রবেশপথ ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করে থাকে ইসরাইল। তাই আপনাকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে যদি ফিলিস্তিনে যেতে হয় তাহলে ইসরাইলি (B/2 ট্যুরিস্ট ভিসা) নিয়ে ফিলিস্তিনে যেতে হবে।
বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ইসরাইলের ভিসার জন্য আবেদন করা যাবে না কেননা বাংলাদেশে ইসরাইলের কোন দূতাবাস নেই। এইজন্য ভারতের নয়া দিল্লিতে অবস্থিত ইসরাইল দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন করা যেতে পারে।
ভারত থেকে ইসরাইল ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে সর্বপ্রথম এই ওয়েবসাইটে গিয়ে অ্যাপয়েনমেন্ট বুক করতে হবে। অনলাইনে আবেদন ফরমটি পূরণ করে আপনাদেরকে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে।
পরবর্তীতে যখন ইন্টারভিউ নেওয়া হবে তখন ইন্টারভিউ হলে উপস্থিত থাকতে হবে। তারপরে ভিসা ফি ও VFS সার্ভিস চার্জ জমা দিতে হবে।
ফিলিস্তিনের ভিসা পেতে কি কি ডকুমেন্ট লাগে?
ইতিমধ্যে বলা হয়েছে যে ফিলিস্তিনের জন্য সরকারি কোনো ভিসা বাংলাদেশ থেকে ইস্যু করা হয় না। ফিলিস্তিনে যেতে হলে ইসরাইলের পেটুক ভিসা নিতে হবে এর জন্য যা যা ডকুমেন্ট লাগবে তার নিচে উল্লেখ করা হলোঃ
- একটি বৈধ পাসপোর্ট লাগবে এবং পাসপোর্টে অবশ্যই ছয় মাসের বেশি মেয়াদ থাকতে হবে।
- সম্প্রতি তোলা দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড ছবি লাগবে।
- অনলাইন দূতাবাস থেকে নিয়ে ভিসা আবেদন ফরম লাগবে।
- আপনি কেন ফিলিস্তিন যেতে চান এর জন্য একটি কভার লেটার লাগবে।
- সম্প্রতি তিন থেকে ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট এর ফটোকপি লাগবে।
- অর্থাৎ আপনি সেখানে গিয়ে যে খরচ মেটাতে সক্ষম হবেন এর প্রমাণ পত্র।
- আপনি একজন ব্যবসায়ী হয়ে থাকলে ট্রেড লাইসেন্স লাগবে।
ফিলিস্তিন ভিসা প্রসেসিং হতে কতদিন সময় লাগে?
ফিলিস্তিন যাওয়ার জন্য ইসরাইলের বিটু ভিসা নিতে হবে। ইসরাইলের বিটু ভিসা পেতে ভারত থেকে যদি ফিলিস্তিনে যাওয়ার জন্য আবেদন করেন তাহলে সময় লাগবে ১৫ থেকে ২১ কার্য দিবস।
নেপাল থেকে আবেদন করলে ৭ থেকে ১৫ কার্যদিবস সময় লাগে। কাগজপত্র যদি সবকিছু ঠিকঠাক ভাবে দেওয়া থাকে তাহলে এই সময়ের মধ্যেই ভিসাটি পেয়ে যাবেন।
আরও পড়ুনঃ কাজাকিস্তান যাওয়ার উপায় | কাজাকিস্তান যেতে কত টাকা লাগে
ফিলিস্তিনে যাওয়ার জন্য ভিসা ফি কত টাকা নেওয়া হয়?
ভারতের দিল্লিতে অবস্থিত ইসরাইল এম্বাসির ইসরাইলি বিটু ভিসা পাওয়ার জন্য ৩৫০০ টাকা থেকে ৪০০০ টাকার মতো ফ্রি নিতে পারে।
অর্থাৎ আপনি যখন ভিসার জন্য আবেদন করবেন তখন আপনাকে এই পরিমাণ ফি পরিশোধ করতে হবে।
শেষ কথা
ফিলিস্তিন যাওয়ার জন্য কি ভিসা নিতে হয় ও ভিসা ফি কত টাকা আশা করি উক্ত পোস্টটি পড়ে এই বিষয়ে সঠিক তথ্য পেয়েছেন। তারপরেও যদি এই নিয়ে অন্য কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই জানাতে পারেন। ধন্যবাদ।



