কক্সবাজার কিসের জন্য বিখ্যাত তা বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আপনার জানা অত্যন্ত জরুরী। আপনি যদি কক্সবাজার জেলার বিখ্যাত হওয়ার কারণ গুলো জেনে না থাকেন।
তবে দুশ্চিন্তা না করে এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পডুন। কেননা এই আর্টিকেলে আমরা কক্সবাজার জেলা সম্পর্কে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, বিখ্যাত খাবার ও দর্শনীয় স্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।
কক্সবাজার জেলার ইতিহাস?
কক্সবাজার বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় একটি জেলা। এটি দেশের চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্গত। কক্সবাজার জেলার উত্তরে রয়েছে চট্টগ্রাম জেলা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে বান্দরবান জেলা এবং পশ্চিমে টেকনাফ উপজেলা অবস্থিত।
কক্সবাজার নামটি কিন্তু এ অঞ্চলের প্রাচীন নাম নয়। কক্সবাজার জেলার নামকরণ করা হয়েছে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এক কর্মকর্তার নামে। সেই কর্মকর্তার নাম হচ্ছে ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স।
ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স ১৭৭৩ সালে বাংলার গভর্নর ওয়ারেন্ট হোস্টিংয়ের অধীনে পালংকির মহাপরিচালক হিসাবে নিযুক্ত হন। তিনি এই অঞ্চলে একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেই বাজারের নাম রাখেন কক্স সাহেবের বাজার।
পরবর্তীতে এই বাজারের নাম পরিবর্তিত হয়ে কক্সবাজার হয়। প্রাচীনকালে কক্সবাজার অঞ্চলটি হরিকেল রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তীতে এই অঞ্চলটি ত্রিপুরা, আরাকান এবং পর্তুগিজদের দখলে চলে যায়।
এরপর আবার ব্রিটিশ শাসন আমল আসে, ব্রিটিশ শাসনামলে এ অঞ্চলটি ব্রিটিশ ভারতের চট্টগ্রাম জেলার একটি অংশ ছিল। ১৯৮৪ সালে কক্সবাজারকে চট্টগ্রাম জেলা থেকে আলাদা করে একটি জেলায় রূপান্তর করা হয়।
কক্সবাজার কিসের জন্য বিখ্যাত?
কক্সবাজার জেলা সুন্দর সমুদ্র সৈকতের জন্য বিখ্যাত। কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতটি গোটা বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতগুলোর মধ্যে একটি। এটি প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ১৫ কিলোমিটার প্রশস্ত।
এই সমুদ্র সৈকতটি সাদা বালু দিয়ে তৈরি এবং এটি অনেক স্বচ্ছ একদম সাদা কাঁচের মতো। এটি সাঁতার, সূর্যস্নান, জল ক্রীড়া এবং অন্যান্য জল-সম্পর্কিত ক্রিয়াকলাপের জন্য একটি উপযুক্ত পর্যটন কেন্দ্র।
কক্সবাজার জেলার প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হচ্ছে পর্যটন, কৃষি, মৎস্য ইত্যাদি। কক্সবাজার বাংলাদেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জনপ্রিয় পর্যটন স্থান। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ভ্রমণ পিপাসু মানুষ কক্সবাজারে ঘুরতে আসেন।
কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত, দ্বীপ এবং ওখানে থাকা বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানগুলো পর্যটকদের আকর্ষণ করে থাকে।
কক্সবাজার জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ?
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতটি পৃথিবীর দীর্ঘতম অখন্ডিত সমুদ্র সৈকত। এটি প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ১৫ কিলোমিটার প্রশস্ত। এ সমুদ্র সৈকতের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পুরো সমুদ্র সৈকতটি বালুকাময় কোন রকম কাদার অস্তিত্ব পাওয়া যায় না।
বালিয়াড়ি সৈকত সংলগ্ন শামুক-ঝিনুকসহ নানান প্রজাতির প্রবাল সমৃদ্ধ বিপণি বিতান রয়েছে এই সৈকতে। এই সমুদ্র সৈকত একটি মায়াবী ও রূপময়ী সমুদ্র সৈকত। এটি প্রতিদিন প্রতিক্ষণ এর রূপ পরিবর্তন করে থাকে।
সোনাদিয়া দ্বীপ
সোনাদিয়া দ্বীপটি কক্সবাজার জেলার অন্যতম একটি আকর্ষণীয় দ্বীপ। এটি কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। দ্বীপটির চারদিকে গভীর সমুদ্রের সাগরের ঢেউ পর্যটকদের এক অফুরন্ত আনন্দ দিয়ে থাকে।
ইনানী সমুদ্র সৈকত
ইনানী সমুদ্র সৈকতটি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি কক্সবাজার শহর থেকে আনুমানিক দশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ইনানী সমুদ্র সৈকতটি তার মায়াবী সুন্দর দৃশ্যের জন্য বিখ্যাত।
সেন্টমার্টিন দ্বীপ
সেন্টমার্টিন দ্বীপটি অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যমন্ডিত হওয়ায় বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন স্থান হিসাবে জায়গা করে নিয়েছে।
নীল আকাশের সাথে সমুদ্রের নীল জলের মিতালী এবং হাজার হাজার সারি সারি নারিকেল গাছ এ দ্বীপকে বিশ্বের সব সৌন্দর্যময় দ্বীপ এর তালিকায় নিয়ে গেছে।
মহেশখালী দ্বীপ
মহেশখালী দ্বীপটিতে অনেক ধরণের বন্য গাছ রয়েছে এর চারিপাশে পানি থাকায় ভাটার সময় এর প্রকৃতি সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। যা পর্যটকদের আকর্ষণ করে থাকে। এই দ্বীপটি কক্সবাজার শহর থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
কক্সবাজার জাদুঘর
কক্সবাজার জেলার একটি অন্যতম জাদুঘর হল কক্সবাজার জাদুঘর। যা কক্সবাজার শহরের একদম কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। এই জাদুঘরটি কক্সবাজার জেলার প্রাচীন ইতিহাস এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে থাকে।
রামুর ঐতিহাসিক মসজিদ
রামুর ঐতিহাসিক মসজিদটি কক্সবাজার জেলার একটি ঐতিহাসিক মসজিদ। যা কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই মসজিদ এর অপরুপ সৌন্দর্য এর সুন্দর স্থাপত্যশৈলী প্রত্যেক ব্যক্তির মনকে আকর্ষিত করে।
কক্সবাজার জেলার বিখ্যাত খাবার?
চিকেন ফ্রাই
কক্সবাজারে গেলে আপনি বিভিন্ন ধরণের চিকেন ফ্রাই পাবেন। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য রয়েছে ফ্রাই, চিকেন স্টিক, চিকেন পপকর্ন ইত্যাদি।
লইট্যা ফ্রাই
লইট্যা একটি ছোট মাছ যা কক্সবাজারের সমুদ্রে জেলেদের হাতে প্রচুর পরিমাণে ধরা পড়ে। লইট্যা ফ্রাই সাধারণত তেলে ভাজা হয় এবং এটি বেশ সুস্বাদু হয়ে থাকে।
লইট্যা ফ্রাই মুখরোচক খাবার বললেও ভূল হবে না। কেননা এটা খেতে অনেকটা পেঁয়াজুর মতো মুচমুচে সুস্বাদু হয়ে থাকে।
চিংড়ি ভাজা
কক্সবাজারে সবচেয়ে মজাদার এবং মুখরোচক খাবার হচ্ছে চিংড়ি কাবাব, চিংড়ি ভাজা, চিংড়ি ফ্রাই ইত্যাদি।
ইলিশ মাছের মালাইকারি
কক্সবাজার সমুদ্র থেকে ধরা ইলিশ মাছের মালাইকারি অত্যন্ত সুস্বাদু ও জনপ্রিয়। সমুদ্র থেকে ধরা ইলিশ মাছ কাটকা তরতাজা হওয়ায় এ মাছের মালাইকারির অন্তত সুস্বাদু হয়েছে থাকে।
বাঁশখালীর খিচুড়ি
বাঁশখালীর খিচুড়ি কক্সবাজারের একটি ঐতিহ্যবাহি খাবার। এটি কক্সবাজারে সকল ধর্মের মানুষ খেয়ে থাকে। আপনার কক্সবাজার গেলে অবশ্যই এই খাবারটি একবার হলেও খেয়ে দেখবেন।
মোচা ভাত
মোচা ভাত কক্সবাজারের একটি বহুলপ্রচলিত খাবার। এই ভাতটি তৈরি করতে প্রয়োজন যেমনঃ ভাত, মাংস, বিভিন্ন ধরণের মাছ, ডিমের ইত্যাদি।
কক্সবাজার জেলার বিখ্যাত ব্যক্তি?
আশেক উল্লাহ রফিক
তিনি কক্সবাজার জেলার বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ। তিনি দেশের উন্নয়ন অগ্রভাগে বিরল ভূমিকা রাখেন। তিনি একজন সৎ কর্মঠ নেতা ছিলেন।
সলিমুল্লাহ খান
সলিমুল্লাহ খান বাংলাদেশের একজন গর্বিত ব্যক্তি। তিনি এদের জন্য কি করে নাই তিরি একসঙ্গে অধ্যাপক, লেখক, গবেষক, আইনজ্ঞ ও রাজনীতি বিশ্লেষক।
আনিসুর রহমান জিকো
অনেকে বাংলার বাজপাখি হিসেবে ভূষিত করেন আনিসুর রহমান জিকো কে। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের একজন গোলরক্ষক হিসেবে খেলছের।
ইলিয়াস কোবরা
বর্তমানে বাংলাদেশের চলচিত্র একদম ধ্বংসের মুখে রয়েছে। ইলিয়াস কোবরা তিনি উনিশ শতকের চলচিত্র জগতের একজন প্রখ্যাত অভিনেতা ছিলেন।
নুরুল হুদা
১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্ব প্রদর্শণের জন্য বীর প্রতীক উপাধীতে ভূষিত হোন নুরুল হুদা।
কক্সবাজার জেলার আয়তন কত?
কক্সবাজার জেলার মোট আয়তন হচ্ছে ২৪৯১.৮৬ বর্গ কিলোমিটার। এবং মোট জনসংখ্যা হচ্ছে ২২,৮৯,৯৯০ জন।
কক্সবাজার জেলার উপজেলা কয়টি?
কক্সবাজার জেলায় মোট উপজেলা রয়েছে ৯টি। যেমনঃ
- কক্সবাজার সদর
- পেকুয়া
- মাহেশখালী
- চকরিয়া
- রামু
- ঈদগাঁও
- উখিয়া
- কুতুবদিয়া
- টেকনাপ
শেষ কথা
বাংলাদেশ সৌন্দর্যের এক অপরূপ উদাহরণ। এখানে ৬৪ জেলার মধ্যে সৌন্দর্যের দিক থেকে কোন জেলা এগিয়ে আবার কোন জেলা তুলনামূলক কম জনপ্রিয় রয়েছে।
এসব কিন্তু নির্ভর করে ব্যক্তি মনের চাহিদা এবং সেই জেলার সার্বিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে। এছাড়াও আপনার জ্ঞানকে প্রসারিত করতে কুমিল্লা কিসের জন্য বিখ্যাত এ সম্পর্কে পড়তে পারেন।
কক্সবাজার জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত তা হয়তো এতক্ষণে স্পষ্টরূপে বুঝে গেছেন। আপনাদের কোন প্রশ্ন থাকলে দয়া করে কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন। সকলের সুস্বাস্থ্য কামণা করে আজকের মত এখানে বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ্ হাফেজ



