পাবনা কিসের জন্য বিখ্যাত তা বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আপনার জানা অত্যন্ত জরুরী। আপনি যদি পাবনা জেলার বিখ্যাত হওয়ার কারণ গুলো জেনে না থাকেন।
তবে দুশ্চিন্তা না করে এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পডুন। কেননা এই আর্টিকেলে আমরা পাবনা জেলা সম্পর্কে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, বিখ্যাত খাবার ও দর্শনীয় স্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।
পাবনা জেলার ইতিহাস?
প্রতিটিজেলাই কোন না কোন কারণে সবার কাছে পরিচিতি পেয়ে থাকে বিশেষ ভাবে। সেই বিশেষত্বের দিক থেকে পাবনা জেলা ব্যতিক্রম নয়। জেলার দুপাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা ও যমুনার কারণে এই জেলাটি পেয়েছে অনন্য এক শৈল্পিক সৌন্দর্য।
মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রকারান্তরেও রয়েছে ব্যাপক প্রাগৌতিহসিকতার ছাপ। চলনে বলনে নিজস্বতা যেন এই অঞ্চল এর মানুষের স্বভাব। পাবনা জেলার ঘি, সন্দেশ, দই বেশ খ্যাতি অর্জন করেছে। যার কারণে পাবনা জেলা বিখ্যাত সারা বাংলাদেশ জুরে।
প্রকৃতিরসাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারা এই জেলার মানুষ যেমন আতিথিয়েতায় পটু। ঠিক তেমনই সব রকম পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতেও স্বাচ্ছন্দবোধ করে।
পাবনা জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত?
পাবনা জেলার তাঁতশিল্প, হোসিয়ারি শিল্প, দুগ্ধজাত পণ্য এ জেলার ঐতিহ্যকে ধারণ করে। অর্থনৈতিক দিক থেকে ঈশ্বরদী উপজেলা বেশ সর্মদ্ধ। ঈশ্বরদীকে নিয়েই মূলত পাবনার অর্থনীতি গড়ে উঠেছে।
প্রচুর ছোটবড় শিল্প প্রতিষ্ঠান ও ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠেছে এই পাবনা জেলায়। ধান, পাট, গম, পেঁয়াজ, সবজি, লিচু, আম, ঘি, চলনবিলের মাছ ইত্যাদি এ জেলার অর্থনীতিতে বেশ ভাল অবদান রাখছে।
পাবনা জেলার দর্শনীয় স্থান সমুহ?
চাটমোহর শাহী মসজিদ
পাবনা জেলা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে চাটমোহর উপজেলার কেন্দ্রস্থলে প্রাচীন স্থাপত্য শিল্পের অপূর্ব এক নিদর্শন ঐতিহাসিক চাটমোহর শাহী মসজিদ অবস্থিত।
মসজিদ থেকে প্রাপ্ত শিলালিপির তথ্য অনুযায়ী ১৫৮১ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট আকবরের শাসনামলে। সৈয়দ নেতা আবুল ফতে মোহাম্মদ মাসুম খাঁর অর্থায়নে তারই সহোদর মুহামদ্দ বিন তুর্কি খান কাকশাল চাটমোহরে মসজিদটি নির্মাণ করেন।
হার্ডিঞ্জ ব্রীজ
হার্ডিঞ্জ ব্রীজ পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ও কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বিভোজনকারী নদীর উপর নির্মিত একটি রেল সেতু। এটি ১৯১৫ সালে ৪ মার্চ ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ এই সেতুর উদ্বোধন করেন। এবং লর্ড হার্ডিঞ্জ এর নামনুসারে ব্রিজটিকে হার্ডিঞ্জ ডাকা হয়।
পাকশী রিসোর্ট
পাকশী রিসোর্ট পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকায় অবস্থিত। এটি একটি পাবনা জেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থান।
চলন বিল
চলন বিল আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় বিল এবং সমৃদ্ধতম জলাভূমিগুলোর মধ্যে একটি। এই চলন বিলটি বর্ষাকালে আশেপাশের সব ছোট ছোট বিল একত্রে হয়ে প্রায় ৩৬৮.০০ বর্গ কিমি জায়গা জুরে একটি বড় বিল আকার ধারণ করে।
এছাড়াও এই জেলায় আরও বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান রয়েছে। পাবনার এক একটি দর্শনীয় স্থান খুবই চমৎকার। আপনারা চাইলে বাকি দর্শনীয় গুলোও ঘুরে দেখতে পারে। যেমনঃ
- জোড় বাংলা মন্দির
- পাবনামানুষিক হাসপাতাল
- ঈশ্বরদী বিমানবন্দর
- ভাঁড়ারা শাহী মসজিদ
- তাড়াশ বিল্ডিং
- চলনবিলের সূর্যাস্ত
- ক্ষেতুপাড়া জমিদার বাড়ী
- অনুকূল ঠাকুর টেম্পল(আশ্রম)
- কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট
- লালন শাহ সেতু
পাবনা জেলার বিখ্যাত খাবার?
পাবনা জেলার বিখ্যাত খাবারগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি খাবার হচ্ছে ঘি। দেশের প্রায় সব জায়গায় ঘি পাওয়া যায়। কিন্তু পাবনা জেলার ঘি এ এক ঐতিহ্য বাহি খাবার।
সারাদেশে ঘি পাওয়া গেলেও পাবনা জেলার ঘি সবাই পছন্দ করে থাকে। এছাড়াও পদ্মার ইলিশ তো আছে, এই পদ্মার ইলিশ সারাদেশের মানুষ খুবই পছন্দ করে থাকে।
এমনকি পদ্মার ইলিশ প্রতিবছর হাজার হাজার টন ভারতে রপ্তানি করা হয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ তথা কলকাতা এই দুই বাংলার মানুষ। পদ্মার ইলিশ অনেক পছন্দ করে থাকে। এছাড়া আরও পাবনার কিছু বিখ্যাত খাবার রয়েছে। যেমনঃ
প্যারা মিষ্টি
মিষ্টি পছন্দ করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়াই কঠিন। গুড়ের সন্দেশ, চিনির সন্দেশ তো আমরা খেয়েই থাকি। কিন্তু পাবনার প্যারা মিষ্টিটা যেন একটু বেশিই মজার। তাই পাবনায় যত পর্যটক আসে সবাই একবার হলেও এই প্যারা মিষ্টি হয়ে দেখে।
পাবনা জেলার বিখ্যাত ব্যক্তি?
এ.কে. খন্দকার
এ. কে. খন্দকার তিনি বাংলাদেশের একজন সেনা কর্মকর্তা ছিলেন। এবং তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর রাজনীতি সম্পৃক্ত হন। এ.কে. খন্দকার এনার পুরো নাম হচ্ছে আব্দুল করিম খন্দকার।
ড.এ.বি মীর্জা আজিজুল ইসলাম
তিনি গত তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ, বাণিজ্য, পরিকল্পনা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।
বন্দে আলী মিয়া
বন্দে আলী ছিলেন একজন স্বনামধন্য কবি। তিনি মূলত তাঁর কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় এক নৈপুণ্যের পরিচয় প্রদান করছেন। তার রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ আজও অমর হয়ে রয়েছে।
পাবনা জেলার আয়তন কত?
পাবনা আমাদের দেশের রাজশাহী বিভাগের নান্দনিক জেলাগুলো মধ্যে একটি অন্যতম। আয়তনের দিক থেকে এই জেলা প্রায় ২৩৭১.৫০ বর্গ কিমি।
জেলাটির পশ্চিমে নাটোর জেলা, পূর্ব দিকে রয়েছে যমুনা নদী, দক্ষিণ দিকে রয়েছে পদ্মা নদী এবং উত্তরে সিরাজগঞ্জ জেলা।
পাবনা জেলার উপজেলা কয়টি?
পাবনা জেলায় মোট উপজেলা রয়েছে নয়টি। যেমনঃ
- পাবনা সদর উপজেলা
- আটঘরিয়াউপজেলা
- ঈশ্বরদীউপজেলা
- চাটমোহরউপজেলা
- ফরিদপুরউপজেলা
- বেড়াউপজেলা
- ভাঙ্গুড়াউপজেলা
- সাঁথিয়াউপজেলা
- সুজানগরউপজেলা
শেষ কথা
বাংলাদেশ সৌন্দর্যের এক অপরূপ উদাহরণ। এখানে ৬৪ জেলার মধ্যে সৌন্দর্যের দিক থেকে কোন জেলা এগিয়ে আবার কোন জেলা তুলনামূলক কম জনপ্রিয় রয়েছে।
এসব কিন্তু নির্ভর করে ব্যক্তি মনের চাহিদা এবং সেই জেলার সার্বিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে। এছাড়াও আপনার জ্ঞানকে প্রসারিত করতে গাইবান্ধা কিসের জন্য বিখ্যাত এ সম্পর্কে পড়তে পারেন।
পাবনা জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত তা হয়তো এতক্ষণে স্পষ্টরূপে বুঝে গেছেন। আপনাদের কোন প্রশ্ন থাকলে দয়া করে কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন। সকলের সুস্বাস্থ্য কামণা করে আজকের মত এখানে বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ্ হাফেজ



