ময়মনসিংহ জেলার বিখ্যাত ব্যক্তি এবং ময়মনসিংহ কিসের জন্য বিখ্যাত সেই সম্পর্কে আপনারা তো জানবেন। পাশাপাশি এই জেলা সম্পর্কে নানান অজানা তথ্যও জানতে পারবেন।
ময়মনসিংহ জেলায় রয়েছে অসংখ্য জাতীয় উদ্যান, বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং প্রাচীন সভ্যতার প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। আজকের আর্টিকেলে আমরা জানব ময়মনসিংহ কিসের জন্য বিখ্যাত, ময়মনসিংহ জেলার দর্শনীয় স্থান সমূহ ও ময়মনসিংহ জেলার বিখ্যাত ব্যক্তি বর্গ সম্পর্কে।
ময়মনসিংহ জেলার ইতিহাস?
বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের ময়মনসিংহ বিভাগের একটি জেলা। এ জেলায় প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ ও মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য পরিচিত একটি জেলা। জেলাটি মূল অর্থনীতি হচ্ছে কৃষিপ্রধান, কারণ এর চারপাশে সবুজ গাছপালা এবং বেশ কয়েকটি নদী ও উপনদী রয়েছে।
ময়মনসিংহ জেলার প্রধান শহর হচ্ছে ময়মনসিংহ সদর। এই জেলাটির পূর্বে রয়েছে নেত্রকোনা উত্তরে ভারতের মেঘালয় পশ্চিমে জামালপুর এবং দক্ষিণে গাজীপুর। ময়মনসিংহ জেলাটির মোট আয়তন হচ্ছে ১০ হাজার ৬৬৮ বর্গ কিলোমিটার এবং এর জনসংখ্যা প্রায় ৫৮,৯৯,০৫২ জন।
শিল্প সাহিত্য-সংস্কৃতি ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সূতিকাগার বৃহত্তম ময়মনসিংহ জেলা। ২০১৫ সালের ঠিক জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভার বৈঠকের ঢাকা বিভাগের জেলা ময়মনসিংহ কে একটি আলাদা বিভাগ গঠনের ঘোষণা দেন।
ময়মনসিংহ নিয়ে অজানা কিছু তথ্য?
মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ পঞ্চম। মোট দেশজ উৎপাদনের জিডিপিতে মৎস্য সম্পদের অবদান ৪ শতাংশ। আর মাছ চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছে এই ময়মনসিংহ জেলা। দেশের শতকরা প্রায় ২২ ভাগ মাছ উৎপাদন হয় ময়মনসিংহ জেলায় এর সিংহভাগই উৎপাদন হয় ময়মনসিংহের ত্রিশালে।
ময়মনসিংহ জেলায় রয়েছে প্রায় ১০ হাজার ৫০০টি মসজিদ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জেলার শিক্ষার হার ৬৮%। প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ২৬৯২টি। মাদ্রাসা রয়েছে ২৪১টি।
মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজ ডিগ্রি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল কলেজ ডিগ্রি কলেজ ইঞ্জিনারিং কলেজ একটি কামিল মাদ্রাসা। এবং ফাজিল মাদ্রাসা ৪৭টি এবং আলিম মাদ্রাসা ও দাখিল মাদ্রাসা প্রায় ৩০০ টি।
ময়মনসিংহ কিসের জন্য বিখ্যাত?
ময়মনসিংহ জেলা হচ্ছে মূলত মুক্তাগাছার মন্ডা, মলুয়া, মহুয়া, দেওয়ানা মদীনা, দীনেশচন্দ্র সেন, চন্দ্রাবতী, কবিকঙ্ক, জাকির মিয়ার জিলাপি এর জন্য বিখ্যাত। এছাড়াও ময়মনসিংহ কবি নজরুলের সৃতির জন্য বেশ বিখ্যাত।
ময়মনসিংহ জেলার নামকরণের ইতিহাস?
ইতিহাস বিদদের মাঝে ভিন্ন মত প্রচলিত আছে ময়মনসিংহ নামকরণের ইতিহাস সম্পর্কে। আর ষোড়শ শতাব্দীতে বাংলার স্বাধীন সুলতান সৈয়দ আলাউদ্দিন হোসেন শাহ তার পুত্র সৈয়দ নাসির উদ্দিন নকশার জন্য নতুন একটি দল গঠন করেছিলেন।
সেই থেকেই নসরতশাহী বা নাসিরাবাদ নামের লিস্ট করা হয়ে থাকে। নাসিরাবাদ নামটি আজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া। আর কোথাও উল্লেখ করা হচ্ছে না। ১৭৭৯ সালে প্রকাশিত রেনেল ম্যাপে মমিশিং নামটি এখন ময়মনসিংহ অঞ্চলকে নির্দেশ করে।
তার আগেই আইন-ই আকবরীতে মমেনশাহি হিসেবে লিখিত রয়েছে। এসব বিবেচনায় বলা যেতেই পারে সম্রাট আকবরের রাজত্বকালের আগ থেকেই ময়মনসিংহ নামে প্রচলিত ছিল। জমিদারগণ সরকারের কাছে জেলার নাম ময়মনসিংহ রাখার দাবি করলে তখন সরকার গ্রহণ করে নেন।
আর ঠিক এভাবেই এই জেলাটির নাম হয়ে যায় ময়মনসিংহ। আর তখন থেকেই সারাদেশের মানুষ এই জেলাটি ময়মনসিংহ নামে পরিচিত হয়।
ময়মনসিংহ বিভাগে কয়টি জেলা?
ময়মনসিংহ বিভাগে মোট চারটি জেলা রয়েছে। সেগুলো হল জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা এবং ময়মনসিংহ জেলা।
ময়মনসিংহ জেলার উপজেলা সমূহ?
- ময়মনসিংহ সদর
- ফুলপুর
- ত্রিশাল
- ভালুকা
- ঈশ্বরগঞ্জ
- মুক্তাগাছা
- নান্দাইল
- তারাকান্দা
- হালুয়াঘাট
- ধোবাউড়া
- গফরগাঁও
- গৌরীপুর।
ময়মনসিংহ জেলার দর্শনীয় স্থান?
- বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
- ময়না দ্বীপ
- শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন সংগ্রহশালা
- আঠারবাড়ি জমিদার বাড়ী
- বিপিন পার্ক
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ময়মনসিংহ জেলা শহর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে পুরাতন ব্রাহ্মপত্র নদের পাড়ে প্রায় ১২০০ একর জায়গা নিয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
ময়না দ্বীপ
ময়মনসিংহ জেলা শহর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে। ময়মনসিংহের এবং সারাদেশের জন্য কৃষি উন্নয়নের মূল শিক্ষা কেন্দ্র বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ব্রাহ্মপত্র নদীতে জেগে উঠা ব-দ্বীপটি ময়নার চর বা ময়না দ্বীপ নামে পরিচিত।
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন সংগ্রহশালা
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের জন্মস্থান ময়মনসিংহ জেলা শহরের সাহেব কোয়ার্টার এলাকায় ব্রাহ্মপত্র নদীর তীরে তাঁর কালজয়ী চিত্রকর্ম ব্যবহার্য নানান রকম।
আঠারবাড়ি জমিদার বাড়ী
ময়মনসিংহ জেলার অন্যতম সমৃদ্ধ জনপদ ঈশ্বরগজ উপজেলার আঠারবাড়ি গ্রামে প্রায় আড়াই শত বছর পুরাতন সুন্দর দৃষ্টিনন্দন আঠারবাড়ি জমিদার বাড়ী।
বিপিন পার্ক
ময়মনসিংহ জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে ব্রাহ্মপত্র নদীর তীরে অবস্থিত বিপিন পার্ক। এটি প্রায় ২০০ বছরের পুরাতন এক ঐতিহ্যবাহি বিনোদন কেন্দ।
ময়মনসিংহ জেলার বিখ্যাত ব্যক্তি বর্গ?
ময়মনসিংহ জেলার বিখ্যাত ব্যক্তিদের মধ্যে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সঙ্গীত শিল্পি আব্দুল জব্বার, আরিফিন শুভ এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ অন্যতম। সাংবাদিক মুজিবুর রহমান, নির্মলেন্দু গুণ এর মতো বিখ্যাত ব্যক্তিদের জন্মস্থান এই ময়মনসিংহ জেলাতে।
এই তালিকায় আরও রয়েছেন অনেক গুরুত্তপূর্ণ মানুষ। যাদের জন্ম এই ময়মনসিংহ বিভাগেই। যুগের পর যুগ ধরে তারা এই জেলাকে এক অনন্য মাত্রায় নিয়ে গেছেন। চলুন এক নজরে তাদের সম্পর্কে জেনে নিই। যেমনঃ
- কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি।
- সুন্দরী চৌধুরী অগ্নিকন্যা।
- চন্দ্রকুমার দে লেখক।
- অক্ষয় কুমার নাট্যকার, লেখক, অভিনেতা।
- নাসরিন অভিনেত্রী।
- আরেফিন শুভ মডেল, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অভিনেতা।
- মুক্তিযোদ্ধা হারুন জামালপুর জেলার প্রখ্যাত সাংবাদিক সাহিত্যিক ও গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা।
- আনোয়ার হোসেন অভিনেতা।
- মনসুর বয়াতি নেত্রকোনা জেলার পল্লী কবি ও গায়ক।
- যতীন সরকার প্রগতিবাদী চিন্তাবিদ ও লেখক।
- নির্মলেন্দু গুণ প্রখ্যাত কবি ও শিল্পী।
ময়মনসিংহ জেলার আয়তন কত?
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখতে পাবেন ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে ময়মনসিংহ জেলার সৃষ্টি হয়। এ জেলার মোট আয়তন হচ্ছে প্রায় ৪৩৬৩ দশমিক ৪৯ বর্গকিলোমিটার।
মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্প কলকারখানা হয়েছে ১৪১টি। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুইটি শিল্পনগরী ময়মনসিংহে এবং বাকি প্রায় ৫০টি ভালুকা অঞ্চলে অবস্থিত।
ময়মনসিংহ জেলার জনসংখ্যা কত?
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী। ময়মনিসংহ সিটি কর্পোরেশন জনসংখ্যা হচ্ছে ৫,৭৬,৭২২। লিঙ্গভিত্তিক এ জেলার মোট জনসংখ্যা ৫৮,৯৯,০৫২ জন।
অনলাইনে টাকা আয় করতে চাইলে বেকার আইটি এই ওয়েবসাইটটি ভিজিট করতে পারেনঃ
https://bekarit.com/
শেষ কথা
বাংলাদেশ সৌন্দর্যের এক অপরূপ উদাহরণ। এখানে ৬৪ জেলার মধ্যে সৌন্দর্যের দিক থেকে কোন জেলা এগিয়ে আবার কোন জেলা তুলনামূলক কম জনপ্রিয় রয়েছে। এসব কিন্তু নির্ভর করে ব্যক্তি মনের চাহিদা এবং সেই জেলার সার্বিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে।
এছাড়াও আপনার জ্ঞানকে প্রসারিত করতে নীলফামারী কিসের জন্য বিখ্যাত এ সম্পর্কে পড়তে পারেন।ময়মনসিংহ জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত তা হয়তো এতক্ষনে স্পষ্টরূপে বুঝে গেছেন।
আপনাদের কোন প্রশ্ন থাকলে দয়া করে কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন। সকলের সুস্বাস্থ্য কামণা করে আজকের মত এখানে বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ্ হাফেজ।



