মিয়ানমার হলো দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশ। বাংলাদেশ হল মায়ানমারের প্রতিবেশী একটি দেশ। বাংলাদেশের সাথে মায়ানমারের সীমান্ত রয়েছে। বাংলাদেশে যারা বসবাস করে থাকেন তারা অনেকেই মায়ানমারে যেতে চান।
মায়ানমারে যেতে হলে অবশ্যই কিছু শর্তাদি পূরণ করা লাগবে। অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে মায়ানমার টুরিস্ট ভিসা করতে হবে। টুরিস্ট ভিসা করার জন্য কি কি করা লাগবে,
ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র কি লাগবে আজকের পোস্টে এই নিয়েই থাকবে বিস্তারিত তথ্য। যারা এই বিষয়ে জানতে চান অবশ্যই পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন।
বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের ভিসা কিভাবে পাওয়া যায়?
বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার টুরিস্ট ভিসা খুব সহজেই পাওয়া যায়। তবে কিছু শর্তাদি রয়েছে এই শর্তাদি গুলা অবশ্যই পূরণ করা লাগবে। মায়ানমারের ভিসা পেতে হলে মায়ানমারের ভিসা ওয়েবসাইটে যেতে হবে
এবং আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। তারপরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যা যা লাগবে তা জমা দিতে হবে। নিম্নে মিয়ানমার টুরিস্ট ভিসা পাওয়ার জন্য কি কি কাগজপত্র লাগে তা উল্লেখ করা হলোঃ
- একটি বৈধ পাসপোর্ট লাগবে। পাসপোর্টে অবশ্যই ছয় মাসের বেশি মেয়াদ থাকতে হবে।
- সাম্প্রতিক তোলা পাসপোর্ট সাইজের এক কপি রঙিন ছবি লাগবে।
- ছবিটি অবশ্যই গত তিন মাস আগে তোলা হতে হবে।
- মেডিকেল সার্টিফিকেট এর ফটোকপি লাগবে অর্থাৎ আপনি সম্পূর্ণভাবে সুস্থ এর একটি প্রমাণপত্র লাগবে।
- পাসপোর্টের বায়োডাটা পৃষ্টার ফটোকপি লাগবে।
এই ডকুমেন্টগুলো থাকলে মায়ানমার ভিসা ওয়েবসাইটে গিয়ে ই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তারপরেও যদি আরও বাড়তি কোন ডকুমেন্ট লাগে তাহলে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনারা জানতে পারবেন।
অনলাইনে যারা ই ভিসা করতে চান তাদের আবেদন পত্রটি সঠিকভাবে পূরণ করার পর ডকুমেন্টগুলো ভালোভাবে আপলোড করতে হবে। তারপরে অনলাইনে পেমেন্ট মেথড ব্যবহার করে ভিসা ফি প্রদান করতে হবে।
বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার ভিসা ফি কত?
বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার ভিসা করার জন্য কত টাকা লাগে এ বিষয়ে জানাটা খুবই জরুরী। বাংলাদেশিরা মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য যদি ২৮ দিনের টুইস্ট ভিসা করে থাকেন
তাহলে খরচ হবে ৫০ ডলারের কাছাকাছি। যা বাংলাদেশী টাকায় হিসাব করলে খরচ হবে ৬১০০ টাকার কিছু বেশি।
মিয়ানমার টুরিস্ট ভিসার মেয়াদ কতদিন?
বাংলাদেশী নাগরিকরা যারা মিয়ানমারের টুরিস্ট ভিসা নিয়ে যাবেন তাদের অবশ্যই জানা জরুরী মায়ানমারে টুরিস্ট অফিসার মেয়াদ কতদিন হয়ে থাকে।
মিয়ানমারের টুরিস্ট ভিসার মেয়াদ সাধারণত ২৮ দিনের মতো হয়ে থাকে। তবে কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য অন এরাইভাল ভিসা দেওয়া হয় যেগুলোর মেয়াদ হয়ে থাকে ৩০ দিনের মতো।
মিয়ানমার যাওয়ার উপায়?
বাংলাদেশ থেকে মায়ানমার খুব সহজেই দুইটি পদ্ধতিতে যাওয়া যায়। আকাশ পথ ব্যবহার করে ও স্থলপথে। যদি আকাশপথে যেতে হয় তাহলে ঢাকা থেকে সরাসরি মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন শহরে যেতে হবে।
আর যদি সড়কপথে যেতে হয় তাহলে টেকনাফ থেকে মিয়ানমারের মংন্ডু শহরে বাস ও অন্যান্য পরিবহনে করে যাওয়া যায়।
সড়কপথে ও আকাশ পথে যেভাবে মিয়ানমার যান না কেন বাংলাদেশ থেকে অবশ্যই ভিসা নিয়ে তারপরে যেতে হবে। বাংলাদেশ থেকে অনেকেই থাইল্যান্ড হয়ে মিয়ানমারের প্রবেশ করে থাকেন ট্রানজিট ভিসা নিয়ে।
মিয়ানমার টুরিস্ট ভিসা পেতে কত সময় লাগে?
মিয়ানমার বাংলাদেশের প্রতিবেশী একটি দেশ। মিয়ানমারে যেতে হলে দুই থেকে তিনটি ডকুমেন্ট হলেই হয়।
আরও পড়ুনঃ কাতার ভিসা পাওয়ার উপায় | কাতার যেতে কত টাকা লাগে
মিয়ানমার টুরিস্ট ভিসা বা স্টিকার ভিসা পেতে ৭ থেকে ১০ কার্য দিবস সময় লেগে থাকে। অর্থাৎ সবকিছু যদি ঠিকঠাক থেকে থাকে তাহলে ১০ দিনের মধ্যে ভিসাটি হাতে পেয়ে যাবেন।
শেষ কথা
আশা করি ইতিমধ্যে পোস্টটি যারা পড়েছেন তারা মিয়ানমার ভিসা কিভাবে পাবেন ও মিয়ানমারে যাওয়ার জন্য কত টাকা খরচ হয়ে থাকে সঠিক ধারণা পেয়েছেন।
তারপরও যদি এই নিয়ে কোন ধরনের প্রশ্ন থাকে বা পোস্টটি পড়ে কোন কিছু বুঝতে অসুবিধা হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। ধন্যবাদ।



