সাতক্ষীরা জেলার ইতিহাস | সাতক্ষীরা কিসের জন্য বিখ্যাত

সাতক্ষীরা কিসের জন্য বিখ্যাত তা বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আপনার জানা অত্যন্ত জরুরী। আপনি যদি সাতক্ষীরা জেলার বিখ্যাত হওয়ার কারণ গুলো জেনে না থাকেন।সাতক্ষীরা জেলাতবে দুশ্চিন্তা না করে এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পডুন। কেননা এই আর্টিকেলে আমরা সাতক্ষীরা জেলার সম্পর্কে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, বিখ্যাত খাবার ও দর্শনীয় স্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

সাতক্ষীরা জেলার ইতিহাস?

তৎকালীন নদীয়ার শাসনকর্তা রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের একজন রাজ কর্মচারী বিষ্ণুরাম রায় চক্রবর্তী চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সময় তৎকালীন সাতক্ষীরা জেলা কিনে নেন। তিনি এই জায়গার নামকরণ করেন সাতঘড়িয়া। মূলত সাতঘড়িয়া নাম থেকেই অত্র অঞ্চলের নামকরণ করা হয়েছে সাতক্ষীরা।

১৮৬১ সালে যশোর জেলার অন্তর্ভুক্ত করে সাতক্ষীরাকে একটি মহকুমাতে পরিণত করা হয়। এরপর ১৮৬৩ সালে এটিকে খুলনা জেলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আবার ১৮৮২ সালে এটিকে সাতক্ষীরা জেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। হোসেন মোহাম্মদ এরশাদ সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী ১৯৮৪ সালে মহাকুমা প্রথা বিলুপ্ত হলে সাতক্ষীরা একটি পূর্ণাঙ্গ জেলায় পরিণত হয়।

সাতক্ষীরা জেলার ভৌগোলিক অবস্থান?

বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে সাতক্ষীরা জেলা অন্যতম। দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা বিভাগের একটি জেলা হচ্ছে সাতক্ষীরা।

সাতক্ষীরা জেলার পূর্বে খুলনা জেলা, পশ্চিমে ভারতের পরিশ্রমবঙ্গ বাজ্য, উত্তরে যশোর জেলা এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। সাতক্ষীরা জেলার মোট আয়তন হচ্ছে ৩,৮৫৮.৩৩ বর্গ কিলোমিটার।

আরও পড়ুনঃ কক্সবাজার জেলার ইতিহাস | কক্সবাজার কিসের জন্য বিখ্যাত

সাতক্ষীরা জেলার নামকরণ?

সাতক্ষীরা জেলার নামকরণ নিয়ে বেশ কিছু মতবাদ রয়েছে। অনেকে ধারণা করে, একদিন সাতজন পর্যটক সাতক্ষীরা ভ্রমণ করতে এসে শখের বসে ক্ষীর রান্না করেছিল। সেই সাতজন পর্যটক এর মধ্যে দুইজন ছিল স্থানীয় এবং বাকি পাঁচজন ছিল ভিনদেশী।

সেদিন তারা স্থানীয়দের সহযোগিতায় ক্ষীর রান্না করে এবং অত্যন্ত তৃপ্তির সাথে সেই ক্ষীর উপভোগ করে। ধারণা করা হয়, সেদিন যেহেতু তারা সেই ক্ষীর সাতজন মিলে খেয়েছিল সে কারণে এর নামকরণ করা হয় সাতক্ষীরা।

সাতক্ষীরা জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত?

সাতক্ষীরা জেলা চিংড়ি মাছের জন্য বিখ্যাত। সাতক্ষীরা জেলায় প্রচুর পরিমাণে চিংড়ি মাছের হ্যাচারি রয়েছে। এছাড়াও সাতক্ষীরা জেলাকে বিখ্যাত করছে এখানকার কিছু বিখ্যাত ব্যক্তি এবং দর্শনীয় স্থান।

সাতক্ষীরা জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ?

তেতুলিয়া জামে মসজিদ

ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলাদেশের অন্যতম একটি ঐতিহাসিক স্থাপত্য শৈলী ছিল তেতুলিয়া জামে মসজিদ। কেননা ব্রিটিশ শাসনামলে এই তেতুলিয়া জামে মসজিদটি অনেক দৃঢ় মেটেরিয়াল ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছিল। যার ফলে এখনও টিকে রয়েছে এই জামে মসজিদটি।

আমুদিয়া মসজিদ

আমুদরিয়া মসজিদ হচ্ছে সাতক্ষীরা জেলার একটি প্রাচীন মসজিদ। এই ঐতিহাসিক মসজিদটি সাতক্ষীরা জেলার আমুদিয়া গ্রামে অবস্থিত। মসজিদটি ১৫শ শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছিল বলে জানা যায়।

যশোরেশ্বরী মন্দির

সাতক্ষীরা জেলায় হিন্দু স্থাপত্য কলার মধ্যে যশোরেশ্বরী মন্দির অন্যতম। এটি সাতক্ষীরা জেলার ঈশ্বরেশ্বরী উপজেলায় অবস্থিত। প্রতিবছর দুর্গাপূজার সময় হিন্দু ধর্মের মানুষজন এই মন্দিরে পূজা উপভোগ করে থাকেন।

বাঁশখালি মসজিদ

বাঁশখালি মসজিদ সাতক্ষীরা জেলার একটি ঐতিহাসিক মসজিদ। এই ঐতিহাসিক মসজিদটি সাতক্ষীরা জেলার বাঁশখালী গ্রামে অবস্থিত। মসজিদ তার সুন্দর স্থাপত্য এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ জন্য বিখ্যাত।

জোড়া শিব মন্দির

জোড়া শিব মন্দির বাংলাদেশের একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হিসেবে পরিচিত। এখান থেকে বেশ কয়েকটি প্রাগৈতিহাসিক যুগের মূর্তি উদ্ধার করা হয়েছে। তার পাশাপাশি রয়েছে দুটি শিব মন্দির।

আরও পড়ুনঃ পঞ্চগড় জেলার ইতিহাস | পঞ্চগড় জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত

সাতক্ষীরা জেলার বিখ্যাত খাবার?

চিংড়ি মাছ

সাতক্ষীরা জেলার উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ত পানি সহজলভ্য হওয়ায় চিংড়ি মাছের চাষ বেশ ভালো হয়ে থাকে। সাতক্ষীরার অন্যতম বিখ্যাত চিংড়ি বাগদা চিংড়ি বা কালো বাঘা চিংড়ি। এটি অত্যন্ত সুস্বাদু মজাদার হয়ে থাকে।

দুধের ঘোল

সাতক্ষীরার ঘোল একটি জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী খাবার। যা বিশেষ করে গরমের সময় স্থানীয়রা বেশি তৈরি করা হয়ে থাকে। এটি মূলত টক দই, পানি এবং সামান্য লবণ মিশিয়ে তৈরি করা হয়ে থাকে।

ইলিশ মাছ

সাতক্ষীরার ইলিশ মাছ স্বাদ এবং মানের কারণে বিখ্যাত। সাতক্ষীরার কপোতাক্ষ, শিবসা এবং খোলপেটুয়া নদী গুলোতে বর্ষাকালে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। স্থানীয় এসব টাটকা মাছের স্বাদ ভোজন রসিকদের মনে প্রশান্তি দেয়।

রসগোল্লা

সাতক্ষীরার একটি বিখ্যাত খাবার হলো রসগোল্লা। সাতক্ষীরার এই রসগোল্লা অত্যন্ত সুস্বাদু হয়ে থাকে। আপনারা সাতক্ষীরার যেকোন মিষ্টির দোকানে এই রসগোল্লা পেয়ে যাবেন।

পায়েস

সাতক্ষীরা জেলার আরেকটি বিখ্যাত খাবার হচ্ছে পায়েস। এই পায়েস এখানকার একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার। এ জেলায় বিয়ে অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে সব ধরণের উৎসবে এই পায়েস পরিবেশন করা হয়ে থাকে। এটি বর্তমানে সাতক্ষীরার একটি ট্রেডিশনাল খাবার হয়ে দাড়িয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলার বিখ্যাত ব্যক্তি?

সৌম্য সরকার

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ব্যাটিং লাইন আপের অন্যতম ভরসা নাম হচ্ছে সৌম্য সরকার। ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে রঙিন জার্সিতে সৌম্য সরকারের অভিষেক ঘটে। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের একজন অন্যতম জনপ্রিয় ক্রিকেটার।

মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী

মোঃ ওয়াজেদ আলী বাংলাদেশের একজন খ্যাতনামা সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক ছিলেন। তিনি ১৯৪৩ সালের সাতক্ষীরা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার সাহিত্য কর্মের মধ্যে মরুভাস্কর সবচেয়ে জনপ্রিয়তা লাভ করে।

সাবিনা ইয়াসমিন

বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি ছোটবেলা থেকে গানের প্রতি ছিল অনুরাগ। আগ্রহ ও প্রচেষ্টায় তিনি তার কন্ঠের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে একটি সংস্কৃতি প্রিয় জাতি হিসাবে উপস্থাপন করেন।

সিকান্দার আবু জাফর

তিনি বাংলাদেশের একজন কালজয়ী সাহিত্যিক ছিলেন। ১৯১৮ সালের সাতক্ষীরা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সমকাল পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে সবচেয়ে বেশি সুনাম অর্জন করেন।

মোস্তাফিজুর রহমান

বাংলার বিস্ময় বালক মুস্তাফিজুর রহমান সাতক্ষীরা জেলায় ১৯৯৮ সালের জন্মগ্রহণ করেন। ২০১৬ সালে ভারতের বিপক্ষে ক্রিকেট ম্যাচে তিনি পাঁচ উইকেট শিকারের মাধ্যমে অভিষেক রাঙান। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অন্যতম প্রেসার।

আরও পড়ুনঃ লক্ষ্মীপুর জেলার ইতিহাস | লক্ষ্মীপুর কিসের জন্য বিখ্যাত

সাতক্ষীরা জেলার আয়তন কত?

সাতক্ষীরা জেলার মোট আয়তন হচ্ছে ৩,৮৫৮.৩৩ বর্গ কিলোমিটার। এবং মোট জনসংখ্যা হচ্ছে ২১,৯৬,৫৮২ জন।

সাতক্ষীরা জেলার উপজেলা কয়টি?

সাতক্ষীরা জেলায় মোট উপজেলা রয়েছে ৭টি। যেমনঃ

  • সাতক্ষীরা সদর
  • শ্যামনগর
  • তালা
  • কালীগঞ্জ
  • আশাশুনি
  • দেবহাটা
  • কলারোয়া

শেষ কথা

বাংলাদেশ সৌন্দর্যের এক অপরূপ উদাহরণ। এখানে ৬৪ জেলার মধ্যে সৌন্দর্যের দিক থেকে কোন জেলা এগিয়ে আবার কোন জেলা তুলনামূলক কম জনপ্রিয় রয়েছে।

এসব কিন্তু নির্ভর করে ব্যক্তি মনের চাহিদা এবং সেই জেলার সার্বিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে। এছাড়াও আপনার জ্ঞানকে প্রসারিত করতে খুলনা কিসের জন্য বিখ্যাত এ সম্পর্কে পড়তে পারেন।

সাতক্ষীরা জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত তা হয়তো এতক্ষণে স্পষ্টরূপে বুঝে গেছেন। আপনাদের কোন প্রশ্ন থাকলে দয়া করে কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন। সকলের সুস্বাস্থ্য কামণা করে আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ্ হাফেজ

Share Now

This website is mainly created to provide information about travel, travel packages, travel agencies, travel visas, travel Bangladesh, and your travel to Bangladesh. We will always try to give you accurate information.

Leave a Comment