গাজীপুর জেলার ইতিহাস | গাজীপুর কিসের জন্য বিখ্যাত

গাজীপুর কিসের জন্য বিখ্যাত তা বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আপনার জানা অত্যন্ত জরুরী। আপনি যদি গাজীপুর জেলার বিখ্যাত হওয়ার কারণ গুলো জেনে না থাকেন।গাজীপুর জেলাতবে দুশ্চিন্তা না করে এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পডুন। কেননা এই আর্টিকেলে আমরা গাজীপুর জেলার সম্পর্কে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, বিখ্যাত খাবার ও দর্শনীয় স্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

গাজীপুর জেলার ইতিহাস?

গাজীপুর বাংলাদেশের একটি অন্যতম শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। গাজীপুরের ইতিহাস খুঁজতে গেলে, জেলার পূর্বের যা বাণিজ্যিক শিল্প অবকাঠামো গুলো ছিল সেগুলোই জানতে পারবেন।

গাজীপুরের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচনা বিষয় হচ্ছে এ জেলার শিল্প। এ জেলায় বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানার পাশাপাশি অন্যান্য শিল্প যেমনঃ খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং ইলেক্ট্রনিক্সের আবাসস্থল রয়েছে।

গাজীপুর জেলার নামকরণ?

কথিত রয়েছে যে, ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজি যখন বাংলায় আক্রমণ শুরু করেন। তখন রাজা লক্ষ্মণ সেন প্রতিবাদ না করে রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে যান। এবং এর ফলে বিনা যুদ্ধেই মুসলিম শাসনের উত্থান ঘটে।

এ সময় ভাহওয়াল গাজীও বেশ শক্তিশালী হয়ে উঠেন। তিনি নিজের নাম অনুযায়ী এ অঞ্চলের নাম দেন ভাহওয়াল। ভাহওয়াল নামটি একটা সময় পরিবর্তন হয়ে ভাওয়াল নামে পরিচিত হয়।

ভাওয়াল পরগণায় স্থায়িত্ব ছিল ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত। পরবর্তীসময়ে তালিপাবাদ, কাশিমপুর, চাঁদপ্রতাপ, সেলিম প্রতাপ পরগনা নিয়ে ১৯৮৪ সালে গাজীপুর জেলা গঠিত হয়।

গাজীপুর জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত?

গাজীপুর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এমনকি যতদিন চাচ্ছে বাংলাদেশের জন্য এই জেলা আর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ জেলার গার্মেন্টস শিল্প, এতিহ্যে গাঁথা সাফারি পার্ক, বিভিন্ন ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান।

এবং জেলার অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই জেলাকে বিখ্যাত করছে। তাহলে চলুন আমরা আগে এ জেলার কিছু দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জেনে আসি।

গাজীপুর জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ?

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক

বাংলাদেশের একটি অন্যতম বিনোদন পার্ক হচ্ছে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক। এটি গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলায় অবস্থিত। বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের মোট আয়তন ৪৯০৯ একর এবং এটি ২০১৩ সালে উদ্বোধন করা হয়।

বলিয়াদী জমিদার বাড়ি

বাংলাদেশের প্রাচীন ঐতিহ্য বা নিদর্শন গুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে বলিয়াদী জমিদার বাড়ি। এই জমিদার বাড়িটি গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলায় অবস্থিত। এই বাড়িটি প্রাচীন আমলের হওয়ায় এর স্থাপত্যশৈলী অত্যন্ত সুন্দর।

ভাওয়াল রাজ শ্মশানেশ্বরী

গাজীপুর জেলার একটি ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান হচ্ছে ভাওয়াল রাজ শ্মশানেশ্বরী। এই দর্শনীয় স্থানটি গাজীপুর জেলার ভাওয়াল উপজেলায় অবস্থিত।

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান এটি শুধু গাজীপুরের একটি দর্শনীয় স্থান নয়। এটি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় উদ্যান। এই জাতীয় উদ্যানটি গাজীপুর সদর ও শ্রীপুর উপজেলায় অবস্থিত।

নুহাশ পল্লী

বাগানবাড়ি বা বন্যের মত দেখতে লাগে এরকম প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশে ঘুরতে কার না ভালো লাগে। এরকম একটি দর্শনীয় স্থান হচ্ছে নুহাশ পল্লী। এই নুহাশ পল্লী বা বাগানবাড়িটি গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলায় অবস্থিত।

গাজীপুর জেলার বিখ্যাত খাবার?

রসগোল্লা

রসগোল্লার কথা শুনেই জিভে জল আসলো! আপনারা এখানকার রসগোল্লার গন্ধ এবং স্বাদের কথা শুনলে অবাক হয়ে যাবেন। গাজীপুর জেলার স্থানীয় কারিগররা এই রসগোল্লা দীর্ঘ সময় নিয়ে তৈরি করে। যা খেতে অতুলনীয় স্বাদ এবং মনে হয় যেন বারবার এই রসগোল্লা খাই।

কাঁঠাল

বাংলাদেশের জাতীয় ফল হচ্ছে কাঁঠাল। আর এই কাঁঠালেই গাজীপুর জেলাকে বিখ্যাত করে তুলেছে। এ জেলায় উৎপাদিত কাঁঠাল অত্যন্ত সুস্বাদু ও সুগন্ধিময় হয়ে থাকে। আর এ কারণেই অন্যান্য জেলের থেকে এ জেলার কাঁঠাল সবাই খুব পছন্দ করে।

চমচম

গাজীপুরের চমচমও বেশ সুস্বাদু ও মজাদার হয়ে থাকে। এ জেলায় অনেক ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি জাতীয় খাবার হয়েছে। যার মধ্যে একটি অন্যতম হচ্ছে এই চমচম।

বিরিয়ানি

গাজীপুর জেলার একটি বিখ্যাত খাবার হচ্ছে বিরিয়ানি। এই বিরিয়ানির জন্য গাজীপুর জেলার প্রত্যেকটি রেস্টুরেন্টে সব সময় ভির গেলেই থাকে। এখানকার বিরিয়ানি অত্যন্ত সুগন্ধিময় ও সুস্বাদু।

পেয়ারা

গাজীপুরের অধিকাংশ পেয়ারা বেশ বড় আকৃতির হয়ে থাকে। বলাই যায় এ জেলায় পেয়ারার চাষ বেশ ভাল হয়। আর এ কারণেই সবাই কাছে এ জেলার পেয়ারা বেশ জনপ্রিয়।

পায়েস

গাজীপুর জেলার আরেকটি ঐতিহ্যবাহী খাবার হচ্ছে পায়েস। এখানকার পায়েসও বেশ সুস্বাদু হয়ে থাকে। আপনার এ জেলায় কখনও ঘুরতে গেলে একবার হলেও পায়েস খেয়ে দেখবেন।

গাজীপুর জেলার বিখ্যাত ব্যক্তি?

মোঃ সামসুল হক

সামসুল হক ছিলেন স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। মূলত তার হাত ধলেই বাংলা ফুটবল দলে অনেক উন্নত হয়।

এম জাহিদ হাসান

জাহিদ হাসান গাজীপুর জেলার অন্যতম একজন বিখ্যাত ব্যক্তি। তিনি একাধারে পদার্থবিদ ও ভাইল ফার্মিয়ন কণার আবিষ্কারক ছিলেন। এবং এর সাথে ল ফার্মিয়ন কণার আবিষ্কারকও বটে।

মেঘনাদ সাহা

মেঘনাদ সাহা ছিলেন একজন জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী। তিনি গাজীপুর জেলার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। তেনার কারণেও এ জেলা পরিচিতি পেয়েছে।

তাজউদ্দিন আহমেদ

বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমেদ। মহান মুক্তিযুদ্ধের পর বাঙালী একটি নতুন স্বাধীন সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্র পায়। আর সেই বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন তাজউদ্দিন আহমেদ।

ফকির শাহাবুদ্দীন

আপনারা কি বাংলাদেশের প্রথম অ্যাটর্নি জেনারেল এর নাম শুনছেন! হ্যাঁ, ফকির শাহাবুদ্দীন সেই ব্যক্তি। যিনি বাংলাদেশের প্রথম অ্যাটর্নি জেনারেল।

রহমত আলী

রহমত আলী ছিলেন একাধারে রাজনীতিবিদ ও গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী। তিনি এই গাজীপুর জেলার একজন অন্যতম বিখ্যাত ব্যক্তি।

গাজীপুর জেলার আয়তন কত?

গাজীপুর জেলার মোট আয়তন হচ্ছে ১৭৭০.৫৪ বর্গ কিলোমিটার। এবং মোট জনসংখ্যা হচ্ছে ৩৪০৩৯১২ জন।

গাজীপুর জেলার উপজেলা কয়টি?

গাজীপুর জেলায় মোট উপজেলা রয়েছে ৫টি। যেমনঃ

  • গাজীপুর সদর
  • কালীগঞ্জ
  • শ্রীপুর
  • কালিয়াকৈর
  • কাপাসিয়া

শেষ কথা

বাংলাদেশ সৌন্দর্যের এক অপরূপ উদাহরণ। এখানে ৬৪ জেলার মধ্যে সৌন্দর্যের দিক থেকে কোন জেলা এগিয়ে আবার কোন জেলা তুলনামূলক কম জনপ্রিয় রয়েছে।

এসব কিন্তু নির্ভর করে ব্যক্তি মনের চাহিদা এবং সেই জেলার সার্বিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে। এছাড়াও আপনার জ্ঞানকে প্রসারিত করতে নারায়ণগঞ্জ জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত এ সম্পর্কে পড়তে পারেন।

গাজীপুর জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত তা হয়তো এতক্ষণে স্পষ্টরূপে বুঝে গেছেন। আপনাদের কোন প্রশ্ন থাকলে দয়া করে কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন। সকলের সুস্বাস্থ্য কামণা করে আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ্ হাফেজ

Share Now

This website is mainly created to provide information about travel, travel packages, travel agencies, travel visas, travel Bangladesh, and your travel to Bangladesh. We will always try to give you accurate information.

Leave a Comment