নারায়ণগঞ্জ জেলার ইতিহাস | নারায়ণগঞ্জ কিসের জন্য বিখ্যাত

নারায়ণগঞ্জ কিসের জন্য বিখ্যাত তা বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আপনার জানা অত্যন্ত জরুরী। আপনি যদি নারায়ণগঞ্জ জেলার বিখ্যাত হওয়ার কারণ গুলো জেনে না থাকেন।নারায়ণগঞ্জ জেলাতবে দুশ্চিন্তা না করে এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পডুন। কেননা এই আর্টিকেলে আমরা নারায়ণগঞ্জ জেলার সম্পর্কে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, বিখ্যাত খাবার ও দর্শনীয় স্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

নারায়ণগঞ্জ জেলার ইতিহাস?

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর নানান জল্পনা কল্পনা শেষে। ১৯৮৪ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এর আগে এটি ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী একটি শহর এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার সদরদপ্তর।

শহরটি একদম শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে অবস্থিত। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ বন্দর দেশের বৃহত্তম নদীবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা-বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলার নামকরণ?

১৭৬৬ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতা বিকন লাল এ অঞ্চলের মালিকানা কিনে নিয়েছিলেন। তিনি প্রভু নারায়ণের সেবার ব্যয়ভার বহনের জন্য তখন একটি উইলের মাধ্যমে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে অবস্থিত।

মার্কেটকে দেবোত্তর সম্পতি হিসেবে ঘোষণা বা লেখে দেন। এরপর পরবর্তী সময় থেকে এ স্থানের নাম হয় নারায়ণগঞ্জ। কালেক্টরেটের প্রারম্ভিক দলিল দস্তাবেজে নারায়ণগঞ্জের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ পাওয়া যায়।

নারায়ণগঞ্জ জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত?

আমরা তো সবাই জানি বাংলাদেশ পাঠের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু বাংলাদেশের মধ্যে আবার নারায়ণগঞ্জ জেলাকে সোনালী আঁঁশ অর্থাৎ পাটের জন্য বিখ্যাত বলা হয়।

এছাড়াও সোনালী আঁঁশ পাটের জন্য নারায়ণগঞ্জ প্রাচ্যের ড্যান্ডি নামেও বেশ পরিচিত। নারায়ণগঞ্জ যে শুধু সোনালী আঁশের জন্য বিখ্যাত, তা কিন্তু নয়। এ জেলায় বিখ্যাত ব্যক্তি, ঐতিহাসিক খাবার এবং নান্দনিক কিছু দর্শনীয় স্থান রয়েছে।

যা, যে কেউ দেখলে মুগ্ধ হয়ে যাবে। আর এসব জায়গা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী এখানে ঘরতে আসে।

নারায়ণগঞ্জ জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ?

বাংলার তাজমহল

আপনারা হয়তো সকলেই ভারতের তাজমহল এর কথা শুনেছেন। কিন্তু বাংলাদেশও একটি তাজমহল রয়েছে। এটি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার পেরাব গ্রামে অবস্থিত।

বাংলার পিরামিড

আপনারা সকলেই মিসরের পিরামিড সম্পর্কে জানেন। কিন্তু আমাদের দেশেও পিরামিড রয়েছে। আপনি যদি বাংলার পিরামিড দেখতে চান, নারায়ণগঞ্জের পেরাব গ্রামে আসতে হবে। এটি ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে উদ্বোধন কো হয়।

কাঁচপুর সেতু

বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ সেতু হচ্ছে কাঁচপুর সেতু। এটি প্রায় ৩৯৭.৩০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৮.১ মিটার প্রস্থ। এই কাঁচপুর সেতু নির্মাণ করতে খরচ হয়েছে ৯৫০ কোটি টাকা।

সাতগ্রাম জমিদার বাড়ি

নারায়ণগঞ্জের সাতগ্রামে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক জমিদার বাড়িটি। ধারণা করা হয় এই জমিদার বাড়িটি ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মাণ করা হয়। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে বাড়িটির কারুকার্য দেখলে যেকোন ভ্রমণ পিপাসু মানুষ মুগ্ধ হয়ে যাবে।

নীল কুঠি

এটি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এর পানামের উত্তর অবস্থিত। এটি অত্যন্ত সুন্দর ও মনরোর পরিবেশ অবস্থিত। আপনারা যদি কখনও নারায়ণগঞ্জে জান তাহলে একবার হলেও এই নীল কুঠির থেকে ঘুরে আসবেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলার বিখ্যাত খাবার?

নারায়ণগঞ্জের মিষ্টি

মিষ্টির সাথে বাঙালীর এক অদ্ভুত সম্পর্ক রয়েছে। মিষ্টি সামনে পেলে সবাই যেন দুনিয়ার সবকিছু ভূলে যায়। এরকম মন ভোলানো মিষ্টি আপনারা নারায়ণগঞ্জ জেলায় পাবেন। এখানকার মিষ্টি রসালো আর কি যে সুস্বাদু বলে বুঝানো যাবে না।

নারায়ণগঞ্জের পিঠা

বাঙালীর ইতিহাস ও ঐতিহ্য সাথে জড়িয়ে রয়েছে পিঠা। এদেশে যেকোন উৎসব অনুষ্ঠানের তৈরি করা হয় বিভিন্ন ধরণের পিঠা।

এ থেকে বিরত নয় নারায়ণগঞ্জ জেলা। এখানে ঐতিহ্যবাহী অনেক পিঠা রয়েছে, যা খেতে অনেক শুধু ও মজাদার হয়ে থাকে।

বিরিয়ানি

নারায়ণগঞ্জ জেলার একটু অন্যতম সুস্বাদু খাবার হচ্ছে বিরিয়ানি। জেলা শহরের যেকোর খাবার দোকানে গেলে আপনারা এখানকার সুস্বাদু বিরিয়ানি খেতে পারবেন।

পায়েস

নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার হচ্ছে পায়েস। এ জেলায় জামাই আদর থেকে শুর করে। দূর দুরান্ত থেকে আসা আত্মীয়-স্বজনদের এই ঐতিহ্যবাহী পায়েস খেতে দেওয়া হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলার বিখ্যাত ব্যক্তি?

হাজী মোঃ আমীর আলী

আমীর আলী একজন সৎ জ্ঞানী ব্যক্তি। তিনি তার জীবনে সামাজিক অনেক কাজ করছেন। তিনি মসজিদ মাদ্রাসা এমনকি স্কুলেও জমি দান করেছেন। তিনি সমাজের উন্নয়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন।

কবি মহিউদ্দিন

কবি মহিউদ্দিন তিনি ১৯০৬ সালের জানুয়ারি মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রবীন্দ্র, নজরুল এর যুগের কবি ছিলেন। এনাদের মতো তিনিও একজন নামকরা কবি ছিলেন।

মোঃ রফিকুল ইসলাম আশরাফী

তিনি ছিলেন বাংলাদেশের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। এছাড়াও তিনি সামাজিক কাজে অনেক আগ্রহী ছিলেন। যেকোন সমাজিক কাজে তিনি সবসময় সহযোগিতা করেছেন।

কবি আব্দুল আউয়াল

তিনি ছিলেন একজন ষাট দশকের বিখ্যাত কবি। তিনি শুধু নারায়ণগঞ্জ না পুরো বাংলাদেশের একজন অন্যতম বিখ্যাত কবি।

নারায়ণগঞ্জ জেলার আয়তন কত?

নারায়ণগঞ্জ জেলার মোট আয়তন হচ্ছে ৬৮৩.১৪ বর্গ কিলোমিটার। এবং মোট জনসংখ্যা হচ্ছে ২৯,৪৮,২১৭ জন।

নারায়ণগঞ্জ জেলার উপজেলা কয়টি?

নারায়ণগঞ্জ জেলায় মোট উপজেলা রয়েছে ৫টি। যেমনঃ

  • নারায়ণগঞ্জ সদর
  • বন্দর
  • রূপগঞ্জ
  • সোনারগাঁও
  • আড়াইহাজার

শেষ কথা

বাংলাদেশ সৌন্দর্যের এক অপরূপ উদাহরণ। এখানে ৬৪ জেলার মধ্যে সৌন্দর্যের দিক থেকে কোন জেলা এগিয়ে আবার কোন জেলা তুলনামূলক কম জনপ্রিয় রয়েছে। এসব কিন্তু নির্ভর করে ব্যক্তি মনের চাহিদা এবং সেই জেলার সার্বিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে।

এছাড়াও আপনার জ্ঞানকে প্রসারিত করতে মুন্সিগঞ্জ জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত এ সম্পর্কে পড়তে পারেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত তা হয়তো এতক্ষণে স্পষ্টরূপে বুঝে গেছেন।

আপনাদের কোন প্রশ্ন থাকলে দয়া করে কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন। সকলের সুস্বাস্থ্য কামণা করে আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ্ হাফেজ

Share Now

This website is mainly created to provide information about travel, travel packages, travel agencies, travel visas, travel Bangladesh, and your travel to Bangladesh. We will always try to give you accurate information.

Leave a Comment