পাকিস্তান হলো দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি রাষ্ট্র। জনসংখ্যার দিক থেকে হিসেব করলে পাকিস্তান বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম রাষ্ট্র। পাকিস্তান দেশটির দক্ষিণে রয়েছে আরব সাগর।
পাকিস্তানের বৃহত্তম নগরী হলো করাচি। পাকিস্তানক আজাদ কাশ্মীরের জন্য অনেকটাই পরিচিত ভ্রমণ পিপাসু মানুষের কাছে। বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান ভিসা পাওয়া খুবই সহজ। বাংলাদেশ থেকে যারা পাকিস্তানে যেতে চান
তারা কিভাবে ভিসার জন্য আবেদন করবেন ও ভিসা পেতে কি কি করা লাগবে ও কত টাকা খরচ হবে নিম্নে এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য প্রদান করার চেষ্টা করা হয়েছে। তাহলে চলুন দেরি না করে জেনে নেওয়া যাকঃ
পাকিস্তানের ভিসা পাওয়ার উপায় । পাকিস্তান ভিসা ফর বাংলাদেশি
যারা বাংলাদেশী নাগরিক তারা খুব সহজেই পাকিস্তানি ভিসা হাতে পেতে পারেন। কিছু শর্তাদি পূরণ করার মাধ্যমেই অল্প কিছুদিনের মধ্যেই পাকিস্তান টুরিস্ট ভিসা পেয়ে যাবেন।
নিম্নে বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান ভিসা পাওয়ার জন্য কি কি করা লাগে তা ধাপে ধাপে দেখানো হলোঃ
১.পাসপোর্ট প্রস্তুত রাখতে হবে
বাংলাদেশ থেকে যদি পাকিস্তানি ভিসা পেতে চান তাহলে অবশ্যই আপনার একটি বৈধ পাসপোর্ট লাগবে। কেননা বৈধ পাসপোর্ট ছাড়া আপনি যখন পাকিস্তানে যেতে চাইবেন তখন অবৈধ হিসেবে গণ্য হবেন।
পাকিস্তান টুরিস্ট ভিসা পাওয়ার জন্য পাসপোর্ট অবশ্যই ছয় মাসের বেশি মেয়াদ থাকতে হবে। পাসপোর্টের একটি স্ক্যান কপি লাগবে।
২. পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে
পাকিস্তানি টুরিস্ট ভিসা পেতে হলে পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে। কেননা অনলাইনের মাধ্যমে যখন আবেদন করবেন এই ছবি প্রয়োজন হবে।
৩. অনলাইনে ভিসা আবেদন করুন
ডকুমেন্টগুলো প্রস্তুত হয়ে থাকলে এখন কাজ অনলাইনে https://visa.nadra.gov.pk অনলাইনে ভিসা আবেদন করা। অনলাইনে ভিসা আবেদন করার জন্য পাসপোর্ট লাগবে,
পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে, রিটার্ন এয়ার টিকেট লাগবে, হোটেল বুকিং প্রিন্ট প্রয়োজন হবে। তারপরে ভিসা ফি প্রদান করে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে।
৪. ভিসাটি হাতে পাওয়া
আবেদন যদি সঠিকভাবে করতে পারেন তাহলে ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে আপনাকে তারা মেইল করার মাধ্যমে জানিয়ে দিবে। অর্থাৎ আপনি ভিসা আবেদন করার সময় যে মেইলটি ওখানে দিয়েছিলেন
উক্ত মেইলের মাধ্যমে তারা আপনাকে জানাবে আপনার ভিসাটি গ্রহণ করেছে কিনা। ভিসাটি যদি হাতে পেয়ে যান তাহলে অবশ্যই প্রিন্ট করে রেখে দিতে হবে।
৫. ভ্রমণ পরিকল্পনা করুন ও প্রস্তুতি নিন
ভিসাটি ইতিমধ্যে হাতে পেয়ে গিয়েছেন এবার আপনাদেরকে ভ্রমণ পরিকল্পনা করতে হবে এবং ভ্রমণের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। এখন যে কাজটি করবেন সর্বপ্রথম বিমান টিকিট কনফার্ম করতে হবে।
ই ভিসা প্রিন্ট ও অন্যান্য কাগজপত্র হাতে রাখতে হবে। তারপরে পাকিস্তানের পৌঁছে ইমিগ্রেশন অফিসার কে আপনার যে ই পাসপোর্টটি রয়েছে সেটি দেখাতে হবে।
ইমিগ্রেশনে অনেক সময় যাত্রা পরিকল্পনা বা হোটেল বুকিং দেখতে চাইতে পারে। তাছাড়া আপনাকে কিছু প্রশ্ন করতে পারে অবশ্যই সঠিক উত্তর দিবেন।
পাকিস্তান ভিসা ফি ফর বাংলাদেশি | বাংলাদেশীদের জন্য পাকিস্তানের ভিসা ফি কত
বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য বর্তমানে পাকিস্তানের ভিসা ফি নেওয়া হয় না। পাকিস্তান ভিজিট ভিসায় যেতে হলে অনলাইনে আবেদন করার মাধ্যমে আপনারা ই ভিসা পেতে পারেন।
আবেদন করার সময় প্রয়োজনীয় কিছু নথি আপলোড করতে হয়। সবকিছু যদি ঠিকঠাক থাকে তাহলে ৭ কার্য দিবসের মধ্যেই ভিসাটি হাতে পেয়ে যাবেন।
পাকিস্তানের টুরিস্ট ভিসায় কতদিন থাকতে পারবেন?
পাকিস্তানের টুরিস্ট বা ভিজিট ভিসার মেয়াদ সাধারণত ভিসা ইস্যু করার দিন থেকে তিন মাস পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করে মেয়াদ কম বেশি হতে পারে।
যেমন একক ব্যক্তির জন্য ইস্যু করা ভিসার মেয়াদ ৩০ দিনের বেশি হয় না। তবে কোন কারনে যদি ভিসার মেয়াদ বাড়াবেন বলে ভেবে থাকেন তাহলে এটি সম্ভব। এক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করতে হয়।
বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান বিমান ভাড়া?
বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান যাওয়ার বিমান ভাড়া এয়ারলাইন্স ভেদে কমবেশি হয়ে থাকে। এয়ার আরাবিয়া, ফ্লাই দুবাই, কাতার এয়ারওয়েজ, গালফ এয়ার এগুলো বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানের ট্রানজিট ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে।
আরও পড়ুনঃ সৌদি আরব ভিসা দাম কত | সৌদি আরবে কোন কাজের বেতন বেশি
যার কারণে বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান যেতে সাধারনত ৮ থেকে ১২ ঘন্টা সময় লেগে থাকে। এগুলোর ভাড়া এক লাখ টাকা থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
শেষ কথা
বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানের ভালো কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। যার কারণে ১২৬ টা দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান রয়েছে। এই দেশগুলোর ভিসা ফি নেওয়া হয় না।
তারপরও যদি পাকিস্তান ভিজিট ভিসা সম্পর্কিত কোন প্রশ্ন থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। ধন্যবাদ।



