উত্তর কোরিয়া যাওয়ার উপায় | উত্তর কোরিয়া যেতে কত টাকা লাগে

উত্তর কোরিয়া হলো পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ। উত্তর কোরিয়া বিশ্বে রহস্যময়, রুদ্ধশ্বাস এবং স্বনির্ভর সমাজতান্ত্রিক দেশ হিসাবে অনেকটাই পরিচিত।উত্তর কোরিয়া যাওয়ার উপায় | উত্তর কোরিয়া যেতে কত টাকা লাগেউত্তর কোরিয়া দেশটি একনায়ক তান্ত্রিক পারিবারিক শাসনের মাধ্যমে চলে। উত্তর কোরিয়ায় কোন গণতান্ত্রিক নির্বাচন নেই এবং মানুষ সাধারণভাবে তাদের মত প্রকাশ করতে পারেনা।

এই পোস্টে কথা বলব বাংলাদেশ থেকে উত্তর কোরিয়া ভিসা পাওয়া যায় কিনা এই বিষয়ে। রহস্যময় এই দেশটিতে কিভাবে যাবেন এই নিয়ে থাকছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু আলোচনা।

উত্তর কোরিয়ার ভিসা পাওয়ার উপায়?

বাংলাদেশ থেকে উত্তর কোরিয়ায় যেতে হলে আপনাকে অবশ্যই টুরিস্ট ভিসা নিয়ে যেতে হবে। তবে উত্তর কোরিয়ার ভিসা পাওয়াটা অনেক কঠিন একটা কাজ।

কেননা বাংলাদেশের ঢাকায় উত্তর কোরিয়ার কোন এম্বাসি বা দূতাবাস নেই। আপনাকে যদি উত্তর কোরিয়া ভ্রমণ করতে হয় তাহলে দিল্লিতে অবস্থিত দূতাবাসের মাধ্যমে ভিসা আবেদন করতে হবে।

তাছাড়া বাংলাদেশের সরকার অনুমোদিত অনেক এজেন্সি রয়েছে যারা গ্রাহকদের নির্বিঘ্নে ভিসা প্রসেসিং এর যাবতীয় কাজ করে দিয়ে থাকে। এই সকল এজেন্সির মাধ্যমে আপনারা উত্তর কোরিয়া হিসাব বা ভ্রমণ ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

তবে যখন কোন এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করবেন তখন অবশ্যই যাচাই-বাছাই করে নিবেন এজেন্সি টা কি রকম। উত্তর কোরিয়া টুরিস্ট ভিসা পাওয়ার জন্য কিছু ডকুমেন্ট প্রয়োজন হবে নিম্নে তা উল্লেখ করা হলোঃ

  • কমপক্ষে ছয় মাস মেয়াদের একটি বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে।
  • এবং পাসপোর্টে অবশ্যই দুইটি খালি পৃষ্ঠা থাকতে হবে।
  • দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে।
  • ভিসা আবেদন ফরম লাগবে।
  • ভ্রমণ সংস্থার বুকিংপত্র লাগবে।
  • সম্প্রতি তিন থেকে ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রয়োজন হবে উত্তর কোরিয়া টুরিস্ট ভিসা করার জন্য।
  • যদি ভারতের মাধ্যমে ট্রানজিট ভিসা করে থাকেন তাহলে ভারতীয় ভিসারও দরকার হতে পারে। তবে এটা সব ক্ষেত্রে লাগেনা।

উত্তর কোরিয়া ভিসা প্রসেসিং করা খুবই জটিল একটি প্রক্রিয়া তাই কখনোই নিজে করতে পারবেন না। তাই ভালো একটি আন্তর্জাতিক ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে করাই উত্তম।

উত্তর কোরিয়ার ভিসা প্রসেসিং হতে সাধারণত দুই থেকে চার সপ্তাহের মত সময় লেগে থাকে।

উত্তর কোরিয়া ভিসা খরচ?

বাংলাদেশ থেকে যদি দিল্লি নিউ দূতাবাসের মাধ্যমে আপনি উত্তর কোরিয়া টুরিস্ট ভিসা পেতে চান তাহলে খরচ হবে ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা।

আর যদি চীনের মাধ্যমে টুরিস্ট কার্ড নিয়ে উত্তর কোরিয়া যান তাহলে খরচের পরিমাণটা অনেকাংশে কমে যাবে। এক্ষেত্রে ২০ হাজার টাকা খরচ হবে।

ভারত হয়ে যদি যান তাহলে ফ্লাইট খরচ সহ মোট আপনাদের ৮০ হাজার টাকার কাছাকাছি খরচ চলে যাবে। তারপরও আরো অনেক খরচ রয়েছে যেমন সেখানে গিয়ে হোটেল ভাড়া খাবার দাবার সহ ইত্যাদি।

উত্তর কোরিয়ার ভিসা পেতে কত দিন সময় লাগবে?

ভারতে অবস্থিত দিল্লি দূতাবাসের মাধ্যমে যদি উত্তর কোরিয়া টুরিস্ট কার্ড পেতে চান তাহলে এখানে সময় লাগতে পারে ১০ থেকে ২১ কার্য দিবস। অনেকের ক্ষেত্রে ২৫ দিনও লেগে যায়।

Koryo Konsult,Young Pioneer Tours গুলোর মাধ্যমে আবেদন করলে ২১ দিনের মধ্যেই ভিসা পেয়ে যাবেন।

উত্তর কোরিয়ায় টুরিস্ট অফিসে যাওয়ার পর সতর্কতামূলক কথা?

উত্তর কোরিয়া হলো বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন একটি দেশ। এই দেশটিতে একনায়কতন্ত্র শাসন চলে। তাই বাইরের দেশ থেকে আসা পর্যটকদেরও অবশ্যই কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলতে হয়।

  • ভ্রমণ করতে গেলে আপনি কখনোই একা চলাফেরা করতে পারবেন না আপনার সাথে সকল সময় সরকার অনুমোদিত একজন গাইড থাকবে।
  • সেনা সদস্য, নির্মাণ এলাকা, চেক পোস্ট ও ক্ষুধার্ত মানুষের ছবি তোলা সেখানে একেবারে নিষিদ্ধ।
  • কিম পরিবারের স্মৃতিস্তম্ভের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে অসম্মান করা যাবে না।
  • শুধুমাত্র টুর গাইড নির্ধারিত দোকানের মাধ্যমে জিনিসপত্র কিনতে পারবেন।
  • ধর্মীয় বা রাজনৈতিক কোন বই সাথে নিয়ে যাওয়া যাবে না এবং সেখানে পড়া যাবে না।
  • সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা না করা।

তাছাড়া উত্তর কোরিয়া যখন আপনি ভ্রমণ করবেন তখন গাইডের কথামত চলতে হবে। অর্থাৎ কোন কিছু করার আগে অবশ্যই গাইডকে একবার হলেও জিজ্ঞেস করে নিবেন। তাহলে কোন ধরনের বিপদের সম্মুখীন হবেন না।

আরও পড়ুনঃ ইয়েমেন ভিসার দাম কত | ইয়েমেন যেতে কত টাকা লাগে

উত্তর কোরিয়া যেতে কত টাকা লাগে?

ট্যুর প্যাকেজ ও ভ্রমণ পদ্ধতি

উত্তর কোরিয়া একটি নিষিদ্ধ এবং কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত দেশ, যেখানে সাধারণ পর্যটকরা সরাসরি ভ্রমণ করতে পারে না। বাংলাদেশ থেকে উত্তর কোরিয়া ভ্রমণ করতে হলে আপনাকে প্রথমে চীনের বেইজিং বা

অন্য কোনো শহরে যেতে হবে, সেখান থেকে সরকার অনুমোদিত ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে গ্রুপ ট্যুরে অংশ নিতে হবে। এই ট্যুর প্যাকেজগুলোতে হোটেল, খাবার, গাইড এবং যানবাহন সহ সবকিছু অন্তর্ভুক্ত থাকে।

সাধারণ ৫ থেকে ৭ দিনের প্যাকেজের মূল্য হয় প্রায় ১,৫০,০০০ থেকে ২,৫০,০০০ টাকা (প্রায় $1,500–2,500 USD)। যেসব প্যাকেজ বেশি দিন বা বেশি শহর কভার করে, তাদের খরচ আরও বেশি হয়।

ভিসা ও আনুষঙ্গিক ফি

উত্তর কোরিয়ার ভিসা সরাসরি না দিয়ে আপনাকে ট্যুর কোম্পানির মাধ্যমেই নিতে হয়। সাধারণত, ভিসা ফি $৫০–১০০ ডলারের মধ্যে হয়। যেহেতু আপনাকে চীনের মাধ্যমে যেতে হবে, তাই চীনা ভিসাও লাগবে যার খরচ হয় প্রায় $১২০–২৫০ (বাংলাদেশি টাকায় ১৩,০০০ থেকে ২৮,০০০ টাকা)।

সেই সঙ্গে ভ্রমণ বীমা, স্বাস্থ্য ফর্মালিটিজ এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টেশন মিলিয়ে প্রায় আরও ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা অতিরিক্ত খরচ হতে পারে।

বিমান ও ট্রেন ভাড়া

ঢাকা থেকে চীনের বেইজিং শহরে যাওয়ার ফ্লাইট ভাড়া সাধারণত ৫০,০০০ থেকে ১,২০,০০০ টাকার মধ্যে পড়ে, যেটা নির্ভর করে সময় ও এয়ারলাইনের ওপর।

বেইজিং থেকে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ং এ যাওয়ার জন্য ট্রেন বা ফ্লাইট ব্যবহার করা যায়। ট্রেন রাউন্ড ট্রিপে খরচ পড়ে প্রায় $৩০০, আর যদি বিমানে যান তবে খরচ হতে পারে $৬০০–৭০০ এর মতো।

যেহেতু অধিকাংশ ট্যুর প্যাকেজে ট্রেন বা বিমানের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাই আপনি সেটা কোম্পানির মাধ্যমেই ঠিক করে নিতে পারেন।

দৈনন্দিন খরচ ও অতিরিক্ত ব্যয়

উত্তর কোরিয়ায় আপনি স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারবেন না, তাই দৈনন্দিন খরচ অনেকটাই ট্যুর প্যাকেজের মধ্যে থাকে। তিন বেলা খাবার, হোটেল এবং ভ্রমণ খরচ সাধারণত ট্যুর কোম্পানিই বহন করে।

তবে ব্যক্তিগত কেনাকাটা, স্মারক জিনিসপত্র, পানীয় বা টিপসের জন্য প্রতিদিন আলাদাভাবে ১,৫০০–২,৫০০ টাকা করে রাখতে পারেন। ফলে ৫ দিনের সফরে অতিরিক্ত খরচ ধরা যেতে পারে প্রায় ৭,৫০০ থেকে ১০,০০০ টাকার মতো।

মোট খরচের সারসংক্ষেপ

উত্তর কোরিয়া ভ্রমণের জন্য একজন বাংলাদেশি পর্যটকের মোট খরচ প্রায় ২,৫০,০০০ থেকে ৪,৫০,০০০ টাকার মধ্যে হতে পারে। এর মধ্যে ট্যুর প্যাকেজ, ভিসা, বিমান ভাড়া, ট্রেন/ফ্লাইট, এবং ব্যক্তিগত খরচ সবই অন্তর্ভুক্ত।

আরও পড়ুনঃ বেলজিয়াম বেতন কত | বেলজিয়াম যেতে কত টাকা লাগে

যদি আপনি আরামদায়ক এবং লাক্সারি ট্যুর পছন্দ করেন তাহলে এই খরচ আরও বাড়তে পারে। আবার আগে থেকে বুকিং, গ্রুপ ট্যুর বা অফ-সিজনে গেলে খরচ কিছুটা কমানো সম্ভব।

শেষ কথা

আশা করি ইতিমধ্যে উত্তর কোরিয়া টুরিস্ট ভিসা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পেয়েছেন। তারপরও যদি উত্তর কোরিয়া টুরিস্ট ভিসা নিয়ে আর কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাতে পারেন। খুবই দ্রুত সময়ের মধ্যে আপনার প্রশ্নটির উত্তর দেওয়া হবে।

Share Now

This website is mainly created to provide information about travel, travel packages, travel agencies, travel visas, travel Bangladesh, and your travel to Bangladesh. We will always try to give you accurate information.

Leave a Comment