সুদান হচ্ছে উত্তর আফ্রিকার একটি দেশ। সুদানের রাজধানীর নাম হল খারতুম। আয়তনের দিক থেকে যদি হিসাব করা হয় তাহলে সুদান আফ্রিকার বৃহত্তম একটি দেশ।
সুদান দেশটির উত্তরে রয়েছে মিশর, পূর্বে লোহিত সাগর, দক্ষিণ-পশ্চিমে রয়েছে গণতান্ত্রিক অঙ্গ প্রজাতন্ত্র, পশ্চিমের চাদ ও উত্তর পূর্বে লিবিয়া অবস্থিত।
সুদানের জনসংখ্যা ৩ কোটির কিছু বেশি। অর্থনৈতিকভাবে সুদান তেমন শক্তিশালী অবস্থানে না থাকার কারণে এই দেশটি সম্পর্কে অনেকেই জানেন না।
আজকের পোস্টে সুদান যাওয়ার উপায় ও সুদান যেতে কত টাকা লাগে এই বিষয়ে জানানোর চেষ্টা করা হবে। তাহলে চলুন দেরি না করে জেনে নেওয়া যাকঃ
সুদান ভিসা পাওয়ার উপায়?
সুদান তেমন উন্নত দেশ না হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে সুদানে যাওয়ার লোকের সংখ্যা খুবই কম। তারপরেও অনেকেই সুদানে কাজের ভিসায় মাঝেমধ্যে যাই।
অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে সুদান যাওয়ার জন্য কাজের ভিসা দেওয়া হয়ে থাকে। তবে সুদান ভিসা পাওয়ার জন্য কিছু শর্তাদি রয়েছে সেগুলো অবশ্যই পালন করতে হবে তারপরে সুদান কাজের ভিসা পাবেন।
বাংলাদেশ থেকে সুদান কাজের ভিসা পাওয়ার জন্য কি কি ডকুমেন্ট লাগে?
সুদান যাওয়ার জন্য বাংলাদেশী নাগরিকদের সুদানের কনসূলেট বা দূতাবাসে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
আরও পড়ুনঃ তুরস্ক কাজের বেতন | তুরস্ক যেতে কত টাকা লাগে
সুদান যাওয়ার জন্য যখন ভিসা আবেদন করবেন তখন প্রয়োজনীয় কিছু ডকুমেন্ট দূতাবাসে জমা দিতে হবে। যেমনঃ
- একটি বৈধ পাসপোর্ট জমা দিতে হবে এবং ছয় মাসের মেয়াদ থাকতে হবে।
- দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি লাগবে।
- ভিসা আবেদন ফরম লাগবে।
- আর্থিক অবস্থার প্রমাণপত্র দিতে হবে।
- ইনভাইটেশন লেটার থাকলে সেটা জমা দিতে হবে।
অর্থাৎ এই ডকুমেন্টগুলো থাকলেই শুধু কাজের ভিসার জন্য সুদানের কনসুলেটে আবেদন করতে পারবেন। তারপরে তারা সবকিছু যাচাই-বাছাই করে যদি ভিসা পাওয়ার যোগ্য হন আপনাকে ভিসা প্রদান করবে।
সুদান যেতে কি ভিসা লাগবে?
সুদানে আপনি কোন ভিসা নিয়ে যাবেন সেটা আপনাকে নির্ধারণ করতে হবে। অর্থাৎ আপনি যদি ভ্রমণের জন্য যান তাহলে আপনাকে শুধুই টুরিস্ট ভিসা নিতে হবে।
আর যদি কাজের ভিসায় যেতে চান তাহলে সুদান কাজের ভিসা নিতে হবে। তবে কাজের ভিসায় যাওয়ার জন্য একটি সমস্যা রয়েছে সেটি হলো সুদানে সকল সময় কাজের জন্য লোক নিয়োগ দেওয়া হয় না।
যার কারণে যদি কেউ ইচ্ছা করে সুদানে কাজের ভিসায় যাবেন তাহলে অবশ্যই কলিং খোলার অপেক্ষা করতে হবে।
সুদান কাজের ভিসা কিভাবে পাওয়া যাবে | দক্ষিণ সুদানের ভিসা কিভাবে পাওয়া যায়
সুদান কাজের ভিসা সরাসরি বাংলাদেশ থেকে দেওয়া হয় না। অর্থাৎ আপনাকে যদি সুদানে যেতে হয় তাহলে ভিজিট ভিসায় যেতে হবে তারপর সেখানে কাজ করতে হবে।
তবে সুদানে কাজের বেতন মধ্য প্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম। তাছাড়া সুদান রাজনৈতিক অস্থিরতার একটি দেশ।
সেখানে বিদেশি নাগরিকরা কাজ করতে আসলে তাদের নিরাপদ তারাও একটি বিষয় রয়েছে। যার কারণে সুদানে বাইরের কোন দেশ থেকে কাজ করতে যাই এমন কর্মীর সংখ্যা খুবই কম।
আরও পড়ুনঃ লিবিয়া বেতন কত | লিবিয়া যেতে কত টাকা লাগে
সুদান যেতে কত টাকা লাগে?
সুদানে যাওয়ার জন্য মোট খরচ নির্ভর করে আপনি কোন উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন। চাকরি, পড়াশোনা, ব্যবসা বা ভ্রমণ। সাধারণভাবে, ওয়ার্ক পারমিট বা চাকরির উদ্দেশ্যে গেলে খরচ কিছুটা বেশি হয়।
প্রথমেই লাগবে বৈধ পাসপোর্ট, যার জন্য বাংলাদেশে ৩,৪৫০ থেকে ৬,৯০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। এরপর মেডিকেল টেস্ট, বিশেষ করে GAMCA টেস্ট করাতে হয়।
যার খরচ প্রায় ৭,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকার মধ্যে। ভিসা প্রসেসিং খরচ ট্যুরিস্ট ভিসার ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম (৮,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা), তবে কাজের উদ্দেশ্যে গেলে ভিসা ও অন্যান্য অনুমতিপত্র সংগ্রহে ৩০,০০০ থেকে ৭০,০০০ টাকা
বা তারও বেশি লাগতে পারে, বিশেষ করে এজেন্টের মাধ্যমে করলে। ফ্লাইট খরচও একটি বড় অংশ। ঢাকা থেকে সুদানের রাজধানী খার্তুম পর্যন্ত একমুখী ফ্লাইটের খরচ সাধারণত ৬০,০০০ থেকে ৯০,০০০ টাকার মধ্যে পড়ে।
অনেক সময় ট্রানজিট, ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ ধরলে আরও ১০,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি খরচ হতে পারে।
সব মিলিয়ে চাকরির উদ্দেশ্যে সুদান যেতে চাইলে মোট খরচ আনুমানিক ১.৫ লাখ থেকে ২.৫ লাখ টাকার মধ্যে হতে পারে। তবে এই খরচ আপনার যাত্রার ধরন, এজেন্টের ফি ও অন্যান্য পরিস্থিতি অনুযায়ী কমবেশি হতে পারে।
সুদান ভিসা পেতে কতদিন লাগে?
সুদান ভিসা পেতে ১৫ থেকে ২০ দিনের মতো সময় লেগে থাকে। তবে অনেক ক্ষেত্রে সময়সীমা ৩০ দিনের কাছাকাছি চলে যাই। তবে সাধারণ সময় হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ দিন অর্থাৎ এর মধ্যেই অনেককে ভিসা দিয়ে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুনঃ মরিশাস ভিসার দাম কত | মরিশাস যেতে কত টাকা লাগে
সুদানের টাকার মান কত | সুদানের 1 টাকা বাংলাদেশের কত টাকা
বর্তমানে সুদানের ১০০ টাকা বাংলাদেশের ১৮ টাকা ১০ পয়সার কাছাকাছি। সুদানের এক টাকা সমান বাংলাদেশি ০.২০ টাকা। সুদানের ১০০ টাকা বাংলাদেশের ২০ টাকা। সুদানের ১০০০ টাকা সমান বাংলাদেশি টাকা ২০১.৯৮।
শেষ কথা
সুধান্ত যাওয়ার উপায় বা সুদানের ভিসা বাংলাদেশ থেকে কিভাবে পাওয়া যায় আশা করি উপরোক্ত পোস্টটি করে এই বিষয়ে পরিপূর্ণ ধারণা পেয়েছেন।
তাই যদি আফ্রিকার দেশ সুদানে যেতে চান তাহলে অবশ্যই গাইডলাইনগুলো ফলো করে ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন।



