মুন্সিগঞ্জ জেলার ১৩ জন বিখ্যাত ব্যক্তি

মুন্সিগঞ্জ জেলা বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বিক্রমপুর অঞ্চলের অংশ হিসেবে শিক্ষা, সাহিত্য, বিজ্ঞান, সংগীত, ক্রীড়া ও রাজনীতিতে অসংখ্য গুণী ব্যক্তিত্ব উপহার দিয়েছে।মুন্সিগঞ্জ জেলার ১৩ জন বিখ্যাত ব্যক্তিআন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু থেকে শুরু করে প্রখ্যাত সাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদ এবং ইংলিশ চ্যানেল বিজয়ী সাঁতারু ব্রজেন দাস এই জেলার কৃতি সন্তানেরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মুন্সিগঞ্জকে বিশেষ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

এই ব্লগে মুন্সিগঞ্জ জেলার বিখ্যাত ব্যক্তিদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় ও অবদান তুলে ধরা হয়েছে, যা শিক্ষার্থী, গবেষক এবং সাধারণ পাঠকদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র হিসেবে সহায়ক হবে।

মুন্সিগঞ্জ জেলার ১৩ জন বিখ্যাত ব্যক্তি?

নিচে মুন্সিগঞ্জ জেলার ১৩ জন বিখ্যাত ব্যক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলোঃ

১. জগদীশ চন্দ্র বসু — আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী

জগদীশ চন্দ্র বসু উপমহাদেশের বিজ্ঞানচর্চার ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি পদার্থবিজ্ঞান, উদ্ভিদবিদ্যা ও জীববিজ্ঞানে গবেষণার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেন।

বেতার তরঙ্গ সংক্রান্ত তাঁর গবেষণা পরবর্তীকালে বেতার যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি গড়ে দেয়। উদ্ভিদের অনুভূতি ও সাড়া প্রদানের সক্ষমতা নিয়ে তাঁর পরীক্ষামূলক গবেষণা বিজ্ঞানজগতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে।

বিক্রমপুরের এই কৃতি সন্তান প্রমাণ করেছেন যে বাঙালি মেধা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি পেতে সক্ষম। বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করে তোলা এবং গবেষণার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টিতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।

২. অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ — সাবেক রাষ্ট্রপতি

অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং জাতীয় জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়কালে নেতৃত্ব দেন।

তিনি পেশাগত জীবনে একজন শিক্ষাবিদ ও অধ্যাপক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রশাসনিক ও একাডেমিক দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর শাসনামল রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হলেও তিনি সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেন। মুন্সিগঞ্জ জেলার এই গুণী ব্যক্তিত্ব শিক্ষা ও রাষ্ট্রপরিচালনা দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

৩. হুমায়ুন আজাদ — কবি, ঔপন্যাসিক ও ভাষাবিজ্ঞানী

হুমায়ুন আজাদ ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী একজন সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবী। তিনি কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, ভাষাবিজ্ঞান ও সমালোচনায় সমান দক্ষতা দেখিয়েছেন।

সমাজ, ধর্ম, মৌলবাদ, রাজনীতি ও সংস্কারবিরোধী নানা বিষয়ে তাঁর লেখনী ছিল স্পষ্ট ও তীক্ষ্ণ। আশির দশক থেকে তিনি প্রথাবিরোধী লেখক হিসেবে ব্যাপক আলোচিত হন।

তাঁর রচনাগুলো বাংলা সাহিত্যে নতুন চিন্তার দিগন্ত উন্মোচন করেছে। মুন্সিগঞ্জের সাহিত্যিক ঐতিহ্যকে আধুনিক বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে প্রতিষ্ঠিত করতে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়।

৪. ব্রজেন দাস — ইংলিশ চ্যানেল বিজয়ী সাঁতারু

ব্রজেন দাস ছিলেন উপমহাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক অনন্য নাম। তিনি প্রথম দক্ষিণ এশীয় ব্যক্তি হিসেবে সাঁতরে ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করেন। ১৯৫৮ সালের ১৮ আগস্ট তিনি এই কৃতিত্ব অর্জন করে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেন।

কঠোর অনুশীলন, অদম্য সাহস ও মানসিক দৃঢ়তার মাধ্যমে তিনি অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছিলেন। তাঁর সাফল্য ক্রীড়াপ্রেমী তরুণদের জন্য আজও অনুপ্রেরণার উৎস।

৫. আলাউদ্দিন আলী — সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক

আলাউদ্দিন আলী ছিলেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সংগীতের এক কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব। সুরকার, বেহালাবাদক, গীতিকার ও সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে চলচ্চিত্রাঙ্গনে কাজ করেছেন।

সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে সাতবার এবং গীতিকার হিসেবে একবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন, যা তাঁর সৃজনশীলতার প্রমাণ বহন করে।

অসংখ্য জনপ্রিয় গান তাঁর হাত ধরে সৃষ্টি হয়েছে, যা আজও শ্রোতাদের মনে অম্লান। মুন্সিগঞ্জ জেলার এই কৃতি সন্তান বাংলা সংগীতকে সমৃদ্ধ করেছেন বহুমাত্রিক অবদানের মাধ্যমে।

৬. ফেরদৌস ওয়াহিদ — গায়ক

ফেরদৌস ওয়াহিদ বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের একজন জনপ্রিয় শিল্পী। আধুনিক বাংলা গান ও চলচ্চিত্র সংগীতে তাঁর কণ্ঠ বিশেষভাবে সমাদৃত। তাঁর গানগুলোতে রোমান্টিকতা, আবেগ ও সুরের মাধুর্য শ্রোতাদের আকৃষ্ট করে।

দীর্ঘ সংগীতজীবনে তিনি অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন এবং দেশের সংগীতজগতে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন। মুন্সিগঞ্জ জেলার সাংস্কৃতিক পরিচিতিকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

৭. হাবিব ওয়াহিদ — সংগীতশিল্পী ও সুরকার

হাবিব ওয়াহিদ আধুনিক বাংলা সংগীতে ফিউশন ধারার প্রবর্তকদের একজন হিসেবে পরিচিত। তিনি লোকগীতি ও আধুনিক সুরের সমন্বয়ে নতুন ধারা তৈরি করেন, যা তরুণ প্রজন্মের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

সংগীতশিল্পী, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে তিনি অসংখ্য হিট গান উপহার দিয়েছেন। প্রযুক্তিনির্ভর সংগীতায়োজন ও নতুন ধারার পরীক্ষার মাধ্যমে তিনি বাংলা সংগীতে বৈচিত্র্য এনেছেন।

মুন্সিগঞ্জের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আধুনিক ধারায় উপস্থাপনে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়।

৮. অনন্ত জলিল — অভিনেতা ও ব্যবসায়ী

অনন্ত জলিল বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে অভিনয় ও প্রযোজনার মাধ্যমে পরিচিতি অর্জন করেন। একই সঙ্গে তিনি সফল ব্যবসায়ী হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত।

তাঁর প্রযোজিত চলচ্চিত্রগুলো বড় বাজেট, প্রযুক্তিগত ব্যবহারে আধুনিকতা এবং আন্তর্জাতিক লোকেশনে শুটিংয়ের জন্য আলোচিত হয়েছে।

দেশীয় চলচ্চিত্রে ভিন্নমাত্রার প্রযোজনা আনার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখেন। মুন্সিগঞ্জ জেলার এই ব্যক্তিত্ব বিনোদন ও ব্যবসা দুই ক্ষেত্রেই পরিচিত নাম।

৯. তানিয়া বৃষ্টি — অভিনেত্রী

তানিয়া বৃষ্টি বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ। অভিনয়ের স্বাভাবিকতা ও সাবলীল উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি দর্শকদের মন জয় করেছেন। নাটক, টেলিফিল্ম ও চলচ্চিত্রে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেন।

মুন্সিগঞ্জ জেলার নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের মধ্যে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম, যিনি বিনোদন অঙ্গনে জেলার প্রতিনিধিত্ব করছেন।

১০. কালী কিশোর সেন চৌধুরী — জমিদার, শিক্ষানুরাগী ও দানবীর

কালী কিশোর সেন চৌধুরী বিক্রমপুর অঞ্চলের একজন প্রভাবশালী জমিদার হলেও তিনি কেবল জমিদারি প্রশাসনেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে অঞ্চলে আধুনিক শিক্ষার প্রসারে সহায়তা করেন। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান, সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন

এবং জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য তিনি দানবীর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর উদ্যোগ বিক্রমপুর তথা মুন্সিগঞ্জের সামাজিক ও শিক্ষাগত অগ্রগতিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে।

১১. বালাম — সংগীতশিল্পী, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক

বালাম বাংলাদেশের ব্যান্ড ও আধুনিক সংগীতধারার পরিচিত নাম। তিনি কণ্ঠশিল্পী হওয়ার পাশাপাশি সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন।

পপ ও রক ঘরানার গানকে জনপ্রিয় করে তুলতে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। তাঁর গাওয়া ও সুর করা বহু গান তরুণ সমাজের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

সংগীতের নতুন ধারার পরীক্ষানিরীক্ষা ও আধুনিক সংগীতায়োজনে তিনি স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছেন, যা মুন্সিগঞ্জ জেলার সাংস্কৃতিক পরিসরকে সমৃদ্ধ করেছে।

১২. চাঁদ মিয়া — বীর মুক্তিযোদ্ধা (বীর প্রতীক)

চাঁদ মিয়া ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য সাহসিকতার পরিচয় দেন। স্বাধীনতার সংগ্রামে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত করে।

যুদ্ধকালীন বিভিন্ন সম্মুখসমরে তাঁর বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা স্থানীয়ভাবে কিংবদন্তিতুল্য হয়ে আছে। মুন্সিগঞ্জ জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তিনি এক গর্বিত নাম, যিনি আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

১৩. আব্দুল হাকিম বিক্রমপুরী — রাজনীতিবিদ ও সাহিত্যিক

আব্দুল হাকিম বিক্রমপুরী ছিলেন রাজনীতি ও সাহিত্য উভয় ক্ষেত্রেই সক্রিয় ব্যক্তিত্ব। তিনি বঙ্গীয় আইন পরিষদ, প্রাদেশিক আইনসভা এবং পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চায়ও তিনি মনোনিবেশ করেন। সমাজ, সংস্কৃতি ও জাতীয় চেতনা বিষয়ক লেখালেখির মাধ্যমে তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে অবদান রাখেন। বিক্রমপুরের রাজনৈতিক ঐতিহ্য গঠনে তাঁর ভূমিকা ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুনঃ নাটোর জেলার থানা কয়টি ও কি কি

FAQs:

১. মুন্সিগঞ্জ জেলা কেন ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ?

মুন্সিগঞ্জ প্রাচীন বিক্রমপুর অঞ্চলের অংশ, যা শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য ও রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্য ঐতিহাসিকভাবে সমৃদ্ধ।

এই জেলা থেকে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু, সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ এবং প্রথাবিরোধী লেখক হুমায়ুন আজাদ এর মতো ব্যক্তিত্ব উঠে এসেছেন।

২. মুন্সিগঞ্জ জেলার সবচেয়ে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তি কে?

আন্তর্জাতিক পরিসরে সবচেয়ে সুপরিচিত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম হলেন বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু, যিনি বেতার তরঙ্গ ও উদ্ভিদবিজ্ঞানে গবেষণার জন্য বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেন।

এছাড়া ক্রীড়াক্ষেত্রে ব্রজেন দাস ইংলিশ চ্যানেল সাঁতরে পার হয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পান।

৩. মুন্সিগঞ্জ জেলার কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি ছিলেন?

মুন্সিগঞ্জ জেলার কৃতি সন্তান অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শিক্ষাবিদ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

৪. মুক্তিযুদ্ধে মুন্সিগঞ্জ জেলার উল্লেখযোগ্য বীর কে?

মুন্সিগঞ্জ জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে চাঁদ মিয়া বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘বীর প্রতীক’ খেতাব লাভ করেন।

৫. মুন্সিগঞ্জ জেলার সংগীত অঙ্গনে কারা বিখ্যাত?

সংগীত অঙ্গনে মুন্সিগঞ্জ জেলার একাধিক খ্যাতিমান শিল্পী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আলাউদ্দিন আলী, হাবিব ওয়াহিদ, ফেরদৌস ওয়াহিদ এবং বালাম উল্লেখযোগ্য। তাঁরা বাংলা সংগীতে স্বতন্ত্র ধারা সৃষ্টি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।

৬. মুন্সিগঞ্জ জেলার সাহিত্য অঙ্গনে কার অবদান সবচেয়ে বেশি আলোচিত?

হুমায়ুন আজাদ সাহিত্য, ভাষাবিজ্ঞান ও প্রবন্ধ রচনায় বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। সমাজ, ধর্ম, রাজনীতি ও সংস্কার নিয়ে তাঁর বিশ্লেষণধর্মী লেখনী বাংলা সাহিত্যে নতুন আলোচনার জন্ম দেয়।

৭. মুন্সিগঞ্জ জেলার ক্রীড়াক্ষেত্রে কী ধরনের সাফল্য রয়েছে?

ব্রজেন দাসের ইংলিশ চ্যানেল জয় ক্রীড়াক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। তাঁর এই অর্জন দক্ষিণ এশিয়ার ক্রীড়া ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।

৮. মুন্সিগঞ্জ জেলার রাজনৈতিক ইতিহাস কতটা সমৃদ্ধ?

মুন্সিগঞ্জ জেলা থেকে রাষ্ট্রপতি, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী এবং আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। যেমন: আব্দুল হাকিম বিক্রমপুরী ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে আইনসভায় প্রতিনিধিত্ব করেন, যা জেলার দীর্ঘ রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরে।

৯. শিক্ষার্থীদের জন্য এই তালিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

এই তালিকা শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ:

  • জেলা ইতিহাস জানার জন্য।
  • সাধারণ জ্ঞান ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য।
  • স্কুল/কলেজ অ্যাসাইনমেন্ট ও গবেষণার কাজে।
  • বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে।

শেষ কথা

মুন্সিগঞ্জ জেলা তার ঐতিহ্য, শিক্ষা সংস্কৃতি, সাহিত্যচর্চা, সংগীত, ক্রীড়া ও রাজনৈতিক ইতিহাসের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানচিত্রে এক গৌরবোজ্জ্বল অবস্থান দখল করে আছে।

প্রাচীন বিক্রমপুরের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার বহনকারী এই অঞ্চল থেকে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু এবং ইংলিশ চ্যানেল বিজয়ী সাঁতারু ব্রজেন দাস এর মতো ব্যক্তিত্ব উঠে এসেছেন।

তাঁদের জীবন ও কর্ম কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, বরং তা একটি অঞ্চলের সামগ্রিক জাগরণ, শিক্ষাবিস্তার, সাংস্কৃতিক বিকাশ এবং জাতীয় চেতনার ধারাবাহিকতার প্রতিফলন।

মুন্সিগঞ্জের এই বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে এবং জেলা ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

Disclaimer

এই নিবন্ধে উপস্থাপিত মুন্সিগঞ্জ জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সম্পর্কিত তথ্য বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থ, জীবনীমূলক প্রকাশনা, সংবাদপত্র, সরকারি নথি ও উন্মুক্ত তথ্যসূত্রের ভিত্তিতে সংকলিত ও উপস্থাপিত হয়েছে।

তথ্যগুলো শিক্ষা, গবেষণা ও সাধারণ জ্ঞান বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে। এখানে বর্ণিত জীবনী, পদবি, সময়কাল বা অবদান সময়ের প্রেক্ষাপটে পরিবর্তিত বা নতুন তথ্যের মাধ্যমে পরিমার্জিত হতে পারে।

কোনো অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি, অসম্পূর্ণতা বা হালনাগাদ প্রয়োজন হলে তা গঠনমূলকভাবে অবগত করার অনুরোধ করা হচ্ছে। এই কনটেন্টের উদ্দেশ্য কোনো রাজনৈতিক প্রচারণা,

দলীয় সমর্থন বা ব্যক্তিগত প্রশংসা নয়, বরং নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক উপস্থাপনার মাধ্যমে মুন্সিগঞ্জ জেলার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক অবদান তুলে ধরা।

এই তথ্য ব্যবহার করে গৃহীত যেকোনো সিদ্ধান্ত, গবেষণা বা প্রকাশনার সম্পূর্ণ দায়ভার ব্যবহারকারীর নিজস্ব। লেখক বা প্রকাশক কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ দায়ভার গ্রহণ করে না।

Share Now

This website is mainly created to provide information about travel, travel packages, travel agencies, travel visas, travel Bangladesh, and your travel to Bangladesh. We will always try to give you accurate information.

Leave a Comment