খাগড়াছড়ি কিসের জন্য বিখ্যাত তা বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আপনার জানা অত্যন্ত জরুরী। আপনি যদি খাগড়াছড়ি জেলার বিখ্যাত হওয়ার কারণ গুলো জেনে না থাকেন।
তবে দুশ্চিন্তা না করে এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পডুন। কেননা এই আর্টিকেলে আমরা খাগড়াছড়ি জেলা সম্পর্কে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, বিখ্যাত খাবার ও দর্শনীয় স্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।
খাগড়াছড়ি জেলার ইতিহাস?
খাগড়াছড়ি জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত চট্টগ্রাম বিভাগের একটি এ শ্রেণীভুক্ত জেলা। এ অঞ্চলটি পূর্ব রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান একসাথে একটি জেলা ছিল। তবে ১৯৮৪ সালে এরশাদ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভেঙে তিনটি জেলায় গঠন করা হয়।
এরও আগে আবার ১৮৬০ সালের দিখে এই পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম জেলার অংশ ছিল। ১৮৬০ সালের ২০ এ জুন রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি এই তিন পার্বত্য অঞ্চলকে নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা সৃষ্টি হয়।
এই জেলা সৃষ্টির আগে আবার এর ছিল কার্পাস মহল। পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা থেকে ১৯৮১ সালে বান্দরবান এবং ১৯৮৩ সালে খাগড়াছড়ি পৃথক জেলায় রুপান্তরিত হয়।
খাগড়াছড়ি জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত?
খাগড়াছড়ি প্রধানত তার পাহাড়ি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও সমৃদ্ধ ইতিহাসের জন্য বিখ্যাত। এ জেলায় রয়েছে অসংখ্য উঁচু-নিচু পাহাড়, ঝর্ণা, লেক, বনাঞ্চল, চা বাগান এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বসবাস।
এছাড়াও পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ি তার উচ্চ ফলনশীল হলুদ ও আদার জন্যও বেশ পরিচিত। পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত খাগড়াছড়ির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য খুবই বৈচিত্র্যময় ও মনোমুগ্ধকর যা প্রতিটি ভ্রমণ পিপাসু মানুষের নজর কাড়তে সক্ষম।
খাগড়াছড়ি এর পাহাড়ি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি অন্যান্য জেলার তুলনায় বেশ সমৃদ্ধ ও ঘটনা বহুল। যা একে অন্যান্য জেলা থেকে আলাদা করে রেখেছে। বাঙালি স্টাইল থেকে একটু আলাদা বিভিন্ন ধরণের পাহাড়ি খাবার খাওয়া। এবং পাহাড়ি দর্শনীয় স্থানগুলোতে ভ্রমণ করা যেন এক অনুন্ন রোমাঞ্চকর অনুভূতি সৃষ্টি করে।
যা এই রোমাঞ্চকর অনুভূতি পর্যটকদের অধিক পরিমাণে আকর্ষণ করে থাকে। আর এ সকল বিষয়বস্তুর সংমিশ্রণেই খাগড়াছড়ি হয়ে উঠেছে বিখ্যাত এবং জনপ্রিয় একটি জেলা। যা শুধু জেলা নয় এসব দর্শনীয় স্থান দেশের পর্যটক ঘাতকে আরও উন্নত করছে।
ফেনী জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ?
নিউজিল্যান্ড পাড়া
খাগড়াছড়ি জেলার একটি আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থান হল নিউজিল্যান্ড পাড়া। এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঘেরা চোখে প্রশান্তি দেওয়ার মত একটি ছোট গ্রাম। এই গ্রামটি আপনি খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার গুইমারা ইউনিয়নে গেলেই দেখতে পাবেন।
আপনি হয়তো ভাবছেন গ্রাম তো গ্রামেই হয়, কিন্তু না আপনি এখানে গেলে বিশ্বাস এ হবে না আপনি বাংলাদেশে আছেন। আপনার মনে হবে আপনি হয়তো কোন উন্নত রাষ্ট্রে আছেন।
দীঘিনালা ঝুলন্ত সেতু
খাগড়াছড়ি জেলার একটি অভাবনীয় রোমাঞ্চকর দর্শনীয় স্থান হচ্ছে দীঘিনালা ঝুলন্ত সেতু। এটি মূলত তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার জন্য বেশ জনপ্রিয় ও সুপরিচিত।
আমি রোমাঞ্চকর বলছি তার কারণ এরকম সেতু আপনি আমাদের বাংলাদেশে আর কোথাও পাবেন না। এটি আপনি নিজ চোখে না দেখা পযন্ত বিশ্বাস করবেন না, এটা কতটা রোমাঞ্চকর সেতু।
আলুটিলা গুহা
খাগড়াছড়ির একটি বিখ্যাত প্রাচীন দর্শনীয় স্থান হচ্ছে আলুটিলা গুহা। এটি মূলত একটি চুনা পাথরের প্রাকৃতিক গুহা। এটি যুগ যুগ ধরে এভাবেই পরে রয়েছে, এখন এটি বিভিন্ন নিরাপত্তার বলয়ে এটির ভিতর থেকে ঘুরে আসা যায়। এটি রহস্যময় এবং সুন্দর গঠনের জন্য এটি বেশ পরিচিত।
পাঁচরি শান্তিপুর অরণ্য কুটির
খাগড়াছড়ি জেলার একটি জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান বা পর্যটন কেন্দ্র হচ্ছে পাচরি শান্তিপুর অরণ্য কুটির। এটি খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার শান্তিপুর নামক এলাকায় অবস্থিত।
রিছাং জলপ্রপাত
খাগড়াছড়ি জেলার একটি অন্যতম আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থান হচ্ছে রিছাং জলপ্রপাত। এটি সবুজে ঘেরা একটি নির্মল এবং মনোরম জলপ্রপাত। এই জলপ্রপাতটি খাগড়াছড়ি জেলার সদর উপজেলার তাইন্দং ইউনিয়নে অবস্থিত।
লক্ষ্মীপুর জেলার বিখ্যাত খাবার?
বাঁশের ভেতর মুরগি
খাগড়াছড়ি জেলার বিখ্যাত খাবার গুলোর মধ্যে একটি অন্যতম বৈচিত্র্যময় খাবার হচ্ছে বাঁশের ভেতর মুরগি বা ব্যাম্বু চিকেন। প্রথমত বাঁশের ভিতর মুরগি, মসলা, আদা, রসুন, তেল, পেয়াজ, জিরা, ধনে, ইত্যাদি সব রকমের মসলা মিশিয়ে তৈরি করা হয় এই ব্যাম্বু চিকেন।
এটি খাগড়াছড়িতে বাঁশের টবে রান্না করা হয় এবং এর ফলে এর ভেতরের রান্না করা হাঁস কিংবা মুরগির মাংস অন্তত সুস্বাদু ও মজাদার হয়ে থাকে।
চাকমা ঝাল
খাগড়াছড়ি জেলার একটি জনপ্রিয় এবং বিখ্যাত খাবার হচ্ছে চাকমা ঝাল। এই চাকমা ঝাল খাবারটি তৈরি করতে মরিচ, আদা, রসুন, পেঁয়াজ, নারকেল, দুধ, টক দই ইত্যাদি বিভিন্ন ধরণের মসলা ব্যবহার করা হয়। এই খাবারটি মূলত বিভিন্ন মসলা দিয়ে তৈরি করা হয় যাতে খেতে একটু ঝাল ঝাল এবং সুস্বাদু হয়।
পাহাড়ি সবজি
খাগড়াছড়ি জেলার পাহাড়ি এলাকায় বিভিন্ন মৌসুমে প্রচুর পরিমাণে পাহাড়ি সবজি পাওয়া যায়। এগুলো দিয়ে তৈরি করা হয় পাহাড়ি বিভিন্ন ধরণের খাবার। এগুলো খাবার যেহেতু একটু ভিন্ন এবং বৈচিত্র্যময় তাই এগুলো খেতে অনেক সুস্বাদু এবং মজাদার হয়ে থাকে ।
চিতল মাছ ভর্তা
খাগড়াছড়ির বিখ্যাত খাবার গুলোর মধ্যে একটি মজাদার ও সুস্বাদু খাবার হচ্ছে চিতল মাছ ভর্তা। সাধারণত খাগড়াছড়ির পাহাড়ি অঞ্চলে এই ধরণের মাছ অর্থাৎ চিতল মাছ পাওয়া যায়। এই মাছকে বিভিন্ন ধরণের মসলা দিয়ে মিশিয়ে ভর্তা করে একটি সুস্বাদু খাবার তৈরি করা হয়ে থাকে।
খাগড়াছড়ি জেলার বিখ্যাত ব্যক্তি?
মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা
তিনি ছিলেন বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের একজন সুপরিচিত জুম্ম জনগোষ্ঠীর নেতা এবং বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ। ১৯৯৭ সাল ডিসেম্বরের ২ তারিখে শান্তিচুক্তির মাধ্যমে তার আন্দোলনের কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জিত হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা দোস্ত মোহাম্মদ চৌধুরী
তিনি বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের সেই মহান মুক্তিযুদ্ধে রামগড় মহকুমার মহকুমা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি স্বাধীনতার পর নিজেকে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে গড়ে তুলেন।
বীরেন্দ্র কিশোর রোয়াজা
বীরেন্দ্র কিশোর রোয়াজা ছিলেন একজন বাংলাদেশী ত্রিপুরী সমাজকর্মী এবং রাজনীতিবিদ। তিনি ১৯৫৪ সালের পূর্ববঙ্গ আইনসভা নির্বাচনে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি তার কর্মজীবনে অন্তত দক্ষ ও পরিশ্রম ছিলেন তার সমাজকর্মও ছিল মনে রাখার মতো।
মনিকা চাকমা
মনিকা চাকমা হলেন একজন বাংলাদেশী নারী ফুটবল খেলোয়াড়। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের একজন অন্যতম সদস্য। তার অবদান বাংলাদেশ দলে ভোলার মতো না।
খাগড়াছড়ি জেলার আয়তন কত?
খাগড়াছড়ি জেলার মোট আয়তন হচ্ছে ২,৬৯৯.৫৬ বর্গ কিলোমিটার। এবং মোট জনসংখ্যা হচ্ছে ৭,১৪,১১৯ জন।
খাগড়াছড়ি জেলার উপজেলা কয়টি?
খাগড়াছড়ি জেলায় মোট উপজেলা রয়েছে ৯টি। যেমনঃ
- খাগড়াছড়ি সদর
- মাটিরাঙ্গ
- গুইমারা
- মানিকছড়ি
- মহালছড়ি
- দীঘিনালা
- পানছাড়ি
- লক্ষীছড়ি
- রামগড়
শেষ কথা
বাংলাদেশ সৌন্দর্যের এক অপরূপ উদাহরণ। এখানে ৬৪ জেলার মধ্যে সৌন্দর্যের দিক থেকে কোন জেলা এগিয়ে আবার কোন জেলা তুলনামূলক কম জনপ্রিয় রয়েছে।
এসব কিন্তু নির্ভর করে ব্যক্তি মনের চাহিদা এবং সেই জেলার সার্বিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে। এছাড়াও আপনার জ্ঞানকে প্রসারিত করতে লক্ষ্মীপুর কিসের জন্য বিখ্যাত এ সম্পর্কে পড়তে পারেন।
খাগড়াছড়ি জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত তা হয়তো এতক্ষণে স্পষ্টরূপে বুঝে গেছেন। আপনাদের কোন প্রশ্ন থাকলে দয়া করে কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন। সকলের সুস্বাস্থ্য কামণা করে আজকের মত এখানে বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ্ হাফেজ



