যশোর বাংলাদেশের একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী জেলা, যা ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমন্বয়ে সমৃদ্ধ। এ জেলা কেবল দেশের প্রাচীনতম স্থলবন্দর বেনাপোলের জন্যই নয়।
বরং এখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ঐতিহাসিক নিদর্শন, প্রাকৃতিক জলাভূমি, বীরশ্রেষ্ঠের স্মৃতিসৌধ, ফুলের রাজ্য গদখালী এবং কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোর জন্যও বিখ্যাত।
এই জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে প্রকৃতি, ইতিহাস ও কৃষ্টির অপূর্ব সংমিশ্রণ লক্ষ্য করা যায়। ভ্রমণপিপাসুরা এখানে এসে ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ি, মসজিদ, মন্দির, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, নদী, বাওড়
এবং দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান পরিদর্শন করতে পারেন। এছাড়া, ব্যবসা ও বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে যশোরের গুরুত্ব অপরিসীম। যশোরের দর্শনীয় স্থানগুলো যেমনঃ ইতিহাসপ্রেমীদের মুগ্ধ করে,
তেমনি প্রকৃতিপ্রেমী ও গবেষকদেরও আকৃষ্ট করে। এসব স্থান ঘুরে দেখা কেবল আনন্দদায়কই নয়, বরং বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভের সুযোগ করে দেয়।
যশোর জেলার দর্শনীয় স্থান?
নিচে যশোর জেলার দর্শনীয় স্থান তুলে ধরা হলোঃ
১. চৌগাছা উপজেলা
খড়িঞ্চা বাওড়
অবস্থানঃ খড়িঞ্চা গ্রাম, চৌগাছা
যাতায়াতঃ চৌগাছা উপজেলা সদর থেকে ৮ কিমি দূরে, চৌগাছা-পূড়াপাড়া পাকা সড়কের দক্ষিণ পাশে।
২. গদাধরপুর বাওড়
অবস্থানঃ গদাধরপুর গ্রাম, চৌগাছা
যাতায়াতঃ চৌগাছা-মাশিলা সড়কের দক্ষিণ পাশে, চৌগাছা উপজেলা সদর থেকে ৮ কিমি দূরে।
৩. বাঘারপাড়া উপজেলা
কালুডাংগা মন্দির
অবস্থানঃ দোহাকুলা ইউনিয়ন
যাতায়াতঃ বাঘারপাড়া থেকে বালিডাংগা বাজার হয়ে তালতলা যেতে হবে। তালতলা থেকে বামদিকে ৫০০ গজ দূরত্বে অবস্থিত।
৪. তুলা বীজ বর্ধন খামার
অবস্থানঃ জগদীশপুর ইউনিয়ন, চৌগাছা
যাতায়াতঃ উপজেলা সদর থেকে ১০ কিমি দূরে, ভ্যান, রিকশা বা ইজিবাইকে যাওয়া যায়।
৫. ঝিকরগাছা উপজেলা
গদখালীর ফুলের বাগান এবং সবজির ক্ষেত
অবস্থানঃ গদখালী, ঝিকরগাছা
যাতায়াতঃ যশোর শহরের চাঁচড়া থেকে বাসযোগে গদখালী পৌঁছানো যায়।
৬. চাঁচড়া ইউনিয়ন (যশোর সদর)
চাঁচড়া রাজবাড়ী
অবস্থানঃ চাঁচড়া বাজার সংলগ্ন
যাতায়াতঃ চাঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৪ কিমি দূরে, ভ্যান/ইজিবাইক/বাসে যাওয়া যায়।
৭. চাঁচড়ার মৎস্য উৎপাদন কেন্দ্র
অবস্থানঃ চাঁচড়া
যাতায়াতঃ চাঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৩ কিমি দূরে, ভ্যান/ইজিবাইক/বাসে যাওয়া যায়।
৮. মণিরামপুর উপজেলা
দমদম পীরের ডিবি
অবস্থানঃ ভোজগাতী ইউনিয়ন, মণিরামপুর
যাতায়াতঃ ঢাকা-খুলনা জাতীয় মহাসড়ক থেকে যশোর পেরিয়ে রাজারহাট হয়ে সাতক্ষীরা রোডে ৭ কিমি দূরে অবস্থিত।
৯. কেশবপুর উপজেলা
ধীরাজ ভট্টাচার্যের বাড়ি
অবস্থানঃ পাঁজিয়া গ্রাম, কেশবপুর
যাতায়াতঃ কেশবপুর উপজেলা সদর থেকে ৭ কিমি দূরে।
১০. মধুপল্লী
অবস্থানঃ সাগরদাঁড়ি
যাতায়াতঃ যশোর থেকে সাতক্ষীরা রোডে কেশবপুর উপজেলা হয়ে সাগরদাঁড়ি যেতে হয় (প্রায় ৫২ কিমি)।
আরও পড়ুনঃ যশোর জেলার ইতিহাস | যশোর কিসের জন্য বিখ্যাত
১১. মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ি
অবস্থানঃ সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন, কেশবপুর
যাতায়াতঃ যশোর থেকে সাতক্ষীরা রোডে কেশবপুর হয়ে সাগরদাঁড়ি পৌঁছানো যায় (প্রায় ৫২ কিমি)।
১২. মীর্জানগর হাম্মামখানা
অবস্থানঃ ত্রিমোহিনী, কেশবপুর
যাতায়াতঃ কেশবপুর উপজেলা সদর থেকে ৭ কিমি পশ্চিমে, কপোতাক্ষ ও বুড়িভদ্রা নদীর সংযোগস্থলে।
১৩. শার্শা উপজেলা
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের মাজার
অবস্থানঃ ডিহি, শার্শা
যাতায়াতঃ যশোর-বেনাপোল সড়ক ধরে শার্শা উপজেলা হয়ে ডিহি ইউনিয়নে রিকশাযোগে যাওয়া যায়।
১৪. বেনাপোল স্থলবন্দর
অবস্থানঃ বেনাপোল, শার্শা
যাতায়াতঃ যশোর থেকে গাড়ি/বাস/অটোতে শার্শা হয়ে বেনাপোল যাওয়া যায়।
১৫. যশোর সদর
যশোর বোট ক্লাব
অবস্থানঃ যশোর এয়ারপোর্ট সংলগ্ন
যাতায়াতঃ নিউমার্কেট থেকে পালবাড়ি হয়ে সরাসরি অটোরিকশা বা গাড়িতে যাওয়া যায়।
আরও পড়ুনঃ যশোর জেলার পোস্ট কোড
১৬. বিনোদিয়া ফ্যামিলি পার্ক
অবস্থানঃ বোট ক্লাব প্রধান সড়কের বিপরীতে
যাতায়াতঃ পালবাড়ি মোড় থেকে বোট ক্লাবের একই রাস্তায় অবস্থিত।



