ইরান হলো পশ্চিম এশিয়ার একটি দেশ। ইরান দেশটি হরমুজ প্রণালীর নিকটে হওয়ায় সারা বিশ্বে এই দেশটির গুরুত্ব রয়েছে। ইরানের বৃহত্তম নগরী তেহরান দেশটির রাজধানী।
ইরান দেশটির সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক গুরুত্ব বহন করে এই তেহরান শহরটি। এই দেশটি হলো মধ্যপ্রাচ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ এবং পৃথিবীর সপ্তম বৃহত্তম দেশ হিসেবে পরিচিত। অনেকে ইরানে যাওয়ার জন্য ভিসা করতে চাই।
কিন্তু ভিসা করার জন্য কি কি করা লাগে এই বিষয়ে তেমন ধারণা থাকে না। এই পোস্টে ইরান যেতে কি ভিসা লাগবে, ইরান ভিসা প্রসেসিং খরচ সহ গুরুত্বপূর্ণ আরো অনেক তথ্য দেওয়া থাকবে।
ইরান যাওয়ার উপায়। ইরান ভিসা ফর বাংলাদেশী
বাংলাদেশ থেকে ইরানে কয়েক ধরনের ভিসা ব্যবহার করে যাওয়া যায়। তবে আজকের পোস্টে ইরানের টুরিস্ট ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে আলোচনা করা হবে।
প্রথমে আমরা টুরিস্ট ভিসা নিয়ে জানাবো এবং পরবর্তীতে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা।বাংলাদেশ থেকে যদি ইরানে যেতে হয় তাহলে টুরিস্ট ভিসার মাধ্যমে যেতে হবে।
কেননা ইরান অর্থনৈতিক দিক থেকে এখনো তেমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি যে তারা বাইরে থেকে লোক নিয়োগ করে তাদের দেশে বিভিন্ন কাজ করাবে। বাংলাদেশীদের ইরান যাওয়ার জন্য ভিসা করতে হলে কিছু শর্তাদি পালন করা লাগবে।
অর্থাৎ কিছু ডকুমেন্ট বা কাগজপত্র লাগবে যার মাধ্যমে ইরান টুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। নিম্নে ইরান টুরিস্ট ভিসায় যেতে কি কি ডকুমেন্ট লাগে তা উল্লেখ করা হলোঃ
- একটি বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে এবং পাসপোর্টে অবশ্যই ছয় মাসের বেশি মেয়াদ থাকতে হবে।
- তাছাড়া দুইটি পৃষ্ঠা ফাঁকা থাকতে হবে।
- সর্বশেষ ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্টের প্রমাণপত্র লাগবে।
- পাসপোর্ট সাইজের দুই কপি ছবি লাগবে।
- মেডিকেল সার্টিফিকেট লাগবে।
- ইরানে কিসের উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন এবং কতদিন সেখানে থাকবেন তার জন্য একটি লিখিত প্রত্যয়ন পত্র।
তাছাড়া আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লাগতে পারে। কেননা ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া ইরান সরকার বা এম্বাসির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে।
তাই মাঝেমধ্যেই এই সকল প্রক্রিয়াগুলোতে ছোটখাটো পরিবর্তন হয়। যখন ইরান এম্বাসির মাধ্যমে ভিসার জন্য আবেদন করবেন তখন জানিয়ে দেওয়া হবে।
ইরান কাজের ভিসা কিভাবে পাবেন?
বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য ইরানের কাজের ভিসা প্রদান করা হয়ে থাকে। ইরানে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা বা কাজের ভিসায় যেতে হলে অবশ্যই ইরানের কোন প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরির অফার পেতে হবে।
তাছাড়া ইরানি নিয়োগ কর্তা আপনার স্পন্সর হিসেবে কাজ করলে ইরানের শ্রম ও সামাজিক কল্যান মন্ত্রণালয়ে আপনার ভিসার জন্য আবেদন করলে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাবেন।
নিম্নে ইরান কাজের ভিসা পাওয়ার জন্য কি কি ডকুমেন্ট লাগে তা উল্লেখ করা হলোঃ
- বৈধ পাসপোর্ট লাগবে। পাসপোর্টে ছয় মাসের বেশি মেয়াদ থাকা লাগবে।
- চাকরির অফার লেটার পাওয়া লাগবে।
- স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রমাণপত্র লাগবে।
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রয়োজন হবে।
- শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র লাগবে।
আপাতত এই ডকুমেন্টগুলো হলেই ইরানের দূতাবাস বা কনসুলেটের মাধ্যমে ভিসা আবেদন করতে পারবেন। কেউ চাইলে অনলাইনেও ইরানে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
আবেদন জমা দেওয়ার পাঁচ কর্ম দিবসের মধ্যে ইমেইলে একটি কোড আসবে। ওয়ার্ক পারমিট ভিসা প্রসেসিং হতে সাধারণত ১৫ থেকে ২০ কার্যদিবস সময় লেগে থাকে।
ইরান টুরিস্ট ভিসার দাম কত
ইরান টুরিস্ট ভিসা ফি কত টাকা অবশ্যই এটা সম্পর্কে জানতে হবে। বাংলাদেশী নাগরিকরা ইরানে টুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করলে সাধারণত ভিসা ফি ৩০ থেকে ৪০ ইউরো এর মধ্যে নেওয়া হয়ে থাকে। যা বাংলাদেশী টাকা হিসেব করলে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার কাছাকাছি।
ভিসা প্রক্রিয়াকরণ হতে সাধারণত ৫ থেকে ১০ কার্যদিবস সময় লেগে থাকে। তবে জরুরীভাবে টুরিস্ট ভিসা করতে চাইলে খরচের পরিমাণটা কিছুটা বাড়বে।
ইরানে কাজের ভিসায় যেতে কত টাকা লাগে?
ইরানে কাজের ভিসায় যেতে কত টাকা খরচ হয় এটা বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে থাকে। যদি কোন এজেন্সির মাধ্যমে ইরানে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা করে থাকেন তাহলে খরচ দুই লক্ষ্য টাকা লাগবে।
অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে ইরানে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় যাওয়ার আগ পর্যন্ত বিমান ভাড়া সহ মোট দুই লক্ষ টাকা হলে চলে যেতে পারবেন।
ইরান যেতে কত বয়স লাগে
ইরানে যেতে হলে অবশ্যই বয়সসীমার শর্তাদি পূরণ করতে হবে। যাদের বয়স ১৮ বছর তারা পর্যটন ভিসায় গিয়ে ইরানে একাই ভ্রমণ করতে পারবেন। তবে কারো বয়স যদি ১৮ বছরের কম হয়,
তাহলে পিতা মাতা বা অভিভাবকের লিখিত অনুমতিপত্র লাগবে তারপরে ইরান যেতে পারবে। ইরানে কাজের ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিট ভিসার মাধ্যমে যেতে হলে অবশ্যই বয়সসীমা ২১ বছরের বেশি হতে হবে।
২১ বছরের কম বয়স হলে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা ইস্যু করা হয় না। তবে স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে বয়সসীমা ১৮ হলেই হবে।
আরও পড়ুনঃ ব্রুনাই ভিসার দাম কত | ব্রুনাই যেতে কত টাকা লাগে
ইরান যেতে কত টাকা লাগে?
বিমান ভাড়া (Airfare)
বাংলাদেশ থেকে ইরান যাওয়ার জন্য সবচেয়ে বড় খরচ হচ্ছে বিমান ভাড়া। ঢাকা থেকে ইরানের রাজধানী তেহরান বা মাশহাদে সরাসরি কোনো ফ্লাইট না থাকলেও, ট্রানজিট ফ্লাইটের মাধ্যমে যাওয়া যায়।
সাধারণত SalamAir, FlyDubai, Qatar Airways ইত্যাদি এয়ারলাইনের মাধ্যমে ইরান যাওয়া যায়। একমুখী টিকিটের খরচ ৪০,০০০ থেকে ৪৫,০০০ টাকার মতো,
আর রিটার্ন টিকিটের খরচ পড়ে প্রায় ৭৪,০০০ থেকে ৮০,০০০ টাকা। যারা অগ্রিম বুকিং করেন বা অফ-সিজনে ভ্রমণ করেন, তারা কিছুটা সাশ্রয় করতে পারেন।
ভিসার খরচ (Visa Cost)
ইরান ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশি নাগরিকদের অবশ্যই ভিসা নিতে হয়। ইরানি দূতাবাস থেকে ভিসা নেওয়ার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সাবমিট করতে হয়।
ভিসা ফি সাধারণত ২,৫০০ থেকে ৫,০০০ টাকার মধ্যে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দ্রুত প্রসেসিং চাইলে অতিরিক্ত ফি দিতে হয়।
যেহেতু ইরান এখন অন-অ্যারাইভাল ভিসা দেয় না বাংলাদেশিদের জন্য, তাই আগে থেকেই দূতাবাস থেকে অনুমোদন নিতে হয়।
থাকার ও দৈনন্দিন খরচ (Accommodation & Daily Expenses)
ইরানে থাকার জন্য বাজেট হোটেল, গেস্ট হাউস থেকে শুরু করে লাক্সারি হোটেলও পাওয়া যায়। একটি সাধারণ বাজেট হোটেলে প্রতিদিন ১,৫০০ থেকে ২,৫০০ টাকার মধ্যে থাকা যায়।
মাঝারি মানের হোটেল হলে প্রতিদিন ৪,০০০–৬,০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। খাবার, লোকাল ট্রান্সপোর্ট, টিকেটিং বা ঘোরাঘুরির জন্য প্রতিদিন আনুমানিক ৮০০ থেকে ১,৫০০ টাকা লাগে।
একটি সাত দিনের সফরে মোট দৈনন্দিন খরচ দাঁড়াতে পারে ২০,০০০ থেকে ৪৫,০০০ টাকার মধ্যে।
মোট আনুমানিক খরচ (Total Estimated Cost)
ইরান সফরের জন্য বিমানের টিকিট, ভিসা ফি ও থাকা-খাওয়ার মোট ব্যয় ধরলে দেখা যায়, সাত দিনের একটি সাধারণ ভ্রমণের জন্য মোট খরচ হবে আনুমানিক ৯৯,০০০ টাকা থেকে ১,২৪,০০০ টাকা পর্যন্ত।
যদি আপনি লাক্সারি হোটেল, বেশি ঘোরাঘুরি বা শপিং করেন, তবে এই খরচ আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে যাত্রা আগেভাগে বুকিং দিলে বা কম খরচে ট্রাভেল প্ল্যান করলে সামগ্রিক খরচ কিছুটা কমানো সম্ভব।
শেষ কথা
ইরান যেতে কি ভিসা লাগে ও ইরান ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা সম্পর্কে ইতিমধ্যে মোটামুটি ধারণা পেয়ে গিয়েছেন।
তারপরেও যদি ইরান ভিসা সম্পর্কিত কোন বিষয়ে কোন ধরনের প্রশ্ন থাকে বা কোন কিছু বুঝতে অসুবিধা হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। ধন্যবাদ।



