তিস্তা নদী ভারতের সিকিম এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত একটি নদী। তিস্তা নদী সিকিম এবং পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি বিভাগের প্রধান একটো নদী।
সিকিম এবং পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পর বাংলাদেশে প্রবেশ করে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। ৭০২০০ মিটার উচ্চতায় সিকিম হিমালয়ের অবস্থিত চিতামু হ্রদ থেকে এই নদীটি সৃষ্টি হয়েছে।
এ নদীটি দার্জিলিং এ অবস্থিত শিভক গোলা নামে পরিচিত একটি গিরিসঙ্কটের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। দার্জিলিং পাহাড়ে তিস্তা একটি বন্য নদী ও এর উপত্যকা ঘনবনে আচ্ছাদিত।
পার্বত্য এলাকায় এর নিষ্পাশন এলাকার পরিমাণ মাত্র প্রায় ১২,৫০০ বর্গ কিলোমিটার। পার্বত্য এলাকা থেকে প্রথমে প্রবাহটি দার্জিলিং সমভূমিতে নেমে আসে ও পরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দুয়ার সমভূমিতে প্রবেশ করে।
নদীটি নীলফামারী জেলার খড়িবাড়ি সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের মধ্যে প্রবেশ করেছে। আজকের আর্টিকেলে তিস্তা ব্যারেজ কোথায় অবস্থিত, তিস্তা ব্যারেজ কিভাবে যাবেন, কোথায় খাবেন ও কোথায় থাকবেন তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
তিস্তা ব্যারেজ কোথায় অবস্থিত?
তিস্তা ব্যারেজ (Teesta Barrage) বা তিস্তা সেচ প্রকল্প (Teesta Irrigation Project) বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহত্তম সেচ প্রকল্প। তিস্তা নদীর উপর নির্মিত তিস্তা ব্যারেজের এক পাশে রয়েছে লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলাধীন গড্ডিমারী ইউনিয়নের দোয়ানী গ্রাম।
এবং অন্য পাশে রয়েছে নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলাধীন খালিসা চাপানী ইউনিয়নের ডালিয়া নামক স্থান। রংপুর, দিনাজপুর, নিলফামারী এবং বগুড়া জেলার অনাবাদী জমিতে সেচ সুবিধা প্রদানের জন্য ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন সরকার তিস্তা ব্যারেজ তৈরীর পরিকল্পনা গ্রহণ করে।
পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে ৬১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪৪টি রেডিয়াল গেট বিশিষ্ট ব্যারেজের নির্মাণ কাজ শুরু করে, যা ১৯৯০ সালে শেষ হয়। আর এই তিস্তা ব্যারেজের নদীর দুই পাশে গড়ে তোলা হয়েছে সবুজ বেষ্টনি।
এছাড়াও ব্যারেজ এলাকায় রয়েছে বেশ কয়েকটি পিকনিক স্পট। ব্যারেজের কালো পিচের রাস্তা ধরে ছুটে চলা চারপাশের পরিবেশের মন ভোলানো সৌন্দর্য্য, তিস্তা ব্যারেজে আগত দর্শনার্থীদের এক অলৌকিক মায়ায় ফেলে। যা কখনও দর্শনার্থীরা ভুলতে পারবে না।
তিস্তা ব্যারেজ কিভাবে যাবেন?
রাজধানী ঢাকা বা অন্য কোন শহর থেকে তিস্তা ব্যারেজে যেতে চাইলে, আপনার সুবিধা মত নীলফামারী কিংবা লালমনিরহাট জেলায় চলে যান। এরপর লালমনিরহাট বা নীলফামারী থেকে তিস্তা পাড়ে যাওয়ার জন্য অনেক রিক্সা, স্কুটার এবং মোটরসাইকেল ভাড়ায় পাবেন।
প্রথমেই ঢাকা থেকে লালমনিরহাট যাওয়ার জন্য বাস অথবা ট্রেনকে বেছে নিতে পারেন। কমলাপুর রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে শুক্রবার ছাড়া বাকি ছয় দিন, রাত ০৯:৪৫ মিনিটে লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেন যাত্রা করে।
আসন ভেদে ট্রেনের টিকেটের মূল্য পরতে পারে ৫০৫ থেকে ১৭৮১ টাকা পর্যন্ত। এছাড়াও গাবতলী ও কল্যাণপুর থেকে নাবিল পরিবহন, এস আর ট্রাভেলস, মানিক এক্সপ্রেস, বরকত ট্রাভেলস, হানিফ, শাহ্ আলি পরিবহনের বাস লালমনিরহাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
এসি/নন এসি বাসের জনপ্রতি ভাড়া লাগতে পারে ৭৫০ থেকে ১২৫০ টাকা পর্যন্ত। লালমনিরহাট সদর হতে সড়কপথে তিস্তা ব্যারেজ যাওয়ার জন্য অনেক ধরনের যানবাহন রয়েছে।
কোথায় খাবেন?
তিস্তা ব্যারেজের কাছে বেশকিছু খাবার হোটেল বা রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এদের মধ্যে মুহাম্মাদিয়া হোটেল এন্ড রেষ্টুরেন্ট, রাহমানিয়া হোটেল এন্ড ফুড কর্ণার, টাঙ্গাইল মিস্টি ঘর, বিসমিল্লাহ হোটেল এন্ড রেঁস্তোরা, মাতৃ হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট উল্লেখযোগ্য।
কোথায় থাকবেন?
তিস্তা ব্যারেজের পাশে আছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত অবসর রেস্ট হাউজ। যদিও এই রেস্ট হাউজ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয় তবে কতৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে এখানে রাত্রিযাপন করতে পারেন।
এছাড়া রাত্রিযাপনের সুবিধার্থে আপনাকে নীলফামারি বা লালমনিরহাট জেলায় চলে যেতে হবে। এই জেলা দুটোতে অনেক হোটেল রয়েছে থাকার জন্য।
বিঃদ্রঃ
দেশের যেকোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ ও আমাদের দেশের সম্পদ। এই সব স্থানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে নিজে বিরত রাখুন এবং অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন।
দেশ আমাদের, দেশের সব কিছুই আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।



