সুনামগঞ্জ জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বৈচিত্র্যময় জেলা। হাওর, নদ-নদী ও বিস্তীর্ণ জলাভূমির জন্য এ জেলা দেশজুড়ে পরিচিত।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পুরো সুনামগঞ্জ জলরাশিতে রূপ নেয়, যা একে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির অনন্য উদাহরণ হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।
সিলেট বিভাগের অন্তর্গত সুনামগঞ্জ জেলা ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সন্নিকটে অবস্থিত হওয়ায় সীমান্তবর্তী জেলা হিসেবে এর ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
পাথর, বালু, হাওরভিত্তিক মৎস্যসম্পদ এবং ধান উৎপাদনের জন্য এ জেলা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আরও পড়ুনঃ রংপুর জেলার সংসদীয় আসন কয়টি
সুনামগঞ্জ জেলার আয়তন কত?
সুনামগঞ্জ জেলার মোট আয়তন প্রায় ৩,৭৪৭.১৮ বর্গকিমি (১,৪৪৬.৭৯ বর্গমাইল)। আয়তনের দিক থেকে এটি সিলেট বিভাগের অন্যতম বৃহৎ জেলা। জেলার বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে রয়েছে অসংখ্য হাওর, বিল ও নদী।
যার মধ্যে টাঙ্গুয়ার হাওর আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি (Ramsar Site) হিসেবে স্বীকৃত। ভৌগোলিক সীমারেখা অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ জেলার উত্তরে ভারতের মেঘালয় রাজ্য, দক্ষিণে সিলেট জেলা,
পূর্বে সিলেট জেলা ও ভারতের সীমান্ত এবং পশ্চিমে নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জ জেলা অবস্থিত। এই ভৌগোলিক অবস্থান সুনামগঞ্জকে পানি, কৃষি ও সীমান্তবাণিজ্যের ক্ষেত্রে কৌশলগত গুরুত্ব প্রদান করেছে।
শেষ কথা
সব মিলিয়ে বলা যায়, আয়তন ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে সুনামগঞ্জ জেলা বাংলাদেশের একটি ব্যতিক্রমধর্মী ও সম্ভাবনাময় অঞ্চল।
বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল, সীমান্তবর্তী অবস্থান, নদ-নদী নির্ভর জীবনব্যবস্থা এবং কৃষি ও মৎস্যসম্পদ এ জেলার অর্থনীতিকে শক্ত ভিত দিয়েছে।
যথাযথ পানি ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনার মাধ্যমে সুনামগঞ্জ জেলার এই বিশাল আয়তন ও প্রাকৃতিক সম্পদকে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব।



