শরীয়তপুর জেলার ইতিহাস | শরীয়তপুর কিসের জন্য বিখ্যাত

শরীয়তপুর কিসের জন্য বিখ্যাত তা বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আপনার জানা অত্যন্ত জরুরী। আপনি যদি শরীয়তপুর জেলার বিখ্যাত হওয়ার কারণ গুলো জেনে না থাকেন। তবে দুশ্চিন্তা না করে এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পডুন।শরীয়তপুর জেলাকেননা এই আর্টিকেলে আমরা শরীয়তপুর জেলার সম্পর্কে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, বিখ্যাত খাবার ও দর্শনীয় স্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

শরীয়তপুর জেলার ইতিহাস?

১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের ১৫ই ডিসেম্বর পর্যন্ত। শরীয়তপুর জেলাসহ পুরো বাংলাদেশ ছিল ততকালীন পাকিস্তানের অংশ।

আসলে সেই ১৯১২ সাল থেকে শাসনিক সুবিধার্থে মাদারীপুরের পূর্বাঞ্চলে একটি বড় অংশ নিয়ে একটি নতুন মহকুমা গঠনের কথা চলছিলো।

এরপর পাকিস্তান সৃষ্টি হওয়াতে এই নতুন মহাকুমা গঠন করা আরও কিছুটা সহজ হয়ে যায়। এবং স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭৬ সালে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। মাদারীপুরের পূর্বঞ্চল নিয়ে একটি নতুন মহকুমা গঠিত হবে।

ততকালীন বিশিষ্ট সমাজ সংস্কারক ও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা হাজী শরীয়ত উল্লাহর নামানুসারে এর নাম করণ হয় শরীয়তপুর।

এবং এর সদর দপ্তর হিসেবে পালং থানা অঞ্চলকে বিবেচনা করা হয়। ১৯৭৭ সালের ১০ই আগস্ট বাংলাদেশ বেতারে সরকার কর্তৃক মহকুমা গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়।

এবং একই বছরে এ মহকুমার আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করেন ৩রা নভেম্বর তৎকালীন উপদেষ্টা জনাব আবদুল মোমেন খান। প্রথম মহকুমার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আমিনুর রহমান।

৭ই মার্চ ১৯৮৩ সালে রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোঃ এরশাদ সরকার শরীয়তপুর জেলা গঠনের ঘোষণা দেয়। তৎকালীন তথ্য মন্ত্রী জনাব নাজিম উদ্দিন হাশিম ১৯৮৪ সালের ১লা মার্চ শরীয়তপুর জেলার শুভ উদ্বোধন করেন।

শরীয়তপুর জেলার নামকরণ?

শরীয়তপুর জেলার নামকরণ একটি দীর্ঘ আলোচনার বিষয়। শরীয়তপুর জেলার নামকরণ হয়েছে মূলত একজন বিখ্যাত ব্যক্তির নামানুসারে।

বিভিন্ন সূত্র থেকে আমরা জানতে পারছি যে, ততকালীন বিশিষ্ট সমাজ সংস্কারক ও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা হাজী শরীয়ত উল্লাহর নামানুসারে এই অঞ্চলের নাম করণ হয় শরীয়তপুর।

শরীয়তপুর জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত?

শরীয়তপুর পুরো অঞ্চলেই বহু আগে থেকে মৃৎশিল্প এবং পিতলের জিনিসপত্রের জন্য বিখ্যাত। বিশেষ করে শরীয়তপুরের পিতলের বিভিন্ন জিনিসপত্র বেশ আকর্ষণীয় হয়ে থাকে।

এখানকার টেরাকোটা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরণের পটারি ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বের ২০টি দেশে রপ্তানি করা হয়। এছাড়াও এই জেলা কাশা ও পিতলের বিভিন্ন তৈজষপত্র তৈরীর জন্য বিখ্যাত ছিল।

এগুলো ছাড়াও শরীয়তপুর জেলাকে বিখ্যাত করছে এখানকার কিছু দর্শনীয় স্থান। চলুন শরীয়তপুরের কিছু বিখ্যাত দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জেনে আসি।

শরীয়তপুর জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ?

কার্তিকপুর জমিদার বাড়ি

শরীয়তপুর জেলার একটি ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থাপত্য হচ্ছে এই জমিদার বাড়িটি। এটি অত্যন্ত সুন্দর কারুকার্যে দুই তলা বিশিষ্ট্য ভবন। এই জমিদার বাড়িটি নাড়িয়া উপজেলার কার্তিকপুর গ্রামে অবস্থিত।

মডার্ন ফ্যান্টাসি কিংডম

কর্ম জীবনের ক্লান্তিকর পরিবেশ থেকে বের হয়ে একটু প্রশান্তির জন্য নির্মাণ করা হয়ে মডার্ন ফ্যান্টাসি কিংডম। এটি ২০১১ সালে মডার্ন হারবাল গ্রুপের চেয়ারম্যান ড.আলমগীর মতি প্রায় ৫০ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠা করেন।

বুড়ির হাট মসজিদ

শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলায় নির্মান করা হয় এই ঐতিহাসিক বুড়ির হাট জামে মসজিদ। এটি আমাদের দেশের ইসলামী স্থাপত্যকলার এক অন্যতম নিদর্শন।

হাটুরিয়া জমিদার বাড়ি

শরীয়তপুর জেলার অন্যতম এক ঐতিহাসিক নিদর্শন হচ্ছে এই হাটুরিয়া জমিদার বাড়ি। এটি প্রাচীন বা পূর্বে আমাদের দেশে যে জমিদারগণ ছিলেন।

তাদের এ এটি একটি কারুকার্যময় অন্যতম স্থাপত্য শৈলী। যা দেখতে দূর দুরান্ত থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী এখানে প্রতিদিনই ভির জমায়।

ছয়গাঁও জমিদার বাড়ি

শরীয়তপুর জেলার আরেকটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান হচ্ছে ছয়গাঁও জমিদার বাড়ি। এটি অত্যন্ত সুন্দর ও নান্দনিক ডিজাইনের তৈরি একটি ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি। এই জমিদার বাড়িটি ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছয়গাঁও গ্রামে অবস্থিত।

শরীয়তপুর জেলার বিখ্যাত খাবার?

শরীয়তপুরের মিষ্টি

মিষ্টি খেতে কে না ভালবাসে! শরীয়তপুরের একটি আনকমন খাবার হচ্ছে এই মিষ্টি। এই মিষ্টি তৈরি করা হয় দুধ, চিনি আরও বিভিন্ন ধরণের উপকরণ মিশিয়ে। এখানকার সব মিষ্টান্ন ভাণ্ডার আপনারা এই সুস্বাদু মিষ্টি পেয়ে যাবেন।

বিবিখানা পিঠা

শরীয়তপুর জেলার একটি জনপ্রিয় খাবার হচ্ছে বিবিখানা পিঠা। এ জেলার প্রতিটি বাড়িতে অতিথির আগমন, বিয়ে, আড্ডা,অনুষ্ঠানসহ সব ধরণের আয়োজনে এই বিবিখানা পিঠা পরিবেশন করা হয়।

পায়েস

শরীয়তপুর জেলার আরেকটি বিখ্যাত খাবার হচ্ছে পায়েস। এই পায়েস এখানকার এই ঐতিহ্যবাহী খাবার।

এ জেলায় বিয়ে অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে সব ধরণের উৎসবে এই পায়েস পরিবেশ করা হয়। এটি এখন শরীয়তপুরের একটি ট্রেডিশনাল খাবার হয়ে দাড়িয়েছে।

আমের আচার

শরীয়তপুর জেলার জনপ্রিয় একটি খাবার হচ্ছে টক মসলাদার যুক্ত আমের আচার। এ জেলায় আমের মৌসুম আসলেই এই আচার তৈরির ধুম পড়ে যায়। আহ্ কি যে স্বাদ, এই আমের আচারের ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না।

শরীয়তপুর জেলার বিখ্যাত ব্যক্তি?

গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য

শরীয়তপুর জেলার একজন বিখ্যাত ব্যক্তি হচ্ছে এই গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য। তিনি একজন বাঙালি পতঙ্গবিশারদ ও উদ্ভিদবিদ। তিনি বাংলা কীটপতঙ্গ নামক গ্রন্থটি রচনা করেন। এবং জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন।

গোলাম মওলা

গোলাম মওলা ছিলেন একজন বীরশ্রেষ্ঠ ভাষা সৈনিক। প্রতি শুধু শরীয়তপুর জন্য বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত ব্যক্তি। তিনি ১৯৫৬ সালে উপ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের আইন পরিষদের সদস্য ছিলেন।

থীন্দ্রকান্ত ঘটক চৌধুরী

থীন্দ্রকান্ত ঘটক চৌধুরী ছিলেন একজন কবি, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক এবং সমাজসেবক। তিনি ৬৬ বয়সে ১৫ জুন ১৯৮৮ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

আবু ইসহাক

শরীয়তপুর জেলার আরেক জন বিখ্যাত ব্যক্তি হচ্ছেন আবু ইসহাক। তিনি বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে এবং বিদেশে কূটনীতিক পদে দায়িত্ব পালন করেন। তবে তিনি সবচাইতে বেশি পরিচিতি পান একজন বাংলাদেশী লেখক হিসেবে।

শরীয়তপুর জেলার আয়তন কত?

শরীয়তপুর জেলার মোট আয়তন হচ্ছে ১১৮১.৫৩ বর্গ কিলোমিটার। এবং মোট জনসংখ্যা হচ্ছে ১১,৫৫,৮২৪ জন।

শরীয়তপুর জেলার উপজেলা কয়টি?

শরীয়তপুর জেলায় মোট উপজেলা রয়েছে ৬টি। যেমনঃ

  • শরীয়তপুর সদর
  • জাজিরা
  • নড়িয়া
  • ডামুড্যা
  • ভেদরগঞ্জ
  • গোসাইরহাট

শেষ কথা

বাংলাদেশ সৌন্দর্যের এক অপরূপ উদাহরণ। এখানে ৬৪ জেলার মধ্যে সৌন্দর্যের দিক থেকে কোন জেলা এগিয়ে আবার কোন জেলা তুলনামূলক কম জনপ্রিয় রয়েছে।

এসব কিন্তু নির্ভর করে ব্যক্তি মনের চাহিদা এবং সেই জেলার সার্বিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে। এছাড়াও আপনার জ্ঞানকে প্রসারিত করতে রাজবাড়ি জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত এ সম্পর্কে পড়তে পারেন।

শরীয়তপুর জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত তা হয়তো এতক্ষণে স্পষ্টরূপে বুঝে গেছেন। আপনাদের কোন প্রশ্ন থাকলে দয়া করে কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন। সকলের সুস্বাস্থ্য কামণা করে আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ্ হাফেজ

Share Now

This website is mainly created to provide information about travel, travel packages, travel agencies, travel visas, travel Bangladesh, and your travel to Bangladesh. We will always try to give you accurate information.

Leave a Comment