পাটগ্রাম উপজেলা লালমনিরহাট জেলার উত্তরের এক প্রান্তে অবস্থিত একটি সীমান্তবর্তী উপজেলা। এর ভৌগোলিক অবস্থান, প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা অবস্থানের কারণে এটি কৌশলগত ও অর্থনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
তিস্তা নদীর প্রবাহ, নদীভাঙন, চরাঞ্চল ও বিস্তৃত কৃষিজমি এই উপজেলার ইউনিয়নসমূহের জীবনধারা ও অর্থনীতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। পাটগ্রাম উপজেলায় মোট ৮টি ইউনিয়ন রয়েছে।
প্রত্যেকটি ইউনিয়নের রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। সীমান্তবর্তী এলাকা হিসেবে অনেক ইউনিয়নে কাস্টমস, স্থলবন্দর ও বর্ডার হাটের কারণে বাণিজ্যিক কার্যক্রম গড়ে উঠেছে।
বিশেষ করে বুড়িমারী ইউনিয়ন পাটগ্রাম স্থলবন্দরের কারণে বহুল পরিচিত, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। অন্যদিকে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ইউনিয়ন বাংলাদেশের একমাত্র ছিটমহল
(বর্তমানে একীভূত এলাকা) যা তিনবিঘা করিডোরের মাধ্যমে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। এটি রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল।
অধিকাংশ ইউনিয়নে কৃষি প্রধান অর্থনীতি বিদ্যমান, যেখানে ধান, পাট, গম, আলু, ও অন্যান্য ফসল উৎপাদিত হয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে ইউনিয়নগুলোতে
গ্রামীণ উন্নয়নের ছাপ স্পষ্ট। স্থানীয় সরকার কাঠামোর অধীনে ইউনিয়ন পরিষদগুলো জনগণের প্রাত্যহিক চাহিদা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
সার্বিকভাবে, পাটগ্রাম উপজেলার ইউনিয়নসমূহ স্থানীয় উন্নয়ন, সীমান্ত বাণিজ্য এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে লালমনিরহাট জেলার অগ্রগতিতে একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
আরও পড়ুনঃ ঝিনাইদহ জেলার ইতিহাস | ঝিনাইদহ কিসের জন্য বিখ্যাত
পাটগ্রাম উপজেলার ইউনিয়ন সমূহ?
নিচে পাটগ্রাম উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন তুলে ধরা হলোঃ
- কুচলিবাড়ী ইউনিয়ন
- জোংড়া ইউনিয়ন
- বাউরা ইউনিয়ন
- জগতবেড় ইউনিয়ন
- দহগ্রাম ইউনিয়ন
- শ্রীরামপুর ইউনিয়ন
- পাটগ্রাম ইউনিয়ন
- বুড়িমারী ইউনিয়ন



