নাটোর জেলার পূর্বাংশে অবস্থিত গুরুদাসপুর উপজেলা একটি ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও কৃষিনির্ভর জনপদ হিসেবে সুপরিচিত। রাজশাহী বিভাগের অন্তর্ভুক্ত এই উপজেলা প্রধানত বড়াল নদী বিধৌত সমতল
ভূমিতে গঠিত, যা একে করেছে কৃষির জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানকার মানুষ কৃষিকাজ, ব্যবসা, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চর্চায় নিয়োজিত। গুরুদাসপুর উপজেলার গৌরবময় অতীতের অংশ হিসেবে
প্রখ্যাত সাহিত্যিক ইসমাইল হোসেন সিরাজী এবং ঐতিহাসিক চাপড়া হাইস্কুলের নাম উল্লেখযোগ্য, যা এ উপজেলার শিক্ষা ও মননচর্চার ঐতিহ্য বহন করে।
গুরুদাসপুর উপজেলা মোট ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত, প্রতিটি ইউনিয়নই আলাদা ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও সামাজিক সাংস্কৃতিক পরিচয়ে সমৃদ্ধ। এই ইউনিয়নগুলোতে গ্রামীণ অর্থনীতি, শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান,
হাটবাজার এবং পরিবহন ব্যবস্থা স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। খামারহাট ইউনিয়ন কৃষিভিত্তিক জীবনধারার প্রতিচ্ছবি, যেখানে ধান, গম ও সবজিচাষের বিস্তৃত পরিসর রয়েছে।
জয়নগর ইউনিয়ন শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক চর্চায় অগ্রসর, এখানে রয়েছে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা। চাপিলা ইউনিয়ন ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন, যেখানে প্রাচীন স্থাপত্য ও সাহিত্যচর্চার প্রভাব বিদ্যমান।
মাশিন্দা ইউনিয়ন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও লোকজ সংস্কৃতির জন্য পরিচিত। বিয়াঘাট ইউনিয়ন নদীসংলগ্ন এবং জেলেপাড়াসহ মৎস্যজীবী জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।
বানিয়াবাড়ি ইউনিয়ন প্রশাসনিক ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে সচল, যেখানে বিভিন্ন হাটবাজার ও পল্লী উন্নয়ন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। সার্বিকভাবে, গুরুদাসপুর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন এই উপজেলার উন্নয়ন,
সংস্কৃতি ও জীবনধারার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। কৃষি, শিক্ষা ও লোকজ ঐতিহ্যের সংমিশ্রণে গঠিত এই ইউনিয়নসমূহ নাটোর জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
আরও পড়ুনঃ রাজশাহী বিভাগের জেলা সমূহ
গুরুদাসপুর উপজেলার ইউনিয়ন সমূহ?
নিচে গুরুদাসপুর উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন তুলে ধরা হলোঃ
- ধারাবারিষা ইউনিয়ন
- মসিন্দা ইউনিয়ন
- চাপিলা ইউনিয়ন
- নাজিরপুর ইউনিয়ন
- বিয়াঘাট ইউনিয়ন
- খুবজীপুর ইউনিয়ন



