মৌলভীবাজার জেলা বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ জনপদ। মুক্তিযুদ্ধ, রাজনীতি, বিচারব্যবস্থা, সাহিত্য, সমাজ সংস্কার, অর্থনীতি ও ক্রীড়াক্ষেত্রে এই জেলা অসংখ্য কিংবদন্তিতুল্য ব্যক্তিত্ব জন্ম দিয়েছে।
মধ্যযুগের কবি থেকে শুরু করে আধুনিক রাষ্ট্রনায়ক, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সমাজ সংস্কারক ও বিচারপতি সব ক্ষেত্রেই হবিগঞ্জ জেলার অবদান জাতীয় ইতিহাসে অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল।
এই ব্লগে মৌলভীবাজার জেলার সেই সব বিখ্যাত ও গুণী ব্যক্তিত্বদের জীবন ও অবদান সংক্ষেপে কিন্তু তথ্যভিত্তিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যা শিক্ষার্থী, গবেষক, চাকরি পরীক্ষার্থী ও সাধারণ পাঠকদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।
মৌলভীবাজার জেলার বিখ্যাত ব্যক্তি?
নিচে মৌলভীবাজার জেলার বিখ্যাত ব্যক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলোঃ
১. কমরেড তারা মিয়া — কমিউনিস্ট নেতা ও কৃষক আন্দোলনের সংগঠক
কমরেড তারা মিয়া মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার নয়াগাঁও গ্রামে ১৯৩২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন সিলেট অঞ্চলের অন্যতম প্রভাবশালী কমিউনিস্ট নেতা এবং কৃষক আন্দোলনের অগ্রপথিক।
১৯৬৬ সাল থেকে আমৃত্যু তিনি কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, কাওয়াদিঘির হাওর আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, গণভোট
এবং ১৯৫৬ সালে পৃথিমপাশা অঞ্চলের কৃষক বিদ্রোহে তাঁর নেতৃত্ব ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৩৫৯–৬৩ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত তিনি কারাবরণ করেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি দেশের ভেতর থেকেই সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
কৃষক অধিকার, ভূমি সংস্কার ও শোষণবিরোধী রাজনীতিতে তাঁর অবদান মৌলভীবাজারের রাজনৈতিক ইতিহাসে গভীরভাবে প্রোথিত।
২. লীলা দত্ত — স্বাধীনতা আন্দোলনের নারী সংগ্রামী
লীলা দত্ত ১৯২৮ সালে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভূনবীর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের একজন সাহসী নারী যোদ্ধা।
১৯৪২ সালের ভারত ছাড় আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং ১৯৪৩ সালে ব্রিটিশ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে তিনি ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত হয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখেন।
পেশাগত জীবনে তিনি কলকাতার বেহালা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নারী শিক্ষা ও রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। ১৯৮৫ সালের ৬ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
৩. শ্রী জনার্দন — উপমহাদেশের কিংবদন্তি কর্মকার
শ্রী জনার্দন ১৫৭৫ সালে রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন সপ্তদশ শতকের উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কর্মকার ও কামান নির্মাতা।
১৬৩৭ সালে তিনি মুর্শিদাবাদের নবাবের জন্য ‘জাহান কোষ’ নামের একটি বিশাল তোপ নির্মাণ করেন, যা তাঁকে ঐতিহাসিক খ্যাতি এনে দেয়। এছাড়াও তিনি ‘বিবি মরিয়ম’ ও ‘কালে জমজম’ নামক দুটি বিখ্যাত কামান ঢাকায় নির্মাণ করেন।
বর্তমানে ঐতিহাসিক ‘কালে জমজম’ কামান ঢাকার ওসমানী উদ্যানের সামনে সংরক্ষিত রয়েছে। ১৬৪৫ সালে তাঁর মৃত্যু হলেও তাঁর শিল্পকর্ম আজও ইতিহাসের অমূল্য নিদর্শন।
৪. শ্রী সারদাচরণ শ্যাম — চা-শিল্পের পথিকৃৎ উদ্যোক্তা
শ্রী সারদাচরণ শ্যাম ১৮৬২ সালের ২৫ মার্চ রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন সিলেট বিভাগের চা-শিল্পের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ও কর্ণধার।
পেশাগত জীবনে তিনি আইনজীবী ও সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পর্বতপুর ও উত্তরভাগ চা-বাগানের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করেন।
ব্রিটিশ আমলে চা-শিল্প বিকাশে তাঁর অবদান মৌলভীবাজার জেলার শিল্প ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তিনি ১৯১৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
৫. হজরত শাহ মোস্তফা (রঃ) — ধর্মপ্রচারক ও সুফি সাধক
হজরত শাহ মোস্তফা (রঃ) ছিলেন হজরত শাহ জালাল (রঃ) এর অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তাঁর জন্মসাল অজ্ঞাত হলেও জানা যায়, তিনি প্রায় ৭০০ জন অনুসারী নিয়ে এই অঞ্চলে আগমন করেন ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে।
মৌলভীবাজারে বসবাসকালে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং এখানেই তাঁর বংশ বিস্তার ঘটে। লোকমুখে তিনি ‘ঘোড়া সওয়ার চাবুক মার’ নামে পরিচিত ছিলেন।
মৌলভীবাজার শহরে তাঁর নামে সড়কের নামকরণ করা হয়েছে এবং সেখানেই তাঁর মাজার অবস্থিত, যা আজও ধর্মপ্রাণ মানুষের তীর্থস্থান।
৬. সৈয়দ মুজতবা আলী — বাংলা সাহিত্যের বহুভাষাবিদ মনীষী
সৈয়দ মুজতবা আলী ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বাংলা কথাসাহিত্যের এক অনন্য ব্যক্তিত্ব ও বহুভাষাবিদ পণ্ডিত।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে তিনি ১৯৪৯ সালে নরসিংহ দাস পুরস্কার এবং ১৯৬১ সালে সুরেশ চন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর রচিত ২৯টি গ্রন্থের মধ্যে দেশে বিদেশে, চাচা কাহিনী, পঞ্চতন্ত্র
ও ময়ূরকণ্ঠী বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত হন।
৭. সৈয়দ শাহনূর — মধ্যযুগের শক্তিমান কবি
সৈয়দ শাহনূর ১৭৩০ সালে রাজনগর উপজেলার ঘড়গাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মধ্যযুগের একজন খ্যাতিমান কবি ও সাহিত্যস্রষ্টা। ১৮১৯ সালে তিনি ‘নূর নছিহত’ নামক সুবৃহৎ পুথি রচনা করেন, যাতে ৩০২ পৃষ্ঠা, ১০৮টি গান ও ৪১টি ধাঁধাঁ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তাঁর অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রাগনূর ও সাত কন্যার খান উল্লেখযোগ্য। ১৮৫৫ সালে তাঁর মৃত্যু হয় এবং তাঁর মাজার নবীগঞ্জ উপজেলার জালালসাপ গ্রামে অবস্থিত।
৮. কাজী মুহম্মদ আহমদ — সিলেটের প্রথম ইতিহাসবিদ
কাজী মুহম্মদ আহমদ ১৮৩০ সালে মৌলভীবাজার জেলার ধউপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সিলেট বিভাগের প্রথম ইতিহাস লেখক হিসেবে পরিচিত। ১৮৮১ সালে তিনি জেলার কাজী হিসেবে নিযুক্ত হন
এবং আঞ্জুমানে ইসলামিয়া প্রতিষ্ঠা করে সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন। ১৮৮৫ সালে তিনি বাংলা ভাষায় শ্রীহট্ট দর্পণ গ্রন্থ রচনা করেন, যা সিলেট অঞ্চলের ইতিহাসচর্চায় এক মাইলফলক।
৯. আশরাফ হোসেন — লোকসাহিত্য গবেষক ও সাহিত্যরত্ন
আশরাফ হোসেন ১৮৯৯ সালে কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সিলেট বিভাগের লোকসাহিত্যের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে খ্যাত।
তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে সিলহটের ইতিহাস, মনিপুরের লড়াই এবং শাহজালালের কিচ্ছা উল্লেখযোগ্য। তিনি শাহ হাজির আলি ও রাধারমনের মরমী সংগীত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করেন। ১৯৬৫ সালের ২৪ জানুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
১০. দ্বিজেন্দ্র শর্মা — বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিক
দ্বিজেন্দ্র শর্মা ১৯২৯ সালের ৩০ মে মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার শিমলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আধুনিক বাংলা গদ্যের একজন শক্তিমান লেখক ও চিন্তাশীল সাহিত্যিক ছিলেন।
১৯৭৮ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন, যা তাঁর সাহিত্যিক অবদানের স্বীকৃতি। পেশাগত জীবনে তিনি ব্রজমোহন কলেজ
ও নটরডেম কলেজে উদ্ভিদবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাহিত্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান মৌলভীবাজার জেলার গৌরব বৃদ্ধি করেছে।
১১. মাওলানা আব্দুর রহমান সিংকাপনী — খেলাফত আন্দোলনের নেতা ও শিক্ষাবিদ
মাওলানা আব্দুর রহমান সিংকাপনী ১৮৭৮ সালে মৌলভীবাজার জেলার সিংকাপন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত আলেম, বক্তা ও রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তিত্ব।
১৯২০ সালে নাগপুরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত কংগ্রেস ও খেলাফত সম্মেলনে প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯২১ সালের যোগী ডহর সম্মেলনে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
বহু ভাষায় পারদর্শী এই মনীষী লেখালেখি ও বক্তৃতার মাধ্যমে সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করেন। ১৯৬১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি ইন্তেকাল করেন।
১২. সুরেন্দ্র কুমার সিনহা — বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি
সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ১৯৫১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার তিলকপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের বিচার বিভাগে একটি আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ নাম।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৭৪ সালে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৯৯ সালে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি
এবং ২০০৯ সালে আপিল বিভাগের বিচারপতি নিযুক্ত হন। ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি তিনি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০১৭ সালের ১১ নভেম্বর পদত্যাগ করেন।
১৩. গীতেশ রঞ্জন ভট্টাচার্য — কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি
গীতেশ রঞ্জন ভট্টাচার্য ১৯৩৮ সালে মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার হাঁসখলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কলকাতা থেকে বিএল ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বিচারাঙ্গনে তাঁর পেশাগত দক্ষতা, নিরপেক্ষতা ও আইনি প্রজ্ঞা তাঁকে সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছে দেয়। মৌলভীবাজার জেলার বিচারিক ঐতিহ্যে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য।
১৪. সিকন্দর আলী — ঢাকা হাইকোর্টের বিচারপতি
সিকন্দর আলী ১৯০৬ সালে মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার ইনাইনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সিলেট জজ কোর্টে আইন পেশা শুরু করেন এবং ১৯৩৪ সালে ময়মনসিংহে মুন্সেফ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
পরবর্তীতে তিনি ঢাকা হাইকোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন। বিচার বিভাগে দীর্ঘ ও সম্মানজনক কর্মজীবনের পর ১৯৬৬ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
১৫. গৌরী শংকর ভট্টাচার্য তর্কবাগীশ — সিলেট বিভাগের প্রথম সাংবাদিক
গৌরী শংকর ভট্টাচার্য তর্কবাগীশ ১৭৯৯ সালে রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সিলেট বিভাগের প্রথম সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত।
‘জ্ঞানান্বেষণ’ পত্রিকার মাধ্যমে ১৮৩১ সালে সাংবাদিকতা শুরু করেন এবং কলকাতার All Best Newspaper এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে শিশুপাঠ নীতিকথা ও গীতার অনুবাদ উল্লেখযোগ্য। ১৮৫৯ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
১৬. আব্দুল মুন্তাকীম চৌধুরী — মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও কূটনীতিক
আব্দুল মুন্তাকীম চৌধুরী কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন। তিনি ১৯৭০ সালে এমএলএ নির্বাচিত হন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবে ভূমিকা রাখেন।
স্বাধীনতার পর তিনি জাপান ও জার্মানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে তাঁর অবদান মৌলভীবাজার জেলার ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য।
১৭. দেওয়ান আব্দুল হামিদ চৌধুরী — সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী
দেওয়ান আব্দুল হামিদ চৌধুরী ১৮৫০ সালে রাজনগর উপজেলার মনসুরনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ‘খান বাহাদুর’ খেতাব লাভ করেন।
তিনি রাজনগর পোর্টিয়াম স্কুলের জন্য জমিদান করেন এবং আসাম প্রাদেশিক পরিষদের এমএলএ ছিলেন। শিক্ষা বিস্তার ও সামাজিক উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
১৮. আলহাজ্জ কেরামত আলী — শিক্ষানুরাগী রাজনীতিবিদ
আলহাজ্জ কেরামত আলী ১৯০১ সালে ভানুগাছ এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৪৬ সালে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে এমএলএ নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৫ সালে জাতীয় পরিষদের সদস্য হন।
মৌলভীবাজার কলেজ ও শ্রীমঙ্গল কলেজ প্রতিষ্ঠাকালে তিনি উল্লেখযোগ্য অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। শিক্ষা ও রাজনীতির সমন্বয়ে তাঁর অবদান সমাজে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। ১৯৬৯ সালের ৩ জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
১৯. আব্দুল খালিক চৌধুরী — রাজনীতিবিদ ও শিক্ষানুরাগী
আব্দুল খালিক চৌধুরী ১৮৮৬ সালে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার বিজলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সিলেট এম.সি. কলেজের প্রথম মুসলিম ছাত্র হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেন।
১৯২১ থেকে ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত তিনি আসাম প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তিনি মৌলভীবাজার লোকাল বোর্ড এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ছিলেন।
শিক্ষা, স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এই তিন ক্ষেত্রে তাঁর অবদান মৌলভীবাজার জেলার সামাজিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৪৮ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
২০. কাশীনাথ ঘোষ — শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠাতা
কাশীনাথ ঘোষ রাজনগর উপজেলার থলা গ্রামের একজন বিশিষ্ট সমাজচিন্তক ও আইনজীবী ছিলেন। পেশাগত জীবনে তিনি কোর্টের মোক্তার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে আছে ‘মৌলভীবাজার কাশীনাথ স্কুল’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে, যা আজও এই অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্থানীয় সমাজে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে তাঁর এই উদ্যোগ মৌলভীবাজারের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
২১. গগন চন্দ্র সেনগুপ্ত — প্রশাসক ও সমাজহিতৈষী
গগন চন্দ্র সেনগুপ্ত মৌলভীবাজার জেলার বারহাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ব্রিটিশ শাসনামলে তিনি আসাম-বেঙ্গল অঞ্চলে ডিএসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি মৌলভীবাজার হাসপাতালসহ বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রশাসনিক দক্ষতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে তিনি মৌলভীবাজারের সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
২২. সৈয়দ কুদরত উল্লাহ — মৌলভীবাজার জেলার প্রতিষ্ঠাতা
সৈয়দ কুদরত উল্লাহ ১৭৫০ সালে মৌলভীবাজার জেলার গোবিন্দশ্রী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মৌলভীবাজার জেলার প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত।
১৭৯৩ সালে তিনি মুন্সেফ হিসেবে নিযুক্ত হন এবং মৌলভীবাজারের পশ্চিম বাজার স্থাপন করেন। প্রশাসনিক দূরদর্শিতা ও নগর উন্নয়নের মাধ্যমে
তিনি মৌলভীবাজারকে একটি সংগঠিত জনপদে রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর মৃত্যুসাল নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
২৩. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ — স্কাউট আন্দোলনের সংগঠক
আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মমরোজপুর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন। তিনি মৌলভীবাজার জেলায় স্কাউট আন্দোলনের একজন বলিষ্ঠ সংগঠক হিসেবে পরিচিত।
১৯৬৩ সালে তিনি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রেফারি হিসেবে ক্রীড়া পরিচালনায় যুক্ত হন। তিনি মৌলভীবাজার বিএমএ এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন
এবং বাংলাদেশে বয় স্কাউট আন্দোলনে লিডার ট্রেনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তরুণদের চরিত্র গঠন ও নেতৃত্ব বিকাশে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২৪. ড. সুরেন্দ্র নাথ ধর — বিজ্ঞানী ও প্রশাসক
ড. সুরেন্দ্র নাথ ধর ১৮৯০ সালে মৌলভীবাজার জেলার বাউরভাগ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সিলেট বিভাগের প্রথম ডিএসপি এবং একই সঙ্গে একজন বৈজ্ঞানিক গবেষক ছিলেন।
১৯১৫ সালে তিনি আসাম সরকারের গবেষণা বৃত্তি লাভ করেন। পরবর্তীতে ১৯২০ সালে মাদ্রাজ কলেজে অধ্যাপনা ও গবেষণার কাজে নিয়োজিত হন।
প্রশাসন ও বিজ্ঞান দুই ক্ষেত্রেই তাঁর অবদান মৌলভীবাজার জেলার জন্য গর্বের বিষয়। ১৯২৩ সালের ৯ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
২৫. শশাংক শেখর ঘোষ — বিপ্লবী ও শ্রমিক আন্দোলনের নেতা
শশাংক শেখর ঘোষ বাংলা ১৩২১ সালের ২২ আশ্বিন রাজনগর উপজেলার খলাগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এবং দেশ বিভাগের আগে রেলওয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন।
১৯৪২ সালের ভারত ছাড় আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি কংগ্রেস ও পরে কমিউনিস্ট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি সূর্য সেনের অন্যতম সহযোগী ছিলেন।
তাঁর স্মরণে ২০১৮ সালে ‘শশাংক শেখর ঘোষ স্মৃতি সংসদ, মৌলভীবাজার’ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮৯ সালের ৯ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
২৬. দেওয়ান আব্দুল হামিদ — শিক্ষাবিস্তারের অগ্রদূত
দেওয়ান আব্দুল হামিদ মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর অঞ্চলে সমাজসেবক হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। তিনি রাজনগর এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে জমি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
সমাজ উন্নয়ন ও শিক্ষাবিস্তারে তাঁর অবদান তাঁকে স্থানীয় ইতিহাসে স্থায়ী আসনে অধিষ্ঠিত করেছে।
২৭. গৌরী শংকর ভট্টাচার্য — সাংবাদিকতার পথিকৃৎ
গৌরী শংকর ভট্টাচার্য মৌলভীবাজার অঞ্চলের সাংবাদিকতা ইতিহাসে অগ্রগণ্য নাম। তিনি ঔপনিবেশিক আমলে সংবাদপত্র সম্পাদনা
ও প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত থেকে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর লেখালেখি ও সম্পাদনাকর্ম বাংলা সাংবাদিকতার প্রাথমিক ভিত্তি নির্মাণে সহায়ক হয়।
২৮. আব্দুল মুন্তাকীম চৌধুরী — মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও কূটনীতিক
আব্দুল মুন্তাকীম চৌধুরী কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর গ্রামের একজন বিশিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠক ছিলেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তিনি এমএলএ নির্বাচিত হন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সংগঠক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
স্বাধীনতার পর তিনি জাপান ও জার্মানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরেন। রাজনীতি ও কূটনীতিতে তাঁর সমন্বিত ভূমিকা মৌলভীবাজার জেলার ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য।
২৯. গীতেশ রঞ্জন ভট্টাচার্য — বিচার বিভাগে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিত্ব
গীতেশ রঞ্জন ভট্টাচার্য মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার হাঁসখলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কলকাতা থেকে বিএল ডিগ্রি অর্জন করে দীর্ঘদিন কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন।
বিচারিক প্রজ্ঞা, ন্যায়নিষ্ঠা ও পেশাগত সততার জন্য তিনি ভারতীয় বিচার অঙ্গনেও সম্মানিত ছিলেন। মৌলভীবাজার জেলার বিচার বিভাগীয় ঐতিহ্যে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য।
৩০. সিকন্দর আলী — প্রখ্যাত বিচারপতি
সিকন্দর আলী ১৯০৬ সালে বড়লেখা উপজেলার ইনাইনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সিলেট জজ কোর্টে আইন পেশা শুরু করেন এবং ১৯৩৪ সালে মুন্সেফ হিসেবে বিচার বিভাগে যোগ দেন।
পরবর্তীতে তিনি ঢাকা হাইকোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও বিচার ব্যবস্থার উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা মৌলভীবাজার জেলার গর্ব হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৯৬৬ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
৩১. দেওয়ান আব্দুল হামিদ চৌধুরী — সমাজসেবক ও শিক্ষাবিদ
দেওয়ান আব্দুল হামিদ চৌধুরী ১৮৫০ সালে রাজনগর উপজেলার মনসুরনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক ‘খান বাহাদুর’ খেতাবে ভূষিত হন।
তিনি রাজনগর পোর্টিয়াম স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য জমি দান করেন এবং আসাম প্রাদেশিক পরিষদের এমএলএ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে তাঁর অবদান আজও স্মরণীয়।
৩২. আলহাজ্জ কেরামত আলী — জনকল্যাণমুখী রাজনীতিবিদ
আলহাজ্জ কেরামত আলী ১৯০১ সালে ভানুগাছ এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৪৬ সালে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে এমএলএ নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৫ সালে জাতীয় পরিষদের সদস্য হন।
মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গল কলেজ প্রতিষ্ঠায় তাঁর আর্থিক সহায়তা শিক্ষা ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তিনি রাজনীতি ও শিক্ষাবিস্তারের সমন্বয় ঘটিয়ে সমাজে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রাখেন।
৩৩. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ — স্কাউট আন্দোলনের পথিকৃৎ
আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মমরোজপুর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন। তিনি জেলায় স্কাউট আন্দোলনের প্রধান সংগঠকদের একজন। ১৯৬৩ সালে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রেফারি হিসেবে ক্রীড়া পরিচালনায় যুক্ত হন
এবং বাংলাদেশ বয় স্কাউটস এর লিডার ট্রেনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তরুণ সমাজ গঠন ও নেতৃত্ব বিকাশে তাঁর অবদান মৌলভীবাজার জেলার জন্য গর্বের।
৩৪. ড. সুরেন্দ্র নাথ ধর — বিজ্ঞানী ও প্রশাসক
ড. সুরেন্দ্র নাথ ধর ১৮৯০ সালে মৌলভীবাজার জেলার বাউরভাগ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সিলেট বিভাগের প্রথম ডিএসপি এবং একই সঙ্গে একজন বৈজ্ঞানিক গবেষক ছিলেন।
১৯১৫ সালে আসাম সরকারের গবেষণা বৃত্তি লাভ করেন এবং পরবর্তীতে মাদ্রাজ কলেজে অধ্যাপনা ও গবেষণায় যুক্ত হন। বিজ্ঞান ও প্রশাসনের যুগপৎ অবদানের জন্য তিনি বিশেষভাবে স্মরণীয়।
৩৫. শশাংক শেখর ঘোষ — বিপ্লবী ও শ্রমিক নেতা
শশাংক শেখর ঘোষ রাজনগর উপজেলার খলাগাঁও গ্রামের সন্তান। তিনি চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এবং রেলওয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা ছিলেন।
১৯৪২ সালের ভারত ছাড় আন্দোলন, কমিউনিস্ট আন্দোলন ও ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। সূর্য সেনের সহযোগী হিসেবে তাঁর নাম ইতিহাসে স্মরণীয়। ১৯৮৯ সালের ৯ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
৩৬. কাশীনাথ ঘোষ — শিক্ষাপৃষ্ঠপোষক
কাশীনাথ ঘোষ রাজনগর উপজেলার থলা গ্রামের একজন কোর্ট মোক্তার ও সমাজহিতৈষী ছিলেন। তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত ‘মৌলভীবাজার কাশীনাথ স্কুল’ আজও শিক্ষাবিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে তাঁর অবদান মৌলভীবাজার জেলার সামাজিক ইতিহাসে স্থায়ীভাবে স্থান করে নিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ঢাকা জেলার বিখ্যাত খাবার
FAQs:
১. মৌলভীবাজার জেলা কেন বিখ্যাত?
মৌলভীবাজার জেলা শিক্ষা, রাজনীতি, প্রশাসন, মুক্তিযুদ্ধ, সাহিত্য ও সমাজসেবায় অসংখ্য গুণী ব্যক্তিত্ব জন্ম দিয়েছে। পাশাপাশি এটি চা-বাগান, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্যও সুপরিচিত।
২. মৌলভীবাজার জেলার প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
ঐতিহাসিকভাবে মৌলভীবাজার জেলার প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সৈয়দ কুদরত উল্লাহ-এর নাম উল্লেখ করা হয়। তিনি প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে মৌলভীবাজার গড়ে তোলায় অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।
৩. মৌলভীবাজারের কোন ব্যক্তি ব্রিটিশ আমলে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন?
ব্রিটিশ আমলে আব্দুল খালিক চৌধুরী, গগন চন্দ্র সেনগুপ্ত ও ড. সুরেন্দ্র নাথ ধর প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
৪. মৌলভীবাজারের কোন কোন ব্যক্তি বিচার বিভাগে খ্যাতি অর্জন করেন?
সিকন্দর আলী (ঢাকা হাইকোর্ট) এবং গীতেশ রঞ্জন ভট্টাচার্য (কলকাতা হাইকোর্ট) বিচার বিভাগে উচ্চ মর্যাদাপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে খ্যাতি অর্জন করেন।
৫. মৌলভীবাজার জেলার শিক্ষাবিস্তারে কারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন?
কাশীনাথ ঘোষ, দেওয়ান আব্দুল হামিদ চৌধুরী ও আলহাজ্জ কেরামত আলী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও অর্থ সহায়তার মাধ্যমে শিক্ষাবিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
৬. মৌলভীবাজারের কোন ব্যক্তি মুক্তিযুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন?
আব্দুল মুন্তাকীম চৌধুরী মহান মুক্তিযুদ্ধে সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং স্বাধীনতার পর কূটনীতিক হিসেবেও দেশের সেবা করেন।
৭. মৌলভীবাজারে স্কাউট আন্দোলনের অগ্রদূত কে ছিলেন?
আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ মৌলভীবাজার জেলায় স্কাউট আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও প্রশিক্ষক ছিলেন।
৮. মৌলভীবাজারের কোন ব্যক্তি শ্রমিক ও বিপ্লবী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?
শশাংক শেখর ঘোষ চা-শ্রমিক ও রেলওয়ে শ্রমিক আন্দোলনের নেতা ছিলেন এবং ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
৯. মৌলভীবাজার জেলার ইতিহাসে ‘খান বাহাদুর’ উপাধিপ্রাপ্ত কে ছিলেন?
দেওয়ান আব্দুল হামিদ চৌধুরী সমাজসেবা ও শিক্ষাবিস্তারে অবদানের জন্য ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক ‘খান বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত হন।
১০. মৌলভীবাজার জেলার কোন ব্যক্তি কূটনীতিক হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত?
আব্দুল মুন্তাকীম চৌধুরী জাপান ও জার্মানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১১. মৌলভীবাজার জেলার ইতিহাস কেন নতুন প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
কারণ এই জেলার ব্যক্তিত্বরা শিক্ষা, ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও সমাজ সংস্কারে যে অবদান রেখেছেন, তা নতুন প্রজন্মকে নেতৃত্ব, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে।
১২. মৌলভীবাজার জেলার বিখ্যাত ব্যক্তিদের নিয়ে ব্লগ কেন জনপ্রিয়?
স্থানীয় ইতিহাস, গৌরব ও অনুপ্রেরণামূলক জীবনী থাকায় এই বিষয়টি শিক্ষার্থী, গবেষক ও সাধারণ পাঠকের কাছে অত্যন্ত আগ্রহের।
১৩. মৌলভীবাজার জেলার ইতিহাসভিত্তিক কনটেন্ট কোথায় কাজে লাগে?
স্কুল-কলেজের অ্যাসাইনমেন্ট, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, ব্লগ, ওয়েবসাইট, উইকিপিডিয়া গবেষণা ও স্থানীয় ইতিহাস সংরক্ষণে এটি ব্যবহৃত হয়।
১৪. ভবিষ্যতে কি আরও নতুন নাম এই তালিকায় যোগ হতে পারে?
হ্যাঁ। গবেষণা ও নতুন তথ্য আবিষ্কারের মাধ্যমে মৌলভীবাজার জেলার আরও অনেক গুণী ব্যক্তিত্বকে এই তালিকায় যুক্ত করা সম্ভব।
১৫. মৌলভীবাজার জেলার বিখ্যাত ব্যক্তিদের তালিকা কেন সংরক্ষণ করা জরুরি?
এটি জেলার ঐতিহ্য রক্ষা, ইতিহাস সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করে।
শেষ কথা
প্রতিটি জেলা কেবল ভৌগোলিক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সেই জেলার মানুষই তার প্রকৃত গৌরব। রাজনীতি, শিক্ষা, সাহিত্য, ধর্ম, সংস্কৃতি কিংবা মুক্তিযুদ্ধ সব ক্ষেত্রে যাঁরা নিজেদের শ্রম, মেধা
ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে জাতি ও সমাজকে সমৃদ্ধ করেছেন, তাঁরা আমাদের ইতিহাসের অমূল্য অংশ। এই লেখার উদ্দেশ্য সেইসব গুণী মানুষদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং জেলার ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করা।
Disclaimer
এই লেখায় উল্লিখিত তথ্যসমূহ বিভিন্ন উন্মুক্ত ও বিশ্বাসযোগ্য উৎসের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। তথ্যের সীমাবদ্ধতা, উৎসভেদে মতপার্থক্য বা অনিচ্ছাকৃত ত্রুটির কারণে কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভিন্ন হতে পারে।
কারো প্রতি অসম্মান বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করাই এই লেখার উদ্দেশ্য নয়। এটি সম্পূর্ণরূপে তথ্যভিত্তিক ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত।



