বরগুনা জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি উপকূলীয় ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা। বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী হওয়ায় এই জেলার ভৌগোলিক অবস্থান যেমন বিশেষ, তেমনি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য,
নদ-নদী ও সামুদ্রিক পরিবেশ একে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। পায়রা, বিষখালী, বলেশ্বর ও হরিণঘাটা নদীবেষ্টিত বরগুনা জেলা মৎস্য, কৃষি এবং উপকূলীয় অর্থনীতির জন্য ব্যাপকভাবে পরিচিত।
বরিশাল বিভাগের অন্তর্গত বরগুনা জেলা সমুদ্রঘেঁষা হওয়ায় দেশের সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ, নৌ-যোগাযোগ এবং উপকূলীয় বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
জলবায়ু পরিবর্তন, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি থাকলেও এই জেলার কৌশলগত গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ সিরাজগঞ্জ জেলার সংসদীয় আসন কয়টি
বরগুনা জেলার আয়তন কত?
বরগুনা জেলার মোট আয়তন প্রায় ১,৮৩১.৩১ বর্গকিমি (৭০৭.০৭ বর্গমাইল)। এই জেলার উত্তরে বরিশাল জেলা ও ঝালকাঠি জেলা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে পটুয়াখালী জেলা এবং পশ্চিমে পিরোজপুর জেলা ও বঙ্গোপসাগর অবস্থিত।
উপকূলবর্তী বিস্তৃত এলাকা, নদী-খাল ও চরাঞ্চল নিয়ে গঠিত হওয়ায় বরগুনা জেলার ভৌগোলিক কাঠামো বৈচিত্র্যময়। এখানকার বিস্তীর্ণ জলাভূমি ও উপকূলীয় অঞ্চল মৎস্য উৎপাদন, লবণাক্ত সহনশীল কৃষি এবং সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
শেষ কথা
সব মিলিয়ে বলা যায়, বরগুনা জেলা আয়তন ও ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় অঞ্চল। সমুদ্রসংলগ্ন অবস্থান, প্রাকৃতিক নদ-নদী, মৎস্যসম্পদ এবং কৃষিনির্ভর জীবনব্যবস্থা এই জেলাকে বিশেষ বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।
সঠিক পরিকল্পনা, উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন এবং টেকসই অর্থনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে বরগুনা জেলার প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব।



