জামালপুর জেলার ইতিহাস | জামালপুর কিসের জন্য বিখ্যাত

জামালপুর কিসের জন্য বিখ্যাত তা বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আপনার জানা অত্যন্ত জরুরী। আপনি যদি জামালপুর জেলার বিখ্যাত হওয়ার কারণ গুলো জেনে না থাকেন।জামালপুর জেলাতবে দুশ্চিন্তা না করে এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পডুন। কেননা এই আর্টিকেলে আমরা জামালপুর জেলা সম্পর্কে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, বিখ্যাত খাবার ও দর্শনীয় স্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

জামালপুর জেলার ইতিহাস?

জামালপুর বিভাগের চারটি জেলার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলা হচ্ছে জামালপুর। জামালপুর হচ্ছে ময়মনসিংহ বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। জামালপুর জেলার পূর্ব নাম হল সিংহজানি।

হযরত শাহজামাল রহমাতুল্লাহি আলাই এর আগমনের ফলে এই অঞ্চলের নাম সিংহজানি থেকে হয় জামালপুর। মুক্তিযুদ্ধের সময় জামালপুর ছিল ১১ নম্বর সেক্টরের অধীনে।

জামালপুর জেলার উত্তরে ব্রহ্মপুত্র এবং শেরপুর জেলা, দক্ষিন টাঙ্গাইল জেলা এবং মধুপুরের গড় অবস্থিত। এই জেলার পূর্বপাশে ময়মনসিংহ জেলা এবং পশ্চিমে যমুনা নদী এবং গাইবান্ধা জেলাটি অবস্থিত।

জামালপুর কিসের জন্য বিখ্যাত?

জামালপুর জেলা মূলত বুড়ি মা দোকানের রসমালাই ছানার পোলাও ও ছানার পায়েস এবং পিঠালি বা মিল্লির জন্য খুবই বিখ্যাত। শুধু তাই নয় এ জেলা হস্ত শিল্পের জন্যও বিখ্যাত।

বকশীগঞ্জ উপজেলার শেখ হাসিনা নকশী পল্লি ও দেশের সব থেকে বড় সার কারখানা (যমুনা) জামালপুর কে বিখ্যাত করে তুলেছে। কৃষি প্রধান এ অঞ্চলে মূলত প্রধান ফসলের মধ্যে ধান, পাট ও সরিষা বীজ অন্যতম।

মরিচ, চিনাবাদাম, এবং গম প্রচুর পরিমাণে চাষ হয় এই জেলায়। ভারত থেকে আমদানিকৃত সকল পণ্য ও রপ্তানির অন্যতম প্রধান কেন্দ্রস্থল হলো এই জামালপুর জেলায়।

জামালপুর জেলার দর্শনীয় স্থান সমূহ?

জামালপুর জেলায় বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান রয়েছে দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে হযরত শাহজামাল রহমাতুল্লাহি আলাই এর মাজার শরীফ, লাউচাপড়া, বানুয়া কামালপুর ক্যাম্প, লুইস ভিলেজ পার্ক এন্ড রিসোর্ট এবং গান্ধী আশ্রম অন্যতম।

জামালপুর সদর থানার ফৌজদারি এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদীর বুকে গড়ে উঠেছে এক নতুন দর্শনীয় স্থান। প্রতিদিন হাজার হাজার মর্যটক এই ফৌজদারী এলাকার বালুর সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। এগুলো ছাড়াও জামালপুরের আরও কিছু দর্শনীয় স্থানের মধ্যে যেমনঃ

কাসার তৈজসপত্র

জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার কাসার তৈরি আসবাবপত্র গুলো পুরো দেশের মানুষের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কাসার তৈরি আসবাবপত্র গুলো সবাই পছন্দ করে থাকে।

হযরত শাহ জামাল (রহঃ) মাজার

জামালপুর সদর উপজেলার জেনারেল হসপিটাল এর ঠিক পাশে পাথালিয়া এরিয়াতে অবস্থিত সুফি সাধক হযরত শাহ জামাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি তার নামে মাজার শরিফ।

১৫৮৬ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে হযরত শাহ জামাল (রহঃ) ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্য ইয়েমেন থেকে এই অঞ্চলে।

যমুনা সার কারখানা

জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দি এলাকায় রয়েছে আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সার কারখানা। এখানে থেকেই দেশে সারের বেশিরভাগ চাহিদা পূরণ করে থাকে।

গান্ধী আশ্রম

গান্ধী আশ্রম জামালপুর এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বহন করে থাকে। এটি জামালপুর সদর উপজেলার কাপাসহাটিয়া এলাকায় অবস্থিত।

মালঞ্চ মসজিদ

মেলান্দহ উপজেলায় মালঞ্চ শিশু ও চক্ষু হাস্পাতাল কমপ্লেক্সে এই সুন্দর মসজিদটি অবস্থিত। এটি দেশের সুন্দর মসজিদ গুলো মধ্যে একটি।

দেওয়ানগঞ্জ চিনি কল

দেওয়ানগঞ্জ চিনি কল দেশের অন্যতম একটি বড় চিনি কল। এটি দেশের চিনির চাহিদা পূরণে সবচেয়ে বড় চিনি কল হিসাবে ধরা হয়।

জামালপুর জেলার বিখ্যাত খাবার?

জামালপুরের মানুষ অনেক ভোজন প্রিয়। এ জেলার রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস ঐতিহ্য ও নিজস্ব রন্ধন প্রণালী। জামালপুরের তৈরি পিঠা পায়েস এবং ছানার পায়েসের পাশাপাশি এখানকার ঐতিহ্যবাহী একটি খাবার হল মিল্লী-ভাত বা পিঠালি।

যা স্থানীয় ভাষায় মেন্দা নামেও পরিচিত। এ জেলার জামাই মেলার জামাই পিঠা ও অনেক জনপ্রিয়। ঐতিহ্যবাহী এই খাবারটি শুধুমাত্র জামালপুর জেলাতে পাওয়া যায়।

যদিও কালের পরিক্রমায় এই খাবারটি সারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি মৃত মানুষের চল্লিশা বা মিলাদ মাহফিলে প্রধানতম খাবার হিসেবে পরিচিত।

জামালপুর জেলার বিখ্যাত ব্যক্তি?

জামালপুর জেলার বিখ্যাত ব্যক্তি দের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন মির্জা আজম জিনি সাবেক সংসদ সদস্য। এছাড়াও মেজর জেনারেল খালেদ মোশারফ, বিএনপি সাবেক মহাসচিব আব্দুস সালাম তালুকদার, শহীদ আমানুল্লাহ কবির, সৈয়দ সদরুজ্জামান হেলাল, মোঃ নুরুল ইসলাম অন্যতম।

এছাড়াও রয়েছেন মিজানুর রহমান খান, বশির আহমেদ মতিউর রহমান এরা বীর প্রতীক হিসেবে স্বীকৃত প্রাপ্ত এদেরকে জামালপুর জেলার বিখ্যাত ব্যক্তি বলা হয়ে থাকে।

জামালপুর জেলার দশ জন বিখ্যাত ব্যক্তি?

  • মির্জা আজম চৌধুরী তিনি সাবেক সংসদ সদস্য।
  • ফারুক চৌধুরী সাবেক সংসদ সদস্য।
  • আনোয়ার হোসেন তিনি বাংলা নাটকের মুকুট বিহীন সম্রাট নামে পরিচিত।
  • ডঃ আতিউর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর।
  • নজরুল ইসলাম বাবু তিনি বিখ্যাত গীতিকার ও শিল্পী।
  • মরহুম আব্দুল করিম সাবেক স্পিকার।
  • মরহুম অ্যাডভোকেট আনোয়ারুজ্জামান যিনি একটা ভাষা সৈনিক।
  • নাট্যকার আমজাদ হোসেন।
  • নাট্যকার গিয়াস উদ্দিন মাস্টার।
  • আব্দুল্লাহ আল মামুন যিনি প্রয়াত নাট্য ব্যক্তিত্ব।

জামালপুর জেলার আয়তন কত?

জামালপুর জেলার মোট আয়তন হচ্ছে ২০৩১.৯৮ বর্গ কিলোমিটার। এবং মোট জনসংখ্যা ২৩,৮৪,৮১০ জন। এছাড়াও জামালপুর জেলায় মোট ৫৮৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

৩৪৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও পাঁচটি সরকারি কলেজ আছে। ৩১টি বেসরকারি কলেজ, ১৮০টি মাদ্রাসা, ১৬টি ভোকেশনাল স্কুল সহ দুইটি হোমিওপ্যাথিক কলেজ এর পাশাপাশি একটি ফিসারিজ কলেজ রয়েছে।

জামালপুর জেলার উপজেলা কয়টি?

জামালপুর জেলায় মোট উপজেলা রয়েছে ৭টি। যেমনঃ

  • জামালপুর সদর
  • বকশীগঞ্জ
  • মাদারগঞ্জ
  • মেলান্দহ
  • ইসলামপুর
  • দেওয়ানগঞ্জ
  • এবং সরিষাবারি উপজেলা।

শেষ কথা

বাংলাদেশ সৌন্দর্যের এক অপরূপ উদাহরণ। এখানে ৬৪ জেলার মধ্যে সৌন্দর্যের দিক থেকে কোন জেলা এগিয়ে আবার কোন জেলা তুলনামূলক কম জনপ্রিয় রয়েছে।

এসব কিন্তু নির্ভর করে ব্যক্তি মনের চাহিদা এবং সেই জেলার সার্বিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে। এছাড়াও আপনার জ্ঞানকে প্রসারিত করতে নেত্রকোনা কিসের জন্য বিখ্যাত এ সম্পর্কে পড়তে পারেন।

জামালপুর জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত তা হয়তো এতক্ষণে স্পষ্টরূপে বুঝে গেছেন। আপনাদের কোন প্রশ্ন থাকলে দয়া করে কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন। সকলের সুস্বাস্থ্য কামণা করে আজকের মত এখানে বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ্ হাফেজ

Share Now

This website is mainly created to provide information about travel, travel packages, travel agencies, travel visas, travel Bangladesh, and your travel to Bangladesh. We will always try to give you accurate information.

Leave a Comment