খুলনা বিভাগ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত। এবং এটি দেশের তৃতীয় বৃহত্তম প্রশাসনিক বিভাগ। এ বিভাগের মোট আয়তন ২২,২৮৫.১৪ বর্গকিলোমিটার।
এবং জনসংখ্যা প্রায় ১.৭ কোটি (২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী)। খুলনা বিভাগে ১০টি জেলা, ৫৯টি উপজেলা, ৫৫টি পৌরসভা এবং ২৭০টি ইউনিয়ন রয়েছে।
খুলনা বিভাগের জেলা সমূহ কয়টি?
বাংলাদেশের খুলনা বিভাগে মোট ১০টি জেলা রয়েছে। জেলার তালিকা নিচে দেওয়া হলোঃ
- খুলনা
- যশোর
- সাতক্ষীরা
- বাগেরহাট
- ঝিনাইদহ
- মাগুরা
- নড়াইল
- চুয়াডাঙ্গা
- মেহেরপুর
- কুষ্টিয়া
খুলনা বিভাগের ১০টি জেলা এবং তাদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতিঃ
১. খুলনা জেলা
- বিভাগীয় শহর খুলনা এই জেলার অন্তর্ভুক্ত।
- বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন এখানে অবস্থিত।
- প্রধান শিল্প চিংড়ি চাষ, বস্ত্র ও জাহাজ নির্মাণ।
আরও পড়ুনঃ খুলনা জেলার ইতিহাস | খুলনা কিসের জন্য বিখ্যাত
২. যশোর জেলা
- এটি বাংলাদেশের প্রাচীনতম জেলা (১৭৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত)।
- দেশের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর যশোর বিমানবন্দর এখানে অবস্থিত।
- যশোরের খেজুরের গুড় বিখ্যাত।
৩. সাতক্ষীরা জেলা
- সুন্দরবনের পশ্চিম অংশ এই জেলায় অবস্থিত।
- প্রধান শিল্প চিংড়ি চাষ ও মৎস্য ব্যবসা।
- ভারতের সাথে বেনাপোলের পর ভোমরা স্থলবন্দর অন্যতম প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র।
৪. বাগেরহাট জেলা
- এটি বিশ্ব ঐতিহ্যস্থল “ষাট গম্বুজ মসজিদ” এর জন্য বিখ্যাত।
- সুন্দরবনের অংশ এখানে রয়েছে।
- প্রধান অর্থনীতি চিংড়ি চাষ, কৃষি ও পর্যটন।
৫. ঝিনাইদহ জেলা
- এটি কৃষি নির্ভর জেলা, প্রধান ফসল: ধান, পাট ও আখ।
- এখানে শিশু সাহিত্যিক সুকুমার রায়ের জন্মস্থান অবস্থিত।
- মুক্তিযুদ্ধে এই জেলার বড় অবদান ছিল।
আরও পড়ুনঃ খুলনা জেলার থানা সমূহ
৬. মাগুরা জেলা
- এটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- এখানকার প্রধান অর্থনৈতিক খাত কৃষি, বিশেষ করে পাট চাষ।
- বাংলাদেশের অন্যতম সেরা অ্যাথলেটিকস প্রশিক্ষক কাজী সালাউদ্দিন এখানকার বাসিন্দা।
৭. নড়াইল জেলা
- বাংলাদেশের কিংবদন্তি ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা এই জেলার গর্ব।
- এটি নদের জন্য পরিচিত, বিশেষত চিত্রা নদী।
- কৃষি ও মৎস্য খাত এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৮. চুয়াডাঙ্গা জেলা
- এটি বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- এখানকার প্রধান কৃষিজাত পণ্য আম, লিচু এবং সবজি।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় চুয়াডাঙ্গা ছিল বাংলাদেশের প্রথম মুক্ত জেলা।
৯. মেহেরপুর জেলা
- এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট জেলা (৭১৬ বর্গকিমি)।
- বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার মুজিবনগর সরকার ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে এখানে শপথ গ্রহণ করে।
- কৃষি ও আমের জন্য বিখ্যাত।
১০. কুষ্টিয়া জেলা
- এখানে বাউল সম্রাট লালন শাহ এর মাজার অবস্থিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি, যা তাঁর সাহিত্যকর্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- প্রধান শিল্প পাট, চিনি কল এবং তাঁতশিল্প।
আরও পড়ুনঃ খুলনা জেলার বিখ্যাত খাবার
খুলনা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ?
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি।
বন্দর ও বাণিজ্য
মোংলা সমুদ্রবন্দর ও বেনাপোল স্থলবন্দর দেশের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্য কেন্দ্র।
প্রাকৃতিক সম্পদ
সুন্দরবন, পশুর নদী, রূপসা নদী।
শিল্প ও কৃষি
চিংড়ি চাষ, তাঁতশিল্প, বস্ত্রশিল্প, ধান ও পাট চাষ।
পর্যটন স্থান
ষাট গম্বুজ মসজিদ, সুন্দরবন, লালন শাহ মাজার, কুঠিবাড়ি, মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ।
শেষ কথা
খুলনা বিভাগ তার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল।



